IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাণীনগরে এক কেজি গাঁজা ও ১১৩পিস ট্যাপেন্টাডল বড়ি উদ্ধারতানোরে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারসিংড়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ডরাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে ২মাদক সেবির কারাদন্ড১১ হাজার ৪৯৫ জন ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ২বাঘায় গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিগত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যুচিত্রনায়িকা পরীমনির কোলে ফুটফুটে শিশুরাণীনগরে ৩য় শ্রেনীর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটকপুঠিয়ায় সারের জন্য মহাসড়ক অবরোধযুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫, আহত ৫বাগমারায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ‘এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে’
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় কাঁসা-পিতল

আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তপ্রায় কাঁসা-পিতল

ধূমকেতু প্রতিবেদক, (বিশেষ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ : এক দশক আগেও কাঁসার থালা-বাটি ছিল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারণ, বাংলার প্রাচীনতম শিল্পের মধ্যে কাঁসাশিল্প একটি। তবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় স্টিল, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে পাল্লা দিতে দিতে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের কথা, যেখানে এ শিল্পের বয়স ৩০০ থেকে ৪০০ বছর অতিক্রম করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় আট হাজার কেজি কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২ হাজার কেজি পিতলের সামগ্রী উৎপাদিত হচ্ছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা। এ ছাড়া তামার তৈরি জিনিস উৎপাদিত হয় প্রায় ৫০০ কেজি, যার মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা।

করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল না আসায় দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাঁসা-পিতলের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্রের দাম বেড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও। ফলে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতা ও সারাদেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ভাংড়ির দাম করোনার আগে ছিল ৭০০ টাকা কেজি। কিন্তু এখন তা ১৪০০ টাকা কেজি। ১৮০০ টাকা কেজির রাং এখন ৩৬০০ টাকা। কাঁসার তৈরি থালার বর্তমান দাম কেজি প্রতি ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা এবং গ্লাস, বাটির দাম ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি। যেগুলো কেজি প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

কাঁসা ছাড়াও পিতলের তৈরি তৈজসপত্র প্রতি কেজির মূল্য ৭০০ টাকা। এ ছাড়া তামার তৈরি তৈজসপত্র প্রতি কেজির মূল্য ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এখানের তৈরি তৈজসপত্র জেলা ছাড়াও রাজশাহী নওগাঁ, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

তবে করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর কাঁচামাল না আসায় দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাঁসা-পিতলের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্রের দাম বেড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও। ফলে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতা ও সারাদেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

আগে কাজ করে ভালো টাকাপয়সা পেতাম। দিন দিন তা কমছে। তবে করোনা এসে একেবারেই ধ্বংস হওয়ার মতো অবস্থা। কাজ না থাকায় সংসার চালার তাগিদে অনেকেই এই কাজ ছেড়ে দিয়েছে। এখন তারা কাজ ছেড়ে কেউ রিকশা-ভ্যান চালায়, কেউ যোগ দিয়েছে রাজমিস্ত্রির কাজে, কেউ আবার পাড়ি দিয়েছে প্রবাসে।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, কাঁসা ও পিতলের ব্যবহার জনপ্রিয়তা অর্জন করে মোঘল আমলে। এসব ধাতু দিয়ে ঢাল, তলোয়ার, তির-ধনুক, বন্দুক, কামান পর্যন্ত তৈরি করা হতো তখন। এরপর ধীরে ধীরে কাঁসা দিয়ে দৈনন্দিন নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরি করা শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আজাইপুর, আরামবাগ, নামোশংকরবাটি, শান্তিমোড়ে আজ কার্যত অস্তিত্ব সংকটে নেমে পড়েছে কাঁসাশিল্প।

একসময় এ শিল্প থেকেই এসব এলাকার বহু বাসিন্দা তাদের সংসার চালাতেন। তবে বর্তমানে কাঁসার চাহিদা ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে করোনাভাইরাস।

কারিগর, কারখানা মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার আগে খুঁড়িয়ে চলছিল বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি শুরু হলে বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরির মূল উপাদান তামা ও রিং বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে কাঁসা-পিতলশিল্পের কাঁচামালের। তাই প্রস্তুতকৃত জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে দ্বিগুণ।

অন্যদিকে, লকডাউনের কারণে কারখানা ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে তারা। সংসার চালাতে কয়েক দশকের পেশা ছেড়েছেন অনেকেই। জেলা শহরের আজাইপুর, আরামবাগ, নামোশংকরবাটি, শান্তিমোড়, রামকৃষ্টপুর মহল্লার প্রতিটি অলিগলিতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোনা যেত খটখট শব্দ। তবে এখন হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা রয়েছে। যারা ধরে রেখেছে বাপ-দাদার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে।

কাঁচামালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় খুব বিপদে আছি। সরকার বিদেশ থেকে এসব আমদানি করতে উদ্যোগ নিলে দুবেলা দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারব। তা না হলে অন্যদের মতো আমাদেরও এই ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

৩৫ বছর ধরে কাঁসা-পিতলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন রামকৃষ্টপুর এলাকার মেহের আলী (৫৫)। তিনি বলেন, আগে কাজ করে ভালো টাকাপয়সা পেতাম। দিন দিন তা কমছে। তবে করোনা এসে একেবারেই ধ্বংস হওয়ার মতো অবস্থা। কাজ না থাকায় সংসার চালার তাগিদে অনেকেই এই কাজ ছেড়ে দিয়েছে। এখন তারা কাজ ছেড়ে কেউ রিকশা-ভ্যান চালায়, কেউ যোগ দিয়েছে রাজমিস্ত্রির কাজে, কেউ আবার পাড়ি দিয়েছে প্রবাসে।

শ্রমিক রবিউল ইসলাম জানান, করোনা শুরুর পর থেকে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। সংসার চালানোয় মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। একদিন কাজ করলে দুই দিন হয় না। আবার দুই দিন কাজ করলে, পরের ৩ দিন বসে থাকতে হয়। লকডাউনে ঘরে বসে থাকলেও সরকার কোনো অনুদান দেয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা নিয়েছে, কিন্তু কোনো সহায়তা পাইনি।

কাঁসা-পিতলের বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরির কাজ করেন সোহেল আলী। তিনি বলেন, এই শিল্পের মূল কাঁচামাল রাং আসে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন থেকে আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বিগুণ দাম বেড়েছে এই কাঁচামালের। স্বাভাবিকভাবে তৈরিকৃত পণ্যের দামও বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে তা ছাড়া এখন আর কাঁসার তৈরি জিনিসপত্র কেউ নিতে চায় না।

৩ দশকের বেশি সময় ধরে কাঁসা-পিতলের ব্যবসা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রামকৃষ্টপুর এলাকার আবুল খায়ের। তিনি বলেন, প্রায় বছরখানেক বন্ধ থাকার পর কোনরকমে আবার কারখানা চালু করেছি। কাঁচামালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় খুব বিপদে আছি। সরকার বিদেশ থেকে এসব আমদানি করতে উদ্যোগ নিলে দুবেলা দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারব। তা না হলে অন্যদের মতো আমাদেরও এই ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

কাঁসাশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ প্রণোদনা অথবা কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রায় ১৫ বছর পর এবছর নতুন করে বাপ-দাদার ব্যবসা শুরু করেছেন ইব্রাহিম আলী। তিনি জানান, ১৯৯০ সালের আগে এই শিল্পের রমরমা ব্যবসা ছিল। এরপর কিছুটা ঝিমিয়ে যায় কাঁসা-পিতলশিল্প। ২০১০ সালের পর থেকে সুদিন ফিরে আসছিল। কিন্তু করোনায় সবকিছু থমকে গেছে। এদিকে মহাজনরা কাঁচামাল দিয়ে তৈরি তৈজসপত্র নিয়ে থাকে। বাইরে থেকে কাঁচামাল আসছে না, তাই মহাজনরাও তা সরবরাহ করতে পারছে না।

নানা-মামারা দীর্ঘদিন ধরে কাঁসাশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনলাইনে কাঁসার বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ও তৈজসপত্রের ব্যবসা শুরু করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আবুল হাসনাত পরশ। গড়ে তুলেছেন শৌখিন স্টর নামের কাঁসা-পিতল সামগ্রীর অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

তিনি জানান, সারাদেশে পূর্ব-পুরুষদের কাঁসাশিল্পকে ছড়িয়ে দিতে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছি। বিভিন্ন চিত্রকর্ম, ডিজাইন ও নাম লিখে উপহার হিসেবে বেশির ভাগ ক্রেতা অর্ডার করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে, এতে ক্রেতাদের অনাগ্রহ করছে বলে জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম, কাঁসা, লাক্ষা, রেশম, নকশিকাঁথা, সরু চালের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে বেশি পরিচিতি আম ও কাঁসার জন্য। জেলার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোক কাঁসাশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে শিল্পটি ধ্বংসের মুখে।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আসতে না পারায় তৈরিকৃত জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চাহিদা কমে যাওয়ায় কারিগররা পথে বসেছেন। কাঁসাশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে বিশেষ প্রণোদনা অথবা কাঁচামাল আমদানিতে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031