IMG-LOGO

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৯ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
তানোরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আনসার প্লাটুন কমান্ডারের তাল বীজ রোপণপ্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের তারিখ জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিররায়গঞ্জের হাটপাঙ্গাসীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমাবেশবাঘায় বন্যার্তদের পাশে আনসার ভিডিপি,বিতরণ করা হলো খাদ্য ও ওষুধসিরাজগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার রোধে সেমিনারছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব, ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল তারা আসলে আপন বোনসাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার ও তদন্ত চেয়ে আবেদনপ্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠান স্নেহনীড় পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসকনিহত সেনাসদস্য রিফাতের পরিবারের পাশে এমপি মিলনব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত আবুল বাশার বাঁচতে চান, প্রয়োজন ২০-২৫ লাখ টাকাতারাগঞ্জে রংপুর- সৈয়দপুর মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় মহিলার মৃত্যুরাজশাহী মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশফরিদা পারভীনের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠানসৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের হামলানিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীকে ডিও লেটার প্রদান
Home >> টপ নিউজ >> শিক্ষা >> অবৈধ নিয়োগে স্বাক্ষর নিতে প্রধান শিক্ষক অপহরণ, এলাকায় তোলপাড়

অবৈধ নিয়োগে স্বাক্ষর নিতে প্রধান শিক্ষক অপহরণ, এলাকায় তোলপাড়

ধূমকেতু প্রতিবেদক,বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছীতে এক টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট এর প্রধান শিক্ষককে অপহরণ করে জোরপূর্বক অবৈধ নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বামনপাড়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এর সুপারিনটেনডেন্ট মো. হুমায়ুন রেজা খানকে অপহরণ করে বাসায় নিয়ে গিয়ে তিন কর্মচারীর নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি বশির উদ্দিন ও তার ছেলে বুলেট সহ আরো আট-দশ জন ব্যক্তি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুপারিন্টেন্ডেন্ট গত বৃহস্পতিবার রাতে বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই সাথে মৌখিক ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহীনঅফিসার (ইউএনও) কেও বিষয়টি অবগত করেছেন।

সোমবার ১৩ অক্টোবর দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বামনপাড়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট হুমায়ুন রেজা খান গত বৃহস্পতিবার ৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। উপজেলার সন্ন্যাসতলা এলাকায় পৌঁছামাত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি বশির উদ্দিন এবং তার ছেলে মো. বুলেট হোসেন, ও এলাকার মো. হাবিব হোসেনসহ আরও ৮ থেকে ১০ জন মিলে তার পথ রোধ করে তাকে জোরপূর্বক অটোচার্জার গাড়িতে তুলে জয়পুরহাট সদরে সবুজনগড় এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের তিনজন কর্মচারীর নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করে রেলস্টেশন এলাকায় তাকে ছেড়ে দিয়ে যায়।
এ ঘটনায় অত্র প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী মোস্তফা বলেন, ওই তিন জন মাঝে মাঝে স্কুলে আসতো। তারা নিয়োগ পেয়েছে বললেও কোনোদিন নিয়োগ পত্র দেখায়নি। এছাড়া কখনও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি।

মাঝে মাঝে আসতো বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক আতিকুর রহমান ও এনামুল হক সহ একাধিক শিক্ষকরা। তারা জানান, আমরাও শুনতাম। কিন্তু কখনও নিয়োগ পত্র দেখাননি বা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি।

ভুক্তভোগী হুমায়ুন রেজা খান বলেন, আমি গত ২০২২ সালে এই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করি। তখন সভাপতি ছিলেন বশির উদ্দিন। যোগদানের পর তার কাছে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাগজ চাইলেও তিনি কখনও বুঝে দেননি। এরপর তিনি একক ক্ষমতা বলে গত ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এবং নিয়োগ বোর্ডও গঠন করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে তাদের নিয়োগ দেওয়া যায়নি।
এরইমধ্যে আমাকে অপহরণ করে নৈশ্য প্রহরী বাধন হোসেন, আয়া পদে ফারজানা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে জালাল হোসেনের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রসহ এমপিওভুক্ত করতে যে যে কাগজপত্র প্রয়োজন হয় তাতে আমাকে মারধর করে জোর করে স্বাক্ষর করে নেয়। এরপর তারা আমাকে রাত ৭ টার দিকে ছেড়ে দেয়। ঘটনাটি আমার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি ও সহকর্মীদের জানিয়েছি এবং ওইদিন রাতেই আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকারি ভাবে সম্পন্ন হবে। সেই জন্য হয়তোবা তারা ওই তিন জনকে বৈধতা দিতে আমাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করে নিয়েছে। এই ঘটনার আমি বিচার চাই। বর্তমানে আমি আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।

নৈশ প্রহরী পদের বাঁধন হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“অপহরণের বিষয়ে কিছু জানি না। আমার বেতন হয়নি, এই জন্য সপ্তাহের পাঁচ দিনের মধ্যে একদিন স্কুলে যাই। আর অন্যান্য দিনে অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। তবে ২০২৪ সালে আমার নিয়োগ হয়েছে। আজকে কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই সপ্তাহে আমি স্কুলে যাই নি। গোপালপুর বাজারে আছি।

স্থানীয় পলাশ হোসেন সহ কয়েকজন বলেন,“ এই ঘটনাটি শুধু একটি স্কুল নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষাকে বাণিজ্যিক স্বার্থের জালে ফেলা বন্ধ না করলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে।”

এবিষয়ে জানতে পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি বশির উদ্দিনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে,মুঠোফোন রিসিভ করেন নি। তবে তার ছেলে বুলেটের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“ অপহরণের ঘটনাটি সত্য নয়,পরে সংযোগটি কেটে দেয়।এরপর বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার মুঠোফোনটি কেটে দেয়।”

বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,“ অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তদন্ত চলমান আছে। তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত যতটুকু জেনেছি নিয়োগ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ঝামেলা চলছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন,“ আমি বিষয়টি শুনেছি। গত বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ছুটিতে ছিলাম। আজকে থেকে অফিস করছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031