ধূমকেতু প্রতিবেদক, পুঠিয়া : মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু—– ভুপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানটি শিশু সমাপ্তিকে দেখে তা মনে পড়ে গেলো। সহানুভুতি আর সহযোগিতাই এখন সমাপ্তির সুস্থ্য ভাবে বেঁচে থাকার একমাত্র আশার আলো। তার পুরো নাম কুমারী সমাপ্তি দাস।
বর্তমানে তার বয়স ৯ বছর। তবে জন্মের পর থেকে সে আর দশটা শিশুর মত সুস্থ্য স্বাভাবিক ভাবে জন্ম গ্রহণ করেননি। হরমন জনিত সমস্যাসহ নানা জটিল রোগ বাসা বেধেছে তার ছোট শরীরে। সকল কথা বলতে না পারলেও পরিবারের সবাইকে চেনে এবং নাম ডাক হাঁক দিতে পারে।
সমাপ্তির বাবার নাম বিজয় চন্দ্র দাস। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার বেড়ামারা এলাকায়। তবে বাবা তার মাকে ছেড়ে দেয়ায় তাদের ঠাঁই হয় নানা মঙ্গল চন্দ্র দাসের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামের ঋষিপাড়ায়।
সমাপ্তির মা মুন্নি রানী দাস বলেন, মেয়ে অসুস্থ্য হয়ে জন্মেছে তাই স্বামী সন্তানসহ আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর থেকে এই অসুস্থ্য মেয়েকে নিয়ে একা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে আছি। অর্থ সংকটের কারণে তার সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছি না।
ডাক্তার বলেছেন, সঠিক নিয়মে চিকিৎসা করাতে পারলে সমাপ্তি এখনো সুস্থ্য হতে পারে। এদিকে বাবা মার অভাবের সংসারে পড়ে আছি। তাদের পক্ষে আমার মেয়ের চিকিৎসা করানোর মত টাকা নেই। তাই কেও যদি আমাদের এই সময় সহযোগিতার নিয়ে পাশে দাঁড়ায় তবে আমার মেয়েটা সমাজের আর ১০টি বাচ্চারমত স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকবে।
নানী ভারতী রানী দাস বলেন, প্রায় একযুগ আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় সমাপ্তি জন্ম গ্রহণ করে। তবে হার্ডে পানি জমা ও নিউমনিয়া নিয়ে সে জন্মেছে। সমাপ্তির এই অস্বাভিক শারীরিক অবস্থা দেখে তার বাবা চরম নাখোশ হয়। কয়েকদিন না যেতেই সমাপ্তি ও তার মাকে (আমার মেয়ে) আমাদের বাড়িতে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর আর তাদের খোঁজ নেয়নি। লোকমুখে শুনেছি আমার মেয়েকে ছেড়ে দিয়েছে। সে জামাই গত কয়েক বছর আগে আরেকটি বিয়ে করে সংসার করছে।
ভারতী রানী আরও বলেন, আগে বাড়িওলা (তার স্বামী) বাস চালক ছিল। একটি দুর্ঘটনার পর থেকে আর কাজ করতে পারে না। এখন মেয়ে ও একমাত্র অসুন্থ্য নাতনীকে নিয়ে অনেক কস্টে দিন যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে সমাপ্তির ওষুধপত্র কিনতে মানুষের দুয়ারে হাত পাততে হয়।
এবিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, শিশু সমাপ্তির পরিবারটি খুবই অসহায়। আমরা ইতিমধ্যে সরকারি যে সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে সে গুলো তার পরিবারকে দেয়া হচ্ছে। তবে তার চিকিৎসা ব্যায় অনেক বেশী। তার পরিবারের পক্ষে এই অর্থ যোগান দেয়ারমত অবস্থা নেই। তাই তার সঠিক চিকিৎসার নিশ্চিত করার জন্য সমাজের সমর্থবানরা সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে আহবান করছি।
এ বিষয়ে ল্যাবএইড কাডিয়াক হাসপাতালের শিশু ইন্টারডেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার নুরনাহার ফাতেমা বলেন, সমাপ্তির বয়স ৯ বছর। তার শারীরিক অবস্থা সুস্থ্য বাচ্ছাদেরমত নয়। আমরা এই শিশুটিকে প্রাথমিক ভাবে দেখেছি। তার কিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে বলা হয়েছে। তার পরিক্ষার ওই প্রতিবেদন আসলে বলা যাবে সে ঠিক কি রোগে আক্রান্ত। সে মোতাবেক তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন হবে।


