IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ২২ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন শনিবারসৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার দাবিআরব বিমানবন্দরে হামলায় ২ প্রবাসী বাংলাদেশি আহতরাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিনুর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল‘সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ’দেশে ডেঙ্গুতে দিনে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫১২৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না কংগ্রেসসিরাজগঞ্জে নিরাপদ সড়ক গড়তে চালকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে’সর্বোচ্চ বিপজ্জনক’ অবস্থায় হরমুজ প্রণালিগোদাগাড়ীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ আতঙ্কে পৌরবাসী,পরীক্ষা অনুপাতে বাড়ছে পজিটিভের হারতাইওয়ানে ২২৭ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পিরাজশাহী থেকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলো ঢাকায়‘‘গুপ্ত’ দল ও পতিত আ. লীগ যৌথভাবে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে’
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> লোকসানে বদলগাছীর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়িরা

লবনের দাম বৃদ্ধি

লোকসানে বদলগাছীর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়িরা

ধূমকেতু প্রতিবেদক, বদলগাছী : ঈদ পরবর্তী সময়ে উত্তরের জেলা নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়তে চামড়া বেচাকেনা জমে উঠেছে। ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে ৩০-৫০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতি পিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। তবে বাজারে লবনের দাম বেশি থাকায় এবং চামড়ার দাম কম হওয়ায় লোকসান গুনছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়িরা।

ব্যবসায়িদের অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। চামড়া শিল্পকে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল চামড়া আড়ৎ। যেখানে সপ্তাহে প্রতি বুধবার হাটবার। ভোরের আলো ফোটার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এই আড়ৎ এ চামড়া বেঁচা-কেনা। জেলায় দুইটি চামড়া আড়ৎ রয়েছে একটি বদলগাছী উপজেলার চাকরাইল এবং অপরটি মান্দার উপজেলার ফেরিঘাট। চাকরাইল আড়তে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পার্শবর্তী জয়পুরহাট জেলা ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা এবং ঢাকা থেকে ব্যবসায়িরা চামড়া কেনা-বেঁচার জন্য আসেন। ঈদ পরবর্তী সময়ে উত্তরের জেলার এ চামড়া আড়তে চামড়া বেঁচা-কেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে ঢাকার ব্যবসায়িরা না আসায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি ব্যবসায়িরা। এ আড়তে ছাগল-ভেড়ার চামড়া প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং গরু-মহিষের চামড়া প্রতিপিস ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের তথ্যমতে, জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন চামড়া ব্যবসায়ি আছে। এরমধ্যে বড় ব্যবসায়ি ২৫ জন। গত ২০১৫ সাল থেকে ঢাকার ১৫টি ট্যানারি মালিকদের কাছে এই ২৫ জন ব্যবসায়ির প্রায় ১০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া টাকা পাওয়া গেলে আবারও ব্যবসায়িরা ঘুরে দাঁড়াবে। এ বছর জেলায় গরু ও মহিষের চামড়া ৬৫ হাজার পিস এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১ লাখ পিস কেনা হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

ব্যবসায়িরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে চামড়া ব্যবসায় ধস নেমেছে। গত বছর প্রতি বস্তা লবন ৮০০ টাকায় কিনলেও এবার ১ হাজার ৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এছাড়া বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি। কাঁচা চামড়া লবনজাত করে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি না হওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়িদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বদলগাছী উপজেলার ভরট্ট গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ি সুদেব বলেন, এবছর প্রতিপিস খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা হিসেবে ১৫০ পিস কিনেছি। নিজের পারিশ্রমিক ছাড়াই প্রতিপিসে খরচ পড়েছে ২০ টাকা করে। হাটে নিয়ে বিক্রি করতে আসার পর ব্যবসায়িরা দাম হাকছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা।

পাহাড়পুর গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ি কৃষ্ণ বলেন, ১০ থেকে ২০ টাকা দামে ছাগলের চামড়া ১০০ পিস কিনেছি। প্রতিপিসে ২-৩ টাকা লাভ হয়েছে। এ লাভ দিয়ে তো আর সংসার চলবে না।

সাপাহার উপজেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ি জিতেন বলেন, এবছর এক বস্তা লবন ১ হাজার ৫০ টাকা টাকা দামে কিনতে হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৮০০ টাকা। প্রায় ৬০০ পিস চামড়া দেড় লাখ টাকায় কিনেছি। দাম কম হওয়ায় প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে আমরা এক সময় হারিয়ে যাবো। চামড়া শিল্পকে রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

জয়পুরহাট জেলা থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ি সুজাউল ইসলাম বলেন, সরকার যে নির্ধারিত দাম বেঁধে দিয়েছে সে দামে আমরা চামড়া বিক্রি করতে পারছিনা। এ হাটে চামড়ার দাম কম। আমাদেরও কম দামে বিক্রি করতে হবে। গত ২০০৪ সাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে ৮ লাখ টাকা পাওনা আছি। এ বছর এক টাকাও পাইনি। ধার-দেনা করে কিছু টাকা সংগ্রহ করেছি। ঢাকায় বিক্রি করতে গেলে বাঁকী দিয়ে বিক্রি করতে হবে। তারা ১৫ দিনে টাকা পরিশোধের কথা বলে বছর পেরিয়ে যাবে তারপরও দিবেনা।

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সহ সভাপতি ও চাকরাইল চামড়া আড়তের আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলায় দুইটি চামড়ার আড়ৎ রয়েছে। তার মধ্যে একটি চাকরাইল আড়ৎ। ঈদ পরবর্তী এ আড়তে গরুর চামড়ার সরবরাহ কম হলেও ছাগলের চামড়ার সরবরাহ হয়েছে বেশি। ঢাকার ব্যবসায়িরা না আসায় চামড়ার দাম তুলনামূলক কম। এ আড়তে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা বেচাকেনা হয়েছে। তবে বছরের অন্য সময়ে প্রতি হাটে প্রায় ৫০ হাজার টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়। তবে এ বছর লবনের দামের কারণে ব্যবসায়িদের বেহাল অবস্থা।

নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, এ বছর জেলায় গরু ও মহিষের চামড়া ৬৫ হাজার পিস এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ১ লাখ পিস লবনজাত হয়েছে। বতর্মানে লবনের দাম উর্ধ্বমূখী। গত বছর লবন ১৫ টাকা ৯০ পয়সা কেজিতে কিনলেও এবছর ২১ টাকা কেজি। জেলায় প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন লবনের প্রয়োজন হয়। বড় আকারের একটি চামড়া প্রস্তুত করতে লবন ও শ্রমিক দিয়ে প্রায় ২৫০ টাকা খরচ পড়ে। এতে করে কাঁচা চামড়ার দাম কম দেখা যায়। তখন আমাদের দোষারোপ করা হয়। আসলে কাঁচা চামড়ার দাম কম না।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে মজুরি বেশি। তারপরও চামড়া ফেলে না দিয়ে লবন দিয়ে রাখা হচ্ছে। অন্তত চামড়া নষ্ট না হলে লবনের দামটা উঠে আসবে। কোরবানির সময় লবনের দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930