IMG-LOGO

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৬ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
তানোরে ৪ বছরের শিশু কে ধর্ষণের চেষ্টা, ৩জনের নামে থানায় অভিযোগমাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, আরও ৪০ হাজারের শপথপ্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলা উচ্চারণ’নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য, কুষ্টিয়ায় স্কুল শিক্ষক আটকভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলসম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবারের নৌকা ভ্রমণ ও মতবিনিময় সভাঅতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখার নির্দেশ জ্বালানি মন্ত্রীর‘মিরপুর উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়হীনতা ছিল, তদন্তের নির্দেশ’নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তাররাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সোতোকান কারাতে ইন্টারন্যাশনাল সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের সৌজন্য সাক্ষাৎফুলবাড়ীতে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে ছাগল ও মুদি দোকান হস্তান্তরকুষ্টিয়ায় অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধারবাগমারায় অসহায় মানুষের হাতে চেক তুলে দিলেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারীসিংড়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপগোদাগাড়ী মারোইল মোড় জামে মসজিদ থেকে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্থা পাকা করার দাবি এলাকা বাসিরযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুই দফা হামলায় বেঁচেছিলেন মোজতবা খামেনি
Home >> মতামত >> জমিদার পুত্র থেকে ‘কমরেড’ অমল সেন

জমিদার পুত্র থেকে ‘কমরেড’ অমল সেন

জুয়েল খান : তে-ভাগা কৃষক আন্দোলনের নেতা আজীবন বিপ্লবী কমরেড ও জমিদার পুত্র অমল সেন। যিনি জমিদারি ছেড়ে কমিউনিস্ট আদর্শে দীক্ষিত হয়ে নিজেকে শ্রেণিচুত্যের মাধ্যমে সর্বহারার কাঁতারে দাড় করিয়েছিলেন। সামন্তবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথম যেই আঘাত করেছিলেন তা তিনি প্রথমে নিজের ওপরই করেছিলেন। বিদ্রোহ করেছিলেন নিজ পিতার জমিদারিত্বের ওপর । চিন্তা করা যায়- কতটা উন্মাদ আর আপনাদের ভাষায় কতটা ‘বোকা’ এবং অতি বিপ্লবী না হলে সেটি কি তিনি করতে পারতেন? তিনি যেই আদর্শ ধারণ করেছিলেন; সেই আদর্শ আগে নিজের ওপর প্রয়োগ করেছিলেন। যেটা তার ব্যক্তি জীবনকে পাল্টে দিয়েছিল।

জমিদার বাবার আল্লাদে বড় হওয়া ছেলে হিসেবে ভোগ বিলাসে কোথায় তার ডুবে থাকার কথা ছিল। অথচ তার শেষ শয্যায় চিকিৎসার টাকা জোগান দিতে গিয়ে তার পরিবারের লোক জন কে হিমসিম খেতে হয়েছে। চিন্তা করা যায়- কতটা উন্মাদ, কতটা স্বার্থপর ছিলেন তিনি! (আপনাদের বিচারে) তিনি তখন কার সময়ে বড্ড উন্মাদ। তার বাবা চাচা পরিবারের সদস্যদের ভাষায় ‘বোকা’ পাগল ছিলেন বলেই তিনি সেটা করতে পেরেছিলেন। জমিদার পুত্র অমল সেন থেকে কমরেড অমল সেন হয়েছিলেন এভাবেই। তাই তিনি এখন একটি আদর্শের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

উপমহাদেশের ১৯ শতকের গনগনে সময়ে যেই বিখ্যাত বিপ্লবীগুলোর নাম জানা যাবে- ইতিহাসে তার মধ্যে সূর্য সেন, নির্মল সেন, কল্পনা দত্ত, প্রিতি লতা, ইলামিত্র, অমল সেন, মনি সিংহ নামগুলো জলজল করে উঠবে। অমল সেনের মৃত্যুর মধ্যদিয়েই পূর্ব বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য; বিপ্লবীদের তীর্থ ভূমি খ্যাত এই পূর্ব্য বাংলা- সেই ঐতিহ্যরও সমাপ্তি হয়েছিল। কেননা কমিউনিস্ট রাজনীতির মতাদর্শ, আদর্শ, স্লোগানগুলো একই থাকলেও, পতাকার রঙ লাল থাকলেও- কমরেড অমল সেসের মতো দ্বিতীয় কাউকে এখনো পাইনি এই দূর্ভাগা জাতি। যা পেয়েছে তা হল একই পোশাকে অসংখ্য হিপোক্রেটদের। বাস্তবতার নির্মম পরিহাস যুগে যুগে এই হিপোক্রেটদের পাল্লায় ভারী থাকে।এই হিপোক্রেটদের পাল্লায় পরে কত না মেধাবী ত্বরুণ তাদের সোনালী সময়কে উজাড় করে, জীবনকে বাজী রেখে, আদর্শের পতাকা হাতে নিয়ে- দিক থেকে দিগন্তে ছুটেছে। আবার তারা কখনো রক্ত দিয়েছে। শহীদ হয়েছে।কিন্তু সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ব্যাক্তি স্বার্থ চরিত্রার্থ করেছে নানা কৌশলের নামে। রক্ত গেছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার পতন হয়েছে,নতুন সরকার এসেছে,শোষক বদলিয়েছে শোষোনে চরিত্র বদলায় নি। তাই বিপ্লব আসেনি। কিছু ব্যাক্তি বর্গের জীবন মান পরিবর্তন হয়েছে।কিন্তু কসিমুদ্দির (রুপক অর্থে) ছেলেরা বার বার জীবন দিয়েছে, হাজার হাজার ছররা বুলেট টিয়ার সেলের বিষাক্ত ধোয়াই জীর্ন হওয়া ফুস্ফুস, পুলিশের লাঠি চার্য বেইনেট আর বুটের তলাই পিষ্ট হওয়া ঐ হাজার হাজার ত্বরুন বিপ্লবীরা বার বার প্রতারিত হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দ্বারা। অবেলাই অনেক স্বপ্ন বার বার চুরি হয়েছে, বিপ্লব আসে নি। বিপ্লব চেয়েছিল রক্ত, রক্ত দিয়েছে শ্রম চেয়েছিল শ্রম দিয়েছে, বিপ্লবী কবি সুকান্তের কবিতার লাইনের মত বার বার রাজপথে আগ্নিওগিরির লাভার মত ১৮ নেমেছে কিন্তু বিপ্লব আসে নি। কৌশলের নামে বারবার কিছু ব্যাক্তি স্বার্থ সিদ্ধি হয়েছে ব্যাস এই তো।

