IMG-LOGO

রবিবার, ১৬ই আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
সদর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির পক্ষ থেকে ভূমিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছাকুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা-ভাঙচুরমহানগর বিএনপির দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিততানোরে নারী এনজিও কর্মীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় কর্মকর্তা আটকরাজশাহীর মোহনপুরে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন কৃষি সচিব সেলিম খাঁনতারাগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফলাফল প্রকাশ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতায় প্রশাসনের প্রতি বাড়ছে জনসাধারণের আস্থামাস্তুল ফাউন্ডেশন আত্মমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুমান্দায় মসজিদের ভেতরে মুসল্লিকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখমমহাদেবপুরে সাবেক উপজেলাচেয়ারম্যান মাসুদ গ্রেফতারসাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তমজন্মদিনে আমরা বিএনপি পরিবারের দোয়া ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণপুঠিয়া পৌরসভার উদ্যোগে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান পরিচালিতবাগমারায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, ধ্বংসফুলবাড়ীতে এনসিপির নেতা কর্তৃক মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনপোরশায় দেড় লাখ টাকার ট্যাপেন্টাডল ও মোটরসাইকেলসহ আটক-২চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাত সদস্যদের হামলায় তরকারি ব্যবসায়ী আহত
Home >> সাহিত্য >> নজরুলের দেশ প্রেম

নজরুলের দেশ প্রেম

ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্ভ্রান্ত মুসলিম কাজী পরিবারে ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানের আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। নজরুল এক সচেতন পরিবারের সদস্য। জন্ম তাঁর বাংলাতে। সুতরাং তাঁর মাতৃভাষাও বাংলা। আবার তিনি এক স্বাধীন দেশের জাতীয় কবি। দেশটি বাঙ্গালিদের দেশ এবং দেশীয় ভাষা বাংলা আর নাম বাংলাদেশ।

এবার আসা যাক নজরুলের দেশ প্রেম প্রসঙ্গে। যাঁরা নজরুল পাগল তাঁরা সবায় জানেন, গবেষকরা গবেষণা করে উপযুক্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জানান দিয়েছেন যে- নজরুল “প্রেমের কবি”। নজরুল প্রেমের কবি কথা এমনভাবে কাব্য প্রেমিদের মধ্যে বিদ্ধ হয়ে আছে যে, “বিদ্রোহী কবি’র পরেই নজরুলের নামের যে বিশেষণ আসে তা’হল “প্রেমের কবি”। এই প্রেমের কবি হতে পারে মানব প্রেমের, দেশ প্রেমের, প্রকৃতি প্রেমের, সাহিত্য প্রেমের ইত্যাদি।

নজরুলের জন্ম অবিভক্ত ভারত বর্ষে। জন্ম সূত্রে নজরুল ছিলেন ভারতীয়। আর ভারতে জন্ম নিয়ে দেখেন বিদেশী-বেনিয়া জোর-জবরদস্তি করে ভারত শাসন করছে। শাসনের পরিবর্তে শোষণটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। নজরুল আরও দেখেন, ইংরেজ বেনিয়াদের ভারতীয় কিছু পদলেহী কুকুর আছে, যারা ইংরেজদের পদধূলি গ্রহণের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে এবং তাদের দৈরাত্ব প্রয়োগ হতো স্বদেশী মানুষের উপর। এদের তাণ্ডবের শিকার কুলি মজুর এবং মুসলিম সমাজ। পরাধীনতার গ্লানি নজরুলের কাছে অসহনীয়। তাই দেশের মানুষগুলোর মানুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলার জন্য লিখতে লাগলেন ইংরেজ বিরোধী লেখা এবং পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্বাধীন চিন্তা ভাবনার উপর কবিতা।

