IMG-LOGO

শনিবার, ২৯ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৪ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি-পেজঅবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কাররাজশাহীতে এক হাজার তালগাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনদুর্গাপুরে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগনেপাল ও চীনে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮৪, নিখোঁজ ২৫০০দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কাবাঘার জননী ক্লিনিকে সিজারিয়ানের পর নবজাতকের মৃত্যু,” মৃতপ্রায় নবজাতককে রেফার্ডের অভিযোগ‘আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়’শহীদ জিয়া শিশুপার্কের আধুনিকায়নে পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজিরুয়েটে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালগাছের চারা রোপণমহাদেবপুরে দিঘিতে গোসলে নেমে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু২৬ নং ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতার নতুন উদ্যোগ,নাঈমের ডাস্টবিন স্থাপনঅবৈধভাবে ধানী জমির মাটি কাটায় দুইজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ডরাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ফিরিয়েআনতে পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি‘খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না’
Home >> লাইফস্টাইল >> ঈদ রসনায় বাঙ্গালিয়ানা

ঈদ রসনায় বাঙ্গালিয়ানা

নাজমা রহমান : বৈশাখের তাপদাহ, মুষল বর্ষা, স্যাঁতসেঁতে ভাদ্র, হেমন্তের গর্জন, শীতের থাবা, মর্মর বসন্ত-কালের আবহে যত রুক্ষতাই থাকুকনা কেন, বাঙ্গালির ঈদ রসনায় এট্টুসখানি ভালোমন্দ তো থাকবেই। পার্বন বলে কথা!

তা এবারের ঈদুল ফেতরে বৈশাখ তার রূপকে উজাড় করে সাজিয়েছে, বটে! বাতাসে বইছে লু, হাওয়ার গরম উঠেছে চরমে। তাই বলে কি এই আবহাওয়ায় বন্ধ থাকবে ঈদ আয়োজন? বছরকার এই আনন্দের দিনে বাদ যাবে সৌজন্য সাক্ষাত? একদম না। তাহলে উপায়? চলুন ঘুরে আসি আমাদের শৈশবে, সেই নব্বই দশকের দোড়গোড়ায়…..

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে রোজার ঈদ তথা ঈদুল ফিতর হয়েছিলো ১৫ এপ্রিল, শনিবার। আমি তখন সপ্তমের ছাত্রী, কিশোরী মনের আনাচকানাচ জুড়ে রাজ্যের বিস্ময়! এই মন খুশি তো এই ভার। পৃথিবীর সামনে রাজ্যের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি ভরা বড় বড় নেত্রের মেয়েটির গল্প আরেকদিন হবে হয়তো, আজ সেই প্রচন্ড তাপের মাঝে ঈদের রসনার গল্প বলি।

আমরা বেড়ে উঠেছি মেডিক্যাল কোয়ার্টারের নির্মল এক পরিবেশে। সেই কালে সবার ঘরে ঘরে ফ্রীজার থাকতোনা। আজ ভেবে অবাক হই, আমাদের ঐ মাঝারি ফ্রীজারে নিজের প্রয়োজন মেটার পর প্রতিবেশীর টুকটাক প্রয়োজনও বেশ মিটে যেতো। মেসের কাকুদের পানির বোতল, অমুক মামার গ্লাসে জমানো বরফ, তমুক চাচীর পুডিং এর বাটি বেশ তো এঁটে যেতো ঐ এক ফ্রীজে। আসলে হৃদয়গুলো এঁটে ছিলো এক ভালোবাসার বন্ধনে…………

তা সে যাই হোক, এমনি এক কাঠফাটা পহেলা বৈশাখে ঈদ এলো চনমনে তাপ নিয়ে। জানালা খোলা রাখা যায়না, গরম বাতাসের হল্কা ধেয়ে আসে। আমার আম্মা উপরতলার খালার দেখাদেখি জানালার পর্দায় ভেজা চাদর সেঁটে রাখেন, তিন/চার বার করে ঘর মুছেন, আমার ছোট্ট শখের কলসি দিয়ে টিউবওয়েলের ঠান্ডা পানি বয়ে আনি, আরোও কত কী! শেষ রোজার দিন যখন চাঁদ উঠে গেলো, টুনটুনি বাজিয়ে আসা পানিবরফ মামাকে বড়’রা বললেন, আসা যেন বন্ধ করোনা, যে গরম, রোজ এসো। আমার মনে আছে, ফ্রীজ থাকার পরও আব্বা একটাকা দিয়ে ১০ পিস পানি বরফ আনতেন। ইফতারের শরবত, পানির জগ ইত্যাদিতে ফেলে রাখতেন সেই পানি বরফের টুকরা।আহা! বরফ তো নয়, সেই রঙিন রঙিন স্মৃতির টুকরাগুলো যেন……………..

নাহ্! আর গল্প নয়, এবার সত্যিই রসনার পালা। সেই ঈদে এবং পরবর্তী বেশ ক’বছর আম্মা গরমের বিবেচনায় ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পানীয় তৈরি করলেন, রৌদ্রতাপে ঘেমে নেয়ে আসা মেহমান আপ্যায়নের জন্য। ঐ যে ইদানিং কালে যাকে আমারা স্টার্টার বলি। এই যেমন:

