ধূমকেতু প্রতিবেদক : বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘদিন পর এই ঐতিহাসিক দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের সুযোগ পাওয়াকে জাতীয় ঐক্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। রোববার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি মিলন বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিলো। দিবসটির সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ এই ঐতিহাসিক দিবস যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান বিকৃত করার নানা অপচেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “৭ নভেম্বর, ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্ভোগ কাটিয়ে দেশের মানুষ আজ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবার বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হচ্ছে, এ জন্য দেশের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।”
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান দেশের মানুষের সামনে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা তুলে ধরেছিলেন। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব অনিয়ম ও সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সেই ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে এমপি মিলন বলেন, “সংসদে এক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বাইরে গিয়ে ভিন্ন কথা বলা দ্বিমুখী নীতির পরিচয়। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা। সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সরকারের মেয়াদের আরও চার বছর তিন মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাহিদাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং তারা গণতন্ত্রের চর্চায় বিশ্বাসী। আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ ভোট দিয়ে অন্য কোনো দলকে নির্বাচিত করলে, বিএনপি বিরোধী দলের আসনে বসতেও প্রস্তুত রয়েছে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা হুমকি বরদাশত করা হবে না।” দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক। নওহাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটারের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্যসচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মুকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ এবং রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি।
এছাড়াও সভায় কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, কাটাখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ মামুন এবং কাটাখালী ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



