ধূমকেতু প্রতিবেদক : সমাজসেবা অধিদপ্তরকে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সহায়তাকরন এবং শহরের দূরবর্তী এলাকার জনসাধারণের কাছে সামাজিক পরিষেবাগুলোর তথ্য প্রচার করতে ও সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা এবং অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে মোবাইল আউটরীচ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে কারিতাস বাংলাদেশ। রাজশাহী নগরীর সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে নিয়ে কিক অফ এ্যান্ড প্ল্যানিং শিরোনামে একটি কর্মশালার আয়োজন করে কারিতাস বাংলাদেশ।
সোমবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০ টায় নগরীর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর ইউএমআইএমসিসি প্রজেক্ট এ্যাডভাইজার, মনিটরিং এন্ড টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর আক্তারুজ্জামান রানা বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় দূরবর্তী অঞ্চলের সবাই সেবা সম্পর্কে জানতে পারছে কিন্তু সেবা গ্রহণে বিভিন্ন সময় তারা আসেনা। সে সকল মানুষের মাঝে তথ্য ও সেবা নিয়ে হাজির হবে কারিতাস।
রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন বলেন, এটি চমৎকার একটি আয়োজন বলে আমি মনে করি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে আমাদের সেবাসমূহ পৌঁছায় না, তবে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা আমাদের সেবাসমূহ পৌঁছে দিতে পারবো।
শবনম শিরিন আরও বলেন, পুষ্টি বিষয়ক একটি কার্যক্রম আছে যা গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রযোজ্য।
রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুন্নাহার খাতুন বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ও দরিদ্র পরিবারের জনগণের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ট্রেনিং দিয়ে থাকে যুব উন্নয়ন। এছাড়া আরও স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ট্রেনিং ও প্রদান করে থাকেন তারা।
রাসিকের এক কর্মকর্তা নাজমা খাতুন বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধণ খুবই জরুরী। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে ১৮ ধরনের সেবা নিশ্চিত হবে এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধণ না করলে নানান সমস্যার সম্মুখীন হবে সাধারন মানুষ বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, প্রতিটি কাজে জনপ্রতিনিধিদের সাথে কাজের সম্বন্বয় ঠিক রাখার আহ্বান জানান। কারিতাস মাঠ পর্যায়ে কাজ করে থাকে সেজন্য ধন্যবাদ ও জ্ঞাপন করেছেন সুমন।
পরে ১৯,২০,২১ জোন কাউন্সিলর সুলতানা আহমেদ সাগরিকা বলেন, ১৯ নং ওয়ার্ড অনেক বড়, এখানে কাজ করা প্রয়োজন, এখানে সকল শ্রেনি পেশার মানুষ বসবাস করেন। ১৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যেন সকল সুযোগ সুবিধা পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান তিনি।
এসময় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হাসিনা মমতাজ বলেন, কারিতাস বাংলাদেশ মোবাইল আউটরীচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে তা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে অনেক উপকার হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা বিভিন্ন কারনবশত নিজ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসেন তারা সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত হয় অজ্ঞতাবশত,এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেসব মানুষও উপকারভোগী হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও ভিক্ষুকদেরকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিরুৎসাহিত করতে ও তাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করতে আহ্বান জানান। এবং সামাজিক সেবাসমূহের উপর মেলার আয়োজন ভুক্তভোগী এলাকাতেই করার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কারিতাস রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ডেভিড হেম্ব্রম। তিনি বলেন, যিনি সেবা দিতে যাচ্ছেন ও সেবা পেতে যাচ্ছেন তাদের যথেষ্ট গ্যাপ আছে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্যাপগুলো চিহ্নিত হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও অরক্ষিত জনগণের দূভোর্গ কমবে বলে ও আশাবাদী তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৭ টি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তারা।


