ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে স্কুল মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দের টাকা নিয়েও মাটির বদলে ছাঁই দিয়ে স্কুলের মাঠ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে জাহাঙ্গীর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম চললেও যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়রা জানায়, স্কুল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দুরে আখেড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স শিউলী চাউলকল। ওই মিলের সত্ত্বাধীকারী জাহাঙ্গীর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার চালকল থেকেই ছাঁই নিয়ে ফেলা হচ্ছিল জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একটি ভবনের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে ছাঁইগুলো। ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের মাঠের বেশিরভাগ অংশে ছাঁই দিয়েই ভরাট করা হয়েছে। মাঠের মাঝখানটায় অল্প কিছু জায়গায় ফেলা হয়েছে বিট বালু।
তারা আরো জানান, চালকল বয়লারের চুলো থেকে লম্বা হাতলওয়ালা আঁকড়া দিয়ে বের করে আনা হয় প্রচন্ড গরম ছাঁই। সেগুলো বাইরে এনে জমা করা হয় রাস্তার পাশে। সেখান থেকে বেলচা দিয়ে ট্রাক্টরে তুলে খোলা ট্রাক্টরযোগে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যস্ত সড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পরিবহণ করে নেয়া হচ্ছে।
পরিবহনের সময় বাতাসে উড়ে ছাঁইগুলো অন্য যানবাহনের যাত্রীদের শরীরে পড়ছে, পড়ে থাকছে সড়কের দুপাশেও। ছাঁইগুলো বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলায় সেখান থেকেও বাতাসে উড়ছে ছাঁই। ফলে সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। বয়লারের উড়ন্ত ছাঁই দূষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। তারা জানান, রাস্তায় চলাচলের সময় বয়লারের ছাঁই চোখে পড়ে অনেকেই দূর্ভোগের শিকার হন। কারো কারো চোখ নষ্টও হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে ছাঁই ফেলা কোনক্রমেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবেনা। তারা ওই বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা ছাঁই সরিয়ে ফেলে মাটি দিয়ে ভরাটের দাবি জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভীত কাটার অতিরিক্ত মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট না করে তা অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখন ভীতের পাশের গর্ত পূরণ করা হচ্ছে ছাঁই দিয়ে। বয়লারের ছাঁই দিয়ে মাঠ ভরাটের ফলে বিল্ডিং দুর্বল হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্ঠদের দাবি প্রকল্পে বরাদ্দ করা টাকার অর্ধেকও খরচ করা হয়নি। জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান এস এম ইব্রাহীম হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি প্রকল্পের টাকায় আট ড্রামট্রাক বালু ফেলেছেন। বয়লারের ছাঁইগুলো তিনি বিনা পয়সায় এনে নতুন ভবনের পাশের গর্ত পূরণ করছেন। এ ছাঁইগুলো প্রকল্পের আওতাভূক্ত নয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, ওই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের জন্য এক লক্ষ সতেরো হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখনো চলছে।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। #


