ধূমকেতু প্রতিবেদক,পত্নীতলা :“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির পত্নীতলা উপজেলা গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁর পত্নীতলায় শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার উপজেলার মুগ্ধ কমিউনিটি সেন্টার হলরুমে আয়োজিত এ সভায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় পারস্পরিক সহনশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পত্নীতলা উপজেলা পিএফজি (Peace Facilitator Group)-এর সমন্বয়কারী সাজেদুর রহমান দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিয়ামুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এমআইপিএস প্রকল্পের নওগাঁ জেলা সমন্বয়কারী গিয়াস উদ্দিন।
সভায় বক্তব্য দেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মরিয়ম বেগম শেফা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেত্রী ও পিস অ্যাম্বাসেডর খাদিজাতুল কোবরা, পৌর জামায়াতের আমির মোকাচ্ছেল হক, নজিপুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি মাহফুজুল হক, আলহাজ বুলবুল চৌধুরী, আলহাজ জয়নাল আবেদীন, ফজলুর রহমান, ইশরাত ফারহানা, স্বদেশ কুমার মণ্ডল, ইয়ুথ সমন্বয়কারী রাকিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া সভায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য, ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, ইমাম, পুরোহিত, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বেগম বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় শুধু প্রশাসন নয়, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নিয়ামুল হক বলেন, গুজব, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে সাজেদুর রহমান দুলাল বলেন, মতের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাতে পরিণত না হয়। সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
পিস অ্যাম্বাসেডর মরিয়ম বেগম শেফা বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে পত্নীতলাকে শান্তি ও সম্প্রীতির একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নিয়মিত সংলাপ, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধ, যুবসমাজকে মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কার্যক্রম বৃদ্ধি, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং স্থানীয় বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে কমিউনিটি নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে উপস্থিত সবাই সংঘাতমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক পত্নীতলা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



