ধূমকেতু প্রতিবেদক,পোরশা : ইন্টারনেট সেবার সকল সরঞ্জামসহ সংযোগ রয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। ২০২৫সালের বিভিন্ন সময় “দৃক আইসিটি” নামক একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান উপজেলার ৮৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সেবার কাজ শুরু করেন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংযোগও দেওয়া হয়েছে কিন্তু গত ১০মাস সেবাটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যালয় গুলির ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন দাপ্তরিক যোগাযোগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এতে নিজনিজ মোবাইলের ডাটা ব্যাবহার করছে। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয় বাড়তি টাকা খরচ করে স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় নওগাঁর পোরশা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সংযোগ দেওয়ার পর কিছুদিন স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে তা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বর্তমান অবস্থায় ইন্টারনেট সেবা একেবারেই বন্ধ রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, বর্তমান সময় বিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনলাইন নির্ভর। ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু না থাকায় দাপ্তরিক যোগাযোগ সহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দাপ্তরিক বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা গ্রহণসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রইচ উদ্দিন জানান, ইন্টারনেট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিলাশিতা নয় এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় গুলিতে সংযোগ থাকলেও প্রায় ১০মাস ধরে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর ফলে একরকম বাধ্য হয়েই অনেক প্রতিষ্ঠানে নতুন করে স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে দাপ্তরিক কাজ করছে। উপজেলার সেমানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রইচ উদ্দিন বলেন, ২০২৫সালে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ সহজ ও দ্রুত হচ্ছিল। কিন্তু বিগত ১০মাস থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ের নেট ভিত্তিক কার্যক্রম চালাতে মারাত্বক অসুবিধা হচ্ছে।
এ ধরনের অভিযোগ করেছেন কাতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আসফাকুল আসেকিন, লেলেঙ্গাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মাজহারুল হকসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকগণ। নিতপুর দিয়াড়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের নেট ভিত্তিক বিভিন্ন কাজ ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা পাঠানোর প্রয়োজন হলেও বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ব্যক্তিগত মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে সে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
শিক্ষকরা বলছেন, প্রতিদিন বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য আদান-প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা গ্রহণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে দ্রুত ইন্টারনেটসেবা চালু করার দাবি জানান। এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও রাকিবুল ইসলাম জানান, “দৃক আইসিটি” নামে একটি সংস্থা এ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছিল কিন্তু তাদের কিছু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠিয়েছি । এব্যাপারে কতৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি আশা করছেন। #