ইংরেজ শাসন এবং ইংরেজদের শয়তানী মনোভাব নজরুলকে ক্ষীপ্তের গভীরতায় নিয়ে যায়। তাই তাঁর সাহিত্য উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন “এদেশ ছাড়বি কি না বল/ নইলে কিলের চোটে/ হাড় করিব জল”। পরাধীন ভারতে উক্ত ছন্মমালা উচ্চারণ করে ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি “বিষের বাঁশী” “ভাঙ্গার গান” “প্রলয় শিখা” ও “চন্দ্র বিন্দু” গ্রন্থগুলিতে ইংরেজ হঠানোর জন্য অগ্নি ঝরা কবিতা-গান প্রকাশ করে ভারতবাসীকে স্বাধীনতার আন্দোলনের জন্য কঠিনভাবে জাগিয়ে তোলেন। ভারতের তরুণ সমাজ নজরুলের কাব্যময় আহবানে অগ্নি শপথ করে সাড়া দিয়ে ছিল। কিন্তু ঐ “চামচার দল” ইংরেজদের দিয়ে নজরুলের এক দুই করে সাত সাতটি বই বাজেয়াপ্ত করে। নজরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে বন্দি করে আদালতে বিচারও করা হয়েছিল। এতো করেও তরুণদের নজরুল চ্যুত করতে পারেনি ইংরেজরা ও তাদের পেটুয়ারা। বরঞ্চ স্বাধীনতার আগুন আলো হয়ে জ্বলে উঠার পথ পেয়েছিল।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে নজরুল ভারতের বিভিন্ন ধর্মের মানুষগুলোকে জাগানোর জন্য এবং একত্রিত করার উদ্দেশ্যে গানে কবিতায় প্রবন্ধে গ্রল্পে প্রয়োজনে জোরে জোরে ধাক্কা মারার কথা বলেছেন। এতে সেই সময়ের কিছু তথকথিত বুদ্ধিজীবিরা নজরুলের বিরুদ্ধোচারণ করেন। কিছু মৌলভী কাফের, শয়তান, অমুসলিম, ইসলামের শত্রু ইত্যাদি অপ্রাপ্ত বাক্যবাণে নজরুলকে বিক্রিত করার চেষ্টা চালায়। আবার হিন্দু ইংরেজ পদলেহীরা ম্লেচ্ছ, ভারত বাংলার শত্রু বলে নজরুলকে তরুণ সমাজ থেকে আলাদা করার চেষ্টা করে। কিন্তু হিন্দু মুসলমানদের কোন বাক্যবাণই ভারতের তরুণ সমাজ ও নজরুলের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করতে পারেনি। তার বদলে নজরুল জোরালো করতে পেরেছেন মানুষের সাথে মানুষের আত্নিক বন্ধন-প্রেম-প্রীতির বন্ধন।

ভারতবাসীর মধ্যে দেশ-প্রেম সৃষ্টি করতে গিয়ে নজরুল যাদের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন তাদের সবায় বাংলা সাহিত্যের সাহিত্যিক ও সম্পাদক। হিন্দু আছে মুসলমানও আছে। নজরুলের অপরাধ ছিল বিশ্বকবি ররীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা করতে গা মেলাননি, দেশের আরও যারা গুণিজন ছিলেন তাঁরা যা করতে পারেননি, নজরুল তা করে কেন বাহাদুর বনে যাবে ? বাংলা ভাষা-ভাষীদের এ রকম বদ মানসিকতাই তো থাকার কথা। কোন দিন এ জাতি কারো ভাল কাজকে মেনে নিতে শিখেনি। তাই তাদের রক্তের ধারা মতে আদাজল খেয়ে উপকারীর ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠে।

“শনিবারের চিঠি” সাপ্তাহিক প্রকাশনা। শনিবারের চিঠি কি আদর্শ নিয়ে বাংলা সাহিত্যাসরে উদিত হয়েছিল তা জানা নেই। তবে পরবর্তীতে পত্রিকাটি নজরুলকে ব্যঙ্গ করার জন্য আদাজল খেয়ে কমরে গামছা বেঁধে লেগেছিল। নজরুলের কবিতা ও গান প্রকাশ পেলেই তার প্যারডি শনিবারের চিঠিতে প্রকাশ হত। আর এই প্যারডিগুলো লিখতেন বাংলা সাহিত্যের কিছু ঝানু সাহিত্যিক। ক’একটি উদাহরণ দেয়া হ’ল – নজরুলের “অ-নামিকা” কবিতার প্যারডি লিখলেন সজনীকান্ত দাস (১৯০০-১৯৬২)। তিনি কবি, সমালোচক, গবেষক ও সম্পাদক। প্যারডিটির নাম দিয়েছিলেন “অঙ্গুষ্ঠ”। প্যারডিতে কবির ছদ্মনাম ছিল গাজী আব্বাস বিটকেল। প্রথম ক’লাইন “তোমারে পেয়ার করি/ কপ্নি-লুঙ্গি পরি’/ লো তোমার কিশোরী ন্যতিনী/ সূদুর ভবিষ্য-লোকে নিশীথে নির্জন কুঞ্জে হে টোকা-ঘাতিনী, তোমারে পেয়ার করি/ (শনিবারের চিঠি, ভাদ্র, ১৩৩৪)। “কুলি-মজুর” কবিতার প্যারডি “নব-যুগান্তর” নাম দিয়ে লেখেন শ্রীসমাতন দেব শর্মা। “এস আজি ঘর ছাড়ি বিশ্ব ভরা তরুণ-তরুণী/ এস এক সাথে ভাসুর দেবর ভ্রাতৃ বধূ,/ শ্বশ্রু ও জামাতা,/ পথ হতে লয়ে এস যত মজুরাণী ——” (শনিবারের চিঠি, ভাদ্র, ১৩৩৪)। শনিবারের চিঠি-র নিয়মিত লেখক কবি ছিলেন-শ্রী মধুকর কুমার কাঞ্জিলাল, যোগানন্দ দাস, মোহিতলাল মজুমদার (১৮৮৮-১৯৫২), তিনি শ্রী সত্য সুন্দর দাস ছদ্ম নামে লিখতেন, সজনী কান্ত দাস (১৯০০-১৯৬২) লিখতেন শ্রী কেবল রাম গাজনদার জলসা ও শ্রী বটুকলাল ভট্টো ছদ্মনামে, নীরদ চন্দ্র চৌধুরী লিখতেন স্ত্রী বলাহক নন্দী ছদ্ম নামে। এরা ছিলেন নজরুল বিদ্বেষী। মুসলমান সাহিত্যকদের মধ্যে অনেকে ছিলেন নজরুলের লেখায় বিদ্রুপে মশগুল। তাঁদের মধ্যে “মুসাফির” পত্রিকার সম্পাদক ও “ইসলাম দর্শন” পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইদ্রিশ আলী (১৮৯৫-১৯৪৫)। তিনি নজরুলকে নিয়ে বিদ্রুপাত্নক লেখা লিখতেন আবু নূর ছদ্ম নামে। স্বনামে নজরুলের লেখার তীব্র সমালোচনা করেছেন গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪), সাপ্তাহিক “চাষী” পত্রিকার সম্পাদক মুজীবর রহমান খাঁ (১৮৮৯-১৯৬৯), মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) সহ আরও জ্ঞানি-গুনি মুসলমান নজরুলের নষ্ট সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন।

