ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন খড়খড়ি বাইপাস উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নির্মাণাধীন বসতবাড়ির টয়লেট জোরপূর্বক ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নগরের মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নগরের একটি রেস্টুরেন্টের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এসব কথা বলেন রাজিয়া সুলতানা নামের এক ভুক্তভোগী নারী। অভিযুক্তরা হলেন—খড়খড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রমজান আলী (৫৫) এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ মোবাশের হোসেন (৪৫)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজিয়া সুলতানা শেলী জানান, তিনি মতিহার থানার ললিতাহার এলাকার মোঃ জামাল উদ্দিনের স্ত্রী। খড়খড়ি বাইপাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন নিজ জায়গায় তিনি একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। শুরুতে প্রধান শিক্ষক বাধা দিলে ও পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে, প্রশাসন থেকে সরকারি সার্ভেয়ার পাঠানো হয়। গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে সরকারি সার্ভেয়ার উভয় পক্ষ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। সে সময় উভয় পক্ষ তা মেনে নেয় এবং কাগজে স্বাক্ষর করে।
সীমানা পুনর্র্নিধারণের পর গৃহনির্মাণ ও টয়লেটের কাজ চলাকালে শিক্ষক বা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু কাজ শেষ হতেই গত ৪ অক্টোবর (রোববার) বেলা ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক রমজান আলী ও সহকারী শিক্ষক মোবাশের হোসেন ঘটনাস্থলে যান। রমজান আলী ফোনে দাবি করেন, তাদের স্কুলের নাকি এখনো ৫ ফুট জায়গা পাওনা রয়েছে। রাজিয়া সুলতানা সার্ভেয়ারের মাপজোখের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই বিবাদীরা জোরপূর্বক নির্মিত টয়লেটের ইটের দেয়াল ভেঙে ফেলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রধান শিক্ষক রমজান আলী ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ক্ষতি সাধন করছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মতিহার থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও এজাহার দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, আমার নির্মাণাধীন টয়লেট অগ্রিম কোনো নোটিশ ছাড়াই ভেঙ্গে ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনী। যদি স্কুলের জমির মধ্যে সেই টয়লেট হয়ে থাকে তাহলে আমাকে জানানো যেত। যদি স্কুল মেপে সেই জমি পায় তাহলে আমি নিজেই ভেঙ্গে নিবো। কিন্ত তারা কেনো জোরপূর্বক ভাঙ্গলো? স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী ও সহকারী শিক্ষক এবং এনসিপি নেতা মোবাশ্বের হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ কাজ করেছে। “বিবাদীদের ক্রমাগত অত্যাচার ও হেনস্তায় আমি চরম অসুস্থ ও নিরুপায় হয়ে পড়েছি। প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আমি এই অন্যায় ও ক্ষতির সুষ্ঠু ও ন্যায্য বিচার দাবি করছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খড়খড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও এনপি নেতা মোবাশ্বের হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আমার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সঠিক নয়। স্কুলেরর জমিতে তিনি টয়লেট নির্মাণ করেছেন। তাকে বিষয়টি ফোনে জানালে তিনি নিজেই বলেন, যদি স্কুলের জায়গার মধ্যে পড়ে তাহলে ভেঙ্গে ফেলেন কোনো সমস্যা। এখন আবার তিনি অভিযোগ করেছেন। মেপে তিনি জায়গা পাবেন না।



