ধূমকেতু প্রতিবেদক,সিরাজগঞ্জ : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশীয় বৃক্ষের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসককে ২০ প্রজাতির প্রায় ১০০টি দেশীয় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা উপহার দিয়েছেন দুইবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিবেশকর্মী মাহবুবুল ইসলাম পলাশ এ উপহার দেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালের দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ, পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা, সিরাজগঞ্জের আয়োজনে ও তত্ত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান এর প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সবুজ প্রাঙ্গণ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময়ে তিনি সিরাজগঞ্জের পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, বিনামূল্যে চারা বিতরণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে আসছেন তিনি। উপহার হিসেবে দেওয়া ২০ প্রজাতির বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে—তুন, চন্দুল, টালি, পদউক, ধূপ, উড়িআম, বৈলাম, মোচ, তমাল, মাল্লাম, ঝুমকোবাধি, গজন, বান্দরহোলা, ভেলা, নাগলিঙ্গম, চম্পা, সিভিট, বুদ্ধনারিকেল, বট ও মুসকন্দা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মামুন খান, স্মার্ট ট্যুরিজমের পরিচালক আসলাম উদ্দিন, মেসার্স একতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম মমিন অলিব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।মাহবুবুল ইসলাম পলাশ বলেন, দেশীয় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পরিবেশসচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এসব বৃক্ষের সংরক্ষণ ও বিস্তার আরও জোরদার করা সম্ভব তিনি আরও মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে বিরল ও দেশীয় বৃক্ষ রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে প্রকৃতির প্রতি সচেতন করে তোলার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালার প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণে আগ্রহ বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে। মূল বার্তা: আমি প্রকৃতির চোখে পৃথিবী দেখি—বিরল ও দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণ করি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করি।