উপরোক্ত কর্মকান্ডগুলো ছিল নজরুলের দেশপ্রীতি, মানবপ্রীতির আকাশ চুম্বি সফলতাকে দুমড়ে-মুচড়ে শেষ করে দেয়ার পাঁয়তারা। অথবা নজরুলকে না বুঝে অহেতুন ঈর্ষান্বিত হয়ে নজরুলের প্রতি অবিচার করা। মহামানবদের জীবনীতে দেখা গেছে দেশের জন্য দশের জন্য ভালবেসে যদি কাজ করা হয়, তাহলে শত্রুর কোপানলে পড়তে হয়। শুধু ভালোবাসা বা প্রেমের কারণে নজরুলকেও সহ্য করতে হয়েছে জ্বালা-যন্ত্রণা। এসব জ্বালা-যন্ত্রণা সয়ে নজরুল ভালবেসেছে দেশকে ভালোবেসেছে দেশের মানুষকে।

নজরুলের মধ্যে দেশ প্রেম ছিল বলেই ইংরেজ তাঁকে জেলে বন্দি করেছিল। নজরুলের মধ্যে দেশ প্রেম ছিল বলে বাম রাজনৈতিক দল ইংরেজ তাড়ানোর কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। নজরুলের মধ্যে দেশ প্রেম ছিল বলে তাঁর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ পড়ে তরুণ সমাজ স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল আর নজরুলের মধ্যে দেশ প্রেম ছিল বলেই নজরুল এবং নজরুলের সাহিত্য সম্ভারের অকাল মৃত্যু ঘটেনি বরঞ্চ যুগ যুগ ধরে বেঁচে থেকে প্রেমের বাণী শুনিয়ে যাবে। দেশ প্রেমের কারণেই নজরুল সংবিধান স্বীকৃতহীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

যে যেভাবেই নিক বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অবস্থান নিজস্ব বলয়ে। যা কারো সঙ্গে তুলনা চলে না। নজরুলের তুলনা নজরুল। আমার বয়সে অনেকের লেখা পড়েছি। অনেক কবি সাহিত্যিকদের সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু কারো রচনায় দিলখোলা-প্রাণখোলা দেশ প্রেমের কথা পাইনি বা যাঁদের সান্নিধ্যে গিয়ে আলাপচারিতার সুযোগ পেয়েছিলাম তাঁদের মাঝেও অকাট্য দেশ পেমের নিশানা খুঁজে পাইনি। সব যেন মেকি। কিন্তু নজরুল ! নজরুল বিস্ময়। তাঁর গলার স্বর গানের জন্য নয়। কিন্তু তাঁর স্বরে ছিল দরদ ও আবেগ যা মুগ্ধ করতো সবাইকে। তাঁর প্রেম- দেশপ্রেম ঠিক তাই। কোন মেকি ভালবাসা নজরুলের ছিল না। তাই অদেখা নজরুলকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে- এস নজরুল এস আবার/ ফোটাও ভাই প্রেমের ফুল,/ মেকি প্রেমকে কাব্যজলে/ ভাসিয়ে দাও নজরুল।
লেখক : মুকুল কেশরী, কেশরহাট, মোহনপুর, রাজশাহী-৬২২০।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031