কিন্তু বিপ্লব তো তা চাই নি, কমরেড অমল সেন এবং যুগে যুগে ১৮ নেমে আসা রাজপথ চেয়েছিল, ফসলের জমি হবার কথা ছিল কৃষকের। কারখানা হবার কথা ছিল শ্রমিকের। ক্যাম্পাসে আন্দোলন না বরং গবেষণা করে নতুন কিছু উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা থাকার কথা ছিল ছাত্রদের। অথচ সেই ক্যাম্পাসে এখনো আন্দোলন করতে হয় শিক্ষার অধিকার নিয়ে। যেই সূর্য্যের আলো সমস্ত কোনায় সমানভাবে পড়ার কথা ছিল- কিন্তু বিপ্লব হয়নি, সেই আলো বারবার কিছু ব্যক্তি নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে। আদর্শ, স্বপ্ন, রাজপথ, মিটিং’র মাইক কলেজের স্ট্রাইক, বুলেটে জীবন দিয়ে হওয়া শহীদ; সব কিছুই চুরি হয়ে যায়। এখন রাজনীতিতে দেখি ভাঙা সুটকেস নিয়ে কোটি পতি হতে। কমরেড অমল সেনেরা জমিদার থেকে সর্বহারা হয়েছিলেন। তারা আদর্শ ধারণ করে শ্রেণিচুত্য হয়েছিলেন। কিন্তু আজ দেখি তার ঠিক উল্টো।

লেখা বেশি দীর্ঘায়িত করবনা, মনের মধ্যে কাল বৈশাখির তুফান শুধু বলবো, আজকের এই বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে কমরেড অমল সেন এর আকুতি ছিল বিপ্লব আসবেই । তিনি তার নিজ জীবন দশায় বহু বার বিপ্লবের দাড়প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছুতে পারে নি, তবুও তিনি মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত বিপ্লব কে ধারন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন আমার জীবন দশায় না হলেও বিংশ শতাব্দীর উচ্চ পজিবাদ বিকশিত দুনিয়ায় বিপ্লবে এর প্রাসংগিকতা অনেক জোরালো।বিপ্লব খুব কাছাকাছি। সারা বিশ্বের যেই পরিবর্তন এর হাওয়া সেই হাওয়াই এই বাংলাদেশেও কাস্তে হাতুড়ির লাল পতাকা উড়বে। রাষ্ট্র ক্ষমতা না বিপ্লব। বিপ্লব মানে শ্রেনী হীন সমাজ, শোষনহীন অর্থনীতি, সেদিন সূর্য সমান ভাবে ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে আলো ছড়াবে। ক্ষেত হবে কৃষকের, জল হবে জেলেদের, কারখানা হবে শ্রমিকের আর রাজপথে কেও জীবন দিতে হবে না ছোট শিশুর মিষ্টি হাসিতে সারা দেশ হাসবে। আজীবন বিপ্লবী কমরেড অমল সেনের সেই স্বপ্ন এখন এই প্রজন্মের হাতে। কমরেড অমল সেনের মৃত্য বা জন্ম দিবসে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি বিপ্লব কে এগিয়ে নিয়ে যাবার দৃহ প্রত্যয় নিতে হবে। আদর্শের খলশ নয় পুরোপুরি আদর্শিক হতে হবে। ভন্ডামি না, আমরা যা মুখে বলি তা ব্যাক্তি জীবনে দৃশ্যমান থাকতে হবে।

আমরা যারা আদর্শের রঙ মাখিয়ে চেতনা কেনা-বেচার দোকান খুলে বসেছি, তারা নিজেদের পন্ডিত ও মহান ভাবলেও জনগণ তা মনে করে না। জনগন যদি মনেই করতো তাহলে পার্টি বা সংগঠন গুলো দিনে দিনে শুকিয়ে যাচ্ছে কেন?কেনই বা জন বিছিন্নের পথে কমিউনিস্ট পার্টি গুলো। অথচ এই পার্টিই জনগনের পার্টি হবার কথা ছিল। জনগন কে বুঝতে হবে, জনগনের জন্য লড়াই করার আগে নিজেকে চিনতে হবে এবং প্রস্তুত করতে হবে আপনি লড়ায়ে কতদর টিকে থাকতে পারবেন।অনেক নেতারা গোপেনে বলেন জনগন তো বোঝে না, আমি বলি জনগন বোঝে সবই। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে আদর্শিক হয়, সততা এবং সত্য নিয়ে চলি, জনগন প্রপথমে আমাদের বোঝার চেষ্টা করবে, পরবর্তীতে আমাদের সাথে স্রোত তৈরী করবে।

লেখক : জুয়েল খান, সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাবেক সভাপতি, রাজশাহী মহানগর ছাত্রমৈত্রী।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930