ধূমকেতু প্রতিবেদক,চারঘাট : আওয়ামী লীগকে আবার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ জনগণ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। দলটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার৪শ জনের বেশি এবং আমাদের হিসাব অনুযায়ী ২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে দলটি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে কখন আসতে চাইছে বা চাইছে না, তা নিয়ে সরকার মোটেও বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যে-ই আসুক না কেন, আইন অনুযায়ী তাকে হেফাজতে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা আগের চাইতে ভালো দাবি করে তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকার সফলভাবে কাজ করছে। তবে দুই-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
নাটোরে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত এমপির ছেলেকেউ গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায় আইন সবার জন্য সমান।অপরাধ করলে সে কে কোন দলের সেটা মুখ্য নয়। অপরাধীকে আইনের আওয়াতায় আসতেই হবে। অপরাধ করে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (২০০৬ ব্যাচ)-এর ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহহমদ।
তিনি বলেন, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই পুলিশকে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে আইনি সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁরা দেশসেবার পেশায় যোগ দিয়েছেন। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা থেকে বিরত থাকতে হবে। পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে সাধারণ চাকরি হিসেবে না দেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে নিতে হবে।
বর্তমান সময়ে অপরাধ দমনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদক, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে পুলিশকে। এসব অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তদন্ত, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিকের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব ও পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজে মন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। এবারের কুচকাওয়াজে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচ থেকে বেস্ট সার্জেন্ট হয়েছেন মোহা. ওমর ফারুক, বেস্ট একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার মোহা. আসাদুজ্জামান।
অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচ থেকে বেস্ট ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বেস্ট একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শ্যুটার মো. কামাল গনি।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের ৫জন নারীসহ ১৬২ জন। সর্ব মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।