তেঁতুল গুড়ের শরবত: পরিমান মত তেঁতুল আর গুড় ভিজিয়ে রেখে ওদিকে শুকনো তাওয়ায় গোটা চার/পাঁচ শুকনো মরিচ, গোটা ধনে, কাঁচা জিরে, লবণ আর বীটলবণ হালকা টেলে নিয়ে গুঁড়ো করে সব একসাথে পরিমানমত পানিতে মিশিয়ে ঝাঁকিয়ে ব্যাস ফ্রীজারে রেখে দিতেন। মেহমান আসা কি আর তাই বলে সে’সময় বন্ধ থাকতো? কোয়ার্টারের সেই নির্মল পরিবেশে হুড়মুড়িয়ে বেড়াতে আসা আত্মীয়-প্রতিবেশীর মাঝে বরফকুঁচি দিয়ে পরিবেশন করা সেই শরবত বেশ জনপ্রিয় হয়েছিলো, আমার বেশ মনে আছে।

রুহআফজা: উপরতলার খালার বাসায় ইফতারের সেই সময়কার রূহ্আফজা আর লেবু মিশিয়ে তৈরি হতো মিশ্রীর শরবত। তাতে কচি লেবু-পাতা ডুবানো থাকতো। “বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের তাপে এই মিশ্রী শরীর ঠান্ডা রাখে যেখানে চিনি পেটের জন্য গরম একটি উপাদান”, খালু বলতেন। সেই ফ্রীজে রাখা ঠান্ডা শরবতের উপর ভেজানো তোকমা, ইষবগুল ছিটিয়ে আপ্যায়ণ করা হতো। আহ্! ভেসে বেড়ানো ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা সুখগুলো…….

ডাবের পানি: আইস চেম্বারে শাঁস সহ ডাবের পানি জমিয়ে বরফ বানিয়ে তা আবার ডাবের পানির সাথেই পেগে পরিবেশন করা হতো তখন। একটু নকশা করে আর কি! ডাবও এত দুর্মূল্য ছিলোনা আর এ্যাগার এ্যাগার পাউডারও সহজলোভ্য ছিলোনা। তাই আমি ভেবে রাখলাম, এবার ঈদের আপ্যায়ণে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ডাবের পুডিং কিন্তু বেশ জমবে! রেসিপি? আরে কিচ্ছুনা, চার কাপ ডাবের পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে প্রয়োজন হলে চার টেবিল চামচের কমবেশি (পছন্দমত) চিনি আর চার চা চামচ এ্যাগার এ্যাগার পাউডার গুলে তাপে একবার ফুটিয়ে নিয়ে পছন্দমত মোল্ডে সেট করে নিলেই তৈরি। ইচ্ছে হলে মোল্ডের মিশ্রণে শাঁসগুলোও কেটেছিঁড়ে দিতে পারেন। সেই ঠাণ্ডা পুডিং এর ছোট ছোট টুকরো মেশানো ডাবের পানি এই গরমে শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স করতে সর্বোচ্চ অবদান রাখবে, বলে দিলাম কিন্তু।

শসা পুদিনার যুগলবন্দী: তখনকার সময় কচি শসা বা ক্ষিরা চাট মশলা মেখে কচরমচর করে খেয়ে বেড়ানো ছিলো গ্রীষ্মকালের চিহ্ন। কালক্রমে আমরা কতকিছুই শিখছি। তেমনি শেখার মাঝেই দুই কাপ খোসা ছাড়ানো শসা কুঁচি, চার টেবিল চামচ পুদিনা পাতা, দু’টো কাঁচামরিচ, দুই টেবিল চামচ চিনি, এক চা চামচ করে লবণ আর বীটলবণ ব্লেন্ড করে অবশ্যই ছেঁকে নিয়ে স্বাদমত লেবুর রস ও বরফকুঁচি মেশালেই তৈরি।

দই-চিড়ার লাস্সি: এই গরমে মেহমানের মুখের সামনে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা এই লাস্সি এগিয়ে দিলে মেহমান কিন্তু তাড়াতাড়ি বিদেয় হবেনা, কথা মিলিয়ে নিয়েন। কেমন করে বানাবেন? নেটদুনিয়ার কল্যাণে এখন তো রেসিপি সবার মুঠোয় ভরা। তা আমার মা ও ভাই যৌথ উদ্যোগে নরম করে ভেজানো ও পানি ঝরানো এক কাপ চিড়া নিতেন। সাথে দুই কাপ মিষ্টি দই, না থাকলে টক দই এর সাথে ৪ টেবিল চামচ (বা স্বাদমত) চিনি আর ৩/৪ কাপ (ঘণত্বের আপন আপন পছন্দ অনুযায়ী) পানি, ব্যাস। ব্লেন্ডারে নিয়ম মেনে ঘুটা দিয়েই তৈরি হয়ে যেতো। এখন ফ্লেভার নিয়ে কথা আছে। যারা চিড়ার ফ্লেভার অক্ষুণ্ণ রাখতে চান তারা কিছু মেশাবেন না। কিন্তু চিড়ার ফ্লেভারে যাদের অসুবিধা হবে তারা ১ চা চামচ ভ্যানিলা বা রূহ্আফজা বা কলা বা লেমন কিংবা যে কোন পছন্দের ফ্লেভার মিশিয়ে নিতে পারেন। বেশ খানিক বরফকুচি গ্লাসে রেখে উপর থেকে লাস্সি ঢেলে কিছু বাদাম কুঁচি, খেজুড় কুঁচি, চেরি, পুদিনা যা মন চায় তাই দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

তো আজ শিখে নিলাম ঈদের নামাজ শেষে বা দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যারাতে বেড়াতে আসা ঘর্মাক্ত, ক্লান্ত অতিথিদের মনজুড়ানো পানীয়ের কিছু রেসিপি, গল্প আকারে। কাল না হয় নাস্তার ঝুড়ি নিয়ে হাজির হবো……….ততোক্ষণে আপনারা পরিকল্পনা করতে থাকুন, কেমন।

লেখক : নাজমা রহমান (রন্ধনবিদ), নির্বাহি পরিচালক, শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ স্কুল এন্ড কলেজ, রাজশাহী।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