IMG-LOGO

রবিবার, ২৫ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলের ৩ কৃতি খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা‘চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন করা হচ্ছে’গোমস্তাপুরে ১৯ মামলার পলাতক আসামি আটকজেলা প্রশাসন সিরাজগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযাননিয়ামতপুরে আদিবাসী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনায় রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের দোয়া মাহফিলপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর: বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশাবদলগাছীতে পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ, গ্রাম পুলিশসহ গ্রেপ্তার ২খোকশাবাড়ীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রোকনীর সমর্থনে শতাধিক মোটরসাইকেলের শোডাউনশারীরিক অবস্থার উন্নতি, আগের চেয়ে সুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুবাংলাদেশ স্কাউটস, সিরাজগঞ্জ জেলা রোভারের নির্বাহী কমিটির সভা৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভূমিমন্ত্রী মিনুর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলটঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কার্যক্রম বন্ধের দাবি হেফাজতে ইসলামেরবাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মামুন, সম্পাদক পলাশমহাদেবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু
Home >> টপ নিউজ >> বিশেষ নিউজ >> নিয়ামতপুরে খোঁয়াড় বন্দী হচ্ছে বিলুপ্তির ‘খোঁয়াড়ে’

নিয়ামতপুরে খোঁয়াড় বন্দী হচ্ছে বিলুপ্তির ‘খোঁয়াড়ে’

ধূমকেতু প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর, সবুজ সরকার : ‘খোঁয়াড় নেওয়ার জন্য আগে ইউনিয়ন পরিষদে লোকজনের ভীড় লেগে যেত। এক বছরের জন্য খোঁয়াড় নিতে রীতিমত ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়ে যেতো। নিলামের মাধ্যমে একটি খোঁয়াড়ের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডাক হাঁকা হতো। এখন ৩০ টাকাও বলে না।’ আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম খাঁন।

উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অনেক ওয়ার্ডে খোঁয়াড় আর নাই বললেই চলে। সময়ের আর্বতে খোঁয়াড় এখন হারিয়ে যাওয়া তালিকায় ঠাঁই নিয়েছে। খোঁয়াড়ে গবাদিপশু না আসাতে খোঁয়াড় নিজেই এখন বিলুপ্তির ‘খোঁয়াড়ে’ বন্দী হওয়ার পথে।

খোঁয়াড় হচ্ছে জমির ফসল অথবা বসতবাড়ির বাগান বিনষ্টকারী গবাদিপশু আটক রাখার গারদ বিশেষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খোঁয়াড় ছিল। খোঁয়াড় ইজারা দিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাইকিং করে নিলাম ডাক দেয়া হতো। বাংলা বছরের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ১ বছরের জন্য খোঁয়াড় ইজারা দেওয়া হতো।

খোঁয়াড় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গবাদিপশু খোঁয়াড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়াবিবাদ, গোচারণভূমি কমে যাওয়া,
খামার ব্যবস্থায় গবাদিপশু পালন, গবাদিপশু মালিকদের সচেতনতা, বিকল্প খাদ্যের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে খোঁয়াড় বিলুপ্তির পথে।

খোঁয়াড়ের বর্তমান হালহকিকত জানতে সম্প্রতি উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, খোঁয়াড় নিলামকারী, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইউপি সচিবরা জানান, আগের মতো খোঁয়াড়ের নিলাম হয়না। লোকজন খোঁয়াড় নিতে আগ্রহী নয়। ইউনিয়ন ভেদে নয়টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে নিলাম হয়না। কয়েক বছরের ব্যবধানে ইজারামূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, খোঁয়াড় নিতে লোকজনকে ডেকেও পাওয়া না। তাছাড়াও গবাদিপশু ফসল নষ্ট করলে খেতের মালিকেরা আগের আগের মত খোঁয়াড়ে নিয়ে আসেনা। তাই অনেক ওয়ার্ডে খোঁয়াড়ই উঠে গেছে। একই কথা বললেন ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব করমতুল্ল্যাহ।

রসুলপুর ইউপির দামপুরা এলাকায় খোঁয়াড় নিলামকারী মো. রফিক বলেন, তিনি গত নয় বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিলামে খোঁয়াড় ডেকে নিচ্ছেন। এবছর পাঁচ হাজার টাকায় খোঁয়াড় নিয়েছেন। গরু-ছাগল তেমন আসেনা। ভাদ্র- কার্তিক ও ফাল্গুন- বৈশাখ মাসে খোঁয়াড়ে গরু-ছাগল আসে।

তিনি জানান, খেতের ফসল খাওয়ার জন্য কেউ গরু-ছাগল খোঁয়াড়ে দিয়ে গেলে গরু-ছাগলের মালিকেরা নির্ধারিত হারে টাকা পরিশোধ করে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

বাহাদুরপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়ী এলাকায় খোঁয়াড় নিলামকারী মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, আগের মত গবাদিপশু খোঁয়াড়ে তেমন আসেনা। মাঝেমধ্যে লোকজন শুধু ছাগল আর হাঁস খোঁয়াড়ে দিয়ে যায়। কোনো কোনো মাসে তাও হয়না।

পাঁড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন গ্রাম এলাকাতেও আধুনিক পদ্ধতিতে খামার ব্যবস্থায় গরু পালন করা হচ্ছে। দোকানে মিলছে গরুর খাবার। ছাগল পালনকারীও বেঁধে রেখেই পালন করছেন। তাছাড়া গোচারণ ভূমি কমে যাওয়ার ফলে খোঁয়াড় প্রথা প্রায় উঠে গেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে খোঁয়াড়ের ইজারামূল্য অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে তিনি জানালেন।

তবে নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানালেন, তাঁর ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে খোঁয়াড় নেওয়ার ভালো আগ্রহ রয়েছে।

শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) প্রভাস বর্মন বলেন, বর্তমানে সবাই নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে গরু-ছাগল পালন করে। এতে করে ক্ষেত খাওয়ার মত ঘটনা কমে গেছে। ফলে এ অঞ্চল থেকে খোঁয়াড় ব্যবস্থা একেবারেই উঠে যাচ্ছে।

বাহাদুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জাহাঙ্গীর আলম খাঁন বলেন, খোঁয়াড় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে এই প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930