ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।’
আজ শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একটি জাতির জন্য এ সময় নেহাত কম নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ সেই জায়গায় যেতে পারেনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পাকিস্তান আমলে পাকিস্তানিরা শোষণ ও ব্যবসা করলেও স্বাধীনতার পর তাদের মালিকানাধীন সম্পদ রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে আসে। আদমজী জুট মিলকে একসময় বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান বলা হতো। কিন্তু এখন আদমজীর নাম-নিশানা মুছে গেছে। স্বাধীনতার পর অনেক কিছু লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শিল্পপার্ক করা হলেও আদমজীর আগের গৌরব ফিরে আসেনি।
তিনি বলেন, ‘আমি এজন্য পাকিস্তানি বেনিয়া ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছি না। আমি আমাদের মানসিকতা এবং বাস্তবতার উদাহরণ দিচ্ছি।’
জামায়াত আমির বলেন, দেশে কিছু শিল্প স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। শিল্পের মূল শক্তি হচ্ছে বিদ্যুৎ। তেল, গ্যাস ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশ মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে।
এর আগে তিনি একই গ্রামের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। পরে স্থানীয় মাদ্রাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট তিনি মারা যান।
জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদ্রাসা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। মানিকপোটল গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান হাত নেড়ে উপস্থিত মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি সার্কিট হাউস থেকে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হন।



