ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংক-এ গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর-এর উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘জোরপূর্বক’ কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আহসান উল্লাহকে ঘিরে একদল কর্মকর্তা উত্তেজিত পরিস্থিতি তৈরি করেন। একপর্যায়ে তাকে ঘাড় ধরে গাড়িতে তোলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অতিরিক্ত পরিচালক তানভীরসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিজেদের বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের দবিতে আন্দোলন করে আসা বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকার দাবি ছিল চুক্তিভিত্তিক সকল নিয়োগ বাতিল করা হোক।
তিন জনের বদলি ও কারণ দর্শানোর নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কাউন্সিলের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সেখানে গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করা হয়।
এর ঘণ্টা খানেক পর বাংলাদেশ ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আহসান এইচ মনসুর। ততক্ষণে অর্থ মন্ত্রণালয় তাকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বেলা ২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান আহসান এইচ মনসুর। তার পরপরই গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে জোর করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বের করে দেন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের আন্দোলনরত সদ্যরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহকে গত গত বছরের জানুয়ারিতে এক বছরের জন্য গভর্নরের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ সভায় তার চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গভর্নরকে সহায়তা করছিলেন আহসান উল্লাহ। তার নেতৃত্বেই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করা হয়।
তাকে বের করে দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর, বিকাল ৪টার দিকে নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।


