IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাণীনগরে এক কেজি গাঁজা ও ১১৩পিস ট্যাপেন্টাডল বড়ি উদ্ধারতানোরে গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারসিংড়ায় অবৈধভাবে সরকারি সার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ডরাণীনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে ২মাদক সেবির কারাদন্ড১১ হাজার ৪৯৫ জন ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ২বাঘায় গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলিগত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যুচিত্রনায়িকা পরীমনির কোলে ফুটফুটে শিশুরাণীনগরে ৩য় শ্রেনীর শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটকপুঠিয়ায় সারের জন্য মহাসড়ক অবরোধযুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫, আহত ৫বাগমারায় পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ‘এক উপজেলার সব ইউপির ভোট একসঙ্গে’
Home >> রাজশাহী >> বিশেষ নিউজ >> করোনায় রাজশাহীতে বাড়ছে বেকারত্বের হার

করোনায় রাজশাহীতে বাড়ছে বেকারত্বের হার

ধূমকেতু প্রতিবেদক : করোনার কারণে রাজশাহীতে বেড়েছে কর্মহীন মানুষের হার। টানা প্রায় দেড় বছর ধরে করোনার কারণে দেশে বেশিরভাগ সময় লকডাউনের মধ্যে কেটেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে ছোটখাট কলকারখানা। কমেছে মানুষের কর্মক্ষেত্র। এতে রাজশাহীর একটি বড় অংশ কর্মজীবিরা চাকরি বা কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছে বেশি। এখন নিম্নবিত্তের চেয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বেশি হাহাকার চলছে। কারণ নিম্নবিত্তরা ত্রাণের আওতায় আসছে। কিন্তু মধ্যবিত্তরা ত্রাণ বা সরকারী সহায়তার আওতায় আসছে না।

মধ্যবিত্তরা না পারছেন ঠিক মত চলতে, না পারছেন পরিবার চালাতে। এমন কি সরকার নিম্নবিত্তদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও এসব মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ থেকে যাচ্ছে সরকারী সহায়তার বাইরে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ না পারছেন লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে, না পারছেন কাজ করে পরিবার চালাতে। একই সাথে দিনমুজুর শ্রেণীর মানুষের দিন কাটছে অর্ধহারে অনাহারে।

রাজশাহী মূলত শিক্ষা নগরী হিসাবে পরিচিত। এখানকার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের শিক্ষার উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বন্ধ রয়েছে কোর্চিং সেন্টার, বেসরকারী কিন্ডার গার্টেন স্কুল বা প্রাইভেট কোর্চি সেন্টার। এতে শিক্ষার উপর নির্ভর করে যেসব মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল বর্তমান তারা সবাই বেকার। বড় অংকের একটি শিক্ষিত জনগোষ্টি বেকার হয়ে জীবন যাপন করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘লকডাউনের’ ফলে রাজশাহীতে দারিদ্র্যের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। যদিও সরকার মানুষের জীবন-জীবিকা চালিয়ে নেয়ার স্বার্থে নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ দারিদ্র মানুষের ডাটাবেজ না থাকায় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। এরমধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। দারিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জনগোষ্ঠী আগামীর অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবেন বলেও ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেমে) এক জরিপে উঠে এসেছে রাজশাহী বিভাগের দারিদ্র্যের হার। জরিপ অনুসারে ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২১ সালে দারিদ্র্যের হার দেখা যায় ৫৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। ২০১৯ সালে সরকারি হিসেব অনুযায়ী দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু করোনার প্রভাবে আয় কমে যাওয়া ও চাকরিচ্যুতির ফলে রাজশাহী দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

‘লকডাউনের’ মধ্যে সংসার চালানোর জন্য কাজ খুঁজতে রাজশাহী মহানগরে এসেছিলেন পবা উপজেলা কালাম আলী।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারে চার জন সদস্য। প্রতিদিনের কাজের টাকা দিয়ে সংসার চলতো। দীর্ঘ ‘লকডাউনে’ কাজ বন্ধ। তাই নতুন কাজের খোঁজ করছি। কাজ না থাকলে কি করে চাল কিনবো? পরিবারের সবাই কী খাবে এই চিন্তায় আছি।’

শ্রমজীবী আনোয়ার আলী বলেন, ‘সংসারে আমিই একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই কাজ নেই। রোজই শ্রমের হাটে আসি। কিন্তু কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাই। লকডাউনে সরকার নাকি সহায়তা দিচ্ছে? কিন্তু আমি কিছু পাইনি। আবার কারো কাছে চাইতেও পারি না। আগে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কাজ করতাম। এখন গ্রামে কেউই কাজের জন্য ডাকে না। তাই বাধ্য হয়েই কাজের সন্ধানে রোজ শহরে আসি।’

এদিকে দারিদ্র্যতা হার বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের ফলে বেশিরভাগ মানুষের আয় যেমন কমেছে ও তেমনি কর্ম হারিয়েছে। রাজশাহীতে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রোধে ‘দীর্ঘ লকডাউনে’ দারিদ্র্যের হার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের থেকে রাজশাহীতে বেশি।

সার্বিক পরিস্থিতিতে পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর সঠিক ডাটাবেজ নেই। এর কারণে বরাদ্দেও বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে প্রয়োজনের বেশি ত্রাণ পাচ্ছে আবার অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই আঞ্চলভিত্তিক দরিদ্র সীমার নিচের মানুষদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। যাতে সরকারি সহায়তা থেকে কেউ বঞ্চিত না হয়। ফলে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা করলে ‘লকডাউন’ অনেকটা সফল হবে। কঠোর বিধিনিষেধের সময় অনুসারে দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের সহায়তা দিতে হবে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ইকোনমিস্ট নাজনীন আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সঞ্চয় ভেঙে ও ঋণ করে জীবনযাপন করছে। ফলে তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না করলে ভবিষ্যত অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031