IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
নিয়ামতপুরে বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ছে আমনের খেত, দুশ্চিন্তায় কৃষকতারাগঞ্জে বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন রংপুর জেলা প্রশাসকগোমস্তাপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন ও গাছের চারা বিতরণমোহনপুর কেশরহাট পৌর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন পরামর্শকরণ সভাপুঠিয়ায় নন্দনগাছী সড়কে ৫০০ গাছের চারা রোপণচাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মৃত্যুতানোরে নারী এনজিও কর্মীর ঘরে আটক কর্মকর্তা আশরাফুলের প্রতিবাদ দিয়ে রক্ষার চেষ্টানিয়ামতপুরে ৫৪ লিটার চোলাই মদ জব্দ, গ্রেপ্তার ৫ফুলবাড়ীতে বাসের চাপায় ১০ বছরের শিশু নিহত‘এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে’পুঠিয়ার অবৈধভাবে সার মজুদ করার ব্যবসায়ীর অর্থদণ্ডরাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯জেলা প্রশাসক আন্তঃ উপজেলা গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মহানগর ফুটবল দলের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার’ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি‘র কর্তৃক প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম
Home >> টপ নিউজ >> কৃষি >> নিয়ামতপুরে বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ছে আমনের খেত, দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিয়ামতপুরে বৃষ্টির অভাবে খরায় পুড়ছে আমনের খেত, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ধূমকেতু প্রতিবেদক,সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। বৃষ্টি না হওয়ায় আমনের খেত শুকিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক জমিতে সেচ দেয়া শুরু করেছেন। বর্ষানির্ভর আমন চাষে অনাবৃষ্টির কারণে সেচ দিতে খরচ বাড়ছে কৃষকের।

কৃষকেরা বলছেন, শ্রাবণ মাসেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। এখন শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্রের শুরু। কিন্তু এবার বর্ষার বিদায় ঘন্টা বাজলেও স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা নেই। এবার আমন আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপনের সময়ও হয়নি কাঙ্খিত বৃষ্টি। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে আমন চারা রোপন করা হয়েছে । দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে এখন জমিতে লাগানো সেই চারা বাঁচাতে ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। কিন্তু বিদ্যুতের ঘনঘন লোড শেডিং এর কারনে সে আশাও হতাশায় রুপ নিয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ৩০ হাজার ৭৯৫ হেক্টর।

বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়ামতপুর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় জমিতে সেচের জন্য মাঠে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেচযন্ত্র। এর মধ্যে এক হাজার ৫৬০টি বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র। বিএমডিএর গভীর নলকূপ রয়েছে ৫৮০ টি। বাকি সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত। খরা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের প্রায় সবগুলোই চালু রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ ইউনিয়নেই কমবেশি খরার কবলে পড়েছে আমন চাষ। এর মধ্যে রসুলপুর, হাজিনগর ও পাঁড়ইল ইউনিয়নের অবস্থা বেশি খারাপ। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকেরা গভীর-অগভীর সেচযন্ত্র ব্যবহার করে আমনের চারা লাগিয়েছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে সঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে না পারায় আমনের খেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন এক বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ দিতে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। আমনের চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত ও খরার কবলে পড়া আমনের চারা বাঁচাতে ইতোমধ্যে কমপক্ষে দুইবার সেচ দিতে হয়েছে। এই মৌসুমে এভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত চললে কমপক্ষে আরও ছয়বার সেচ দিতে হবে। সেই হিসাবে উপজেলার ৩০ হাজার হেক্টর আমনের ফসল রক্ষায় এবার সেচের খরচ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
কৃষকরা বলছেন, জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের প্রথম চার-পাঁচ দিন প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছিল। মাঠের অনেক জমিতে পানিও জমে গিয়েছিল। কিন্তু তখন জমি প্রস্তুত না হওয়ায় ও বীজতলার চারার বয়স কম থাকায় কৃষকেরা ধানের চারা লাগাতে পারেনি। সাধারণত জুলাইয়ের এক-দুই সপ্তাহ পর থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমনের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। এখন বৃষ্টির দরকার, কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। গত ১৫-২০ দিন ধরে নওগাঁয় ভারী বৃষ্টি হয়নি। এই সময়ে কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়।

ভাবিচা গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল সরকার বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আমাদের এলাকায় বৃষ্টি নেই বললেই চলে। বর্তমানে আমনের জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। যেসব জমিতে চারা লাগানো হয়েছে পানির অভাবে ওই সব চারা মরে যেতে বসেছে। খরার কারণে মাটি শুকনা কাঠের মতো হয়ে থাকায় সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি পানি লাগছে। একদিকে খরা আরেক দিকে চলছে লোডশেডিং ও সার সংকট। এমন অবস্থায় আমন চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

একই এলাকার ঘুঘুডাংগা গ্রামের কৃষক ইসমাইল বলেন, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে এ বছর ৮ বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। সেই চারা এখন পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। মাঠের মাটি ফেটে যাচ্ছে। বিএমডিএর গভীর নলকূপ চালু থাকলেও চাহিদামত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন। এমন চলতে থাকলে আমন চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

দামপুরা গ্রামের বাসিন্দা ফয়সাল। তিনি বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর। তিনি বলেন, আগে এক বিঘা জমিতে পানি দিয়ে ভেজাতে ১৫০-২০০ টাকা করে খরচ পড়তো। কিন্তু ঘনঘন লোড শেডিংয়ের কারণে এর খরচও বেড়েছে। তাছাড়া সেচের সিরিয়াল পেতে হুড়োহুড়ি লেগেই থাকছে কৃষকের মাঝে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হলেও আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখনই অতটা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আগস্ট মাসজুড়েই রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হলে চিন্তামুক্ত হবেন কৃষক। তবে যেসব কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছেন তাদের খরচ বাড়বে। গত বছরেও মৌসুমের শুরুতে তেমন বৃষ্টি ছিল না। তবে শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। আশা করছি, এবারো আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

August 2026
MTWTFSS
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031