IMG-LOGO

মঙ্গলবার, ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
রাণীনগরে গণছিনতাইয়ের ঘটনায় ২জন গ্রেফতার, হাসুয়া, মোবাইল-টাকা উদ্ধারদলের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা-চাঁদাবাজি- দখলদারিত্ব করলে দলে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে: এমপি চাঁদচাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১ ককটেল উদ্ধার, উদ্ধারের সময় একটি ককটেল বিস্ফোরণচারঘাটে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও ট্রাকসহ গ্রেফতার ২বাগমারার সোনাডাঙ্গা ইউনিয়নে এমপি ডাঃ আব্দুল বারীর গণসংযোগ ও পথসভাচাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৩টি টিয়া পাখি অবমুক্ত করেছে সদর উপজেলা প্রশাসনমহাদেবপুরে তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ অর্থায়ন কর্মসূচি প্রচার কার্যক্রম বিষয়ক আলোচনা সভাকৃষকের নিরাপত্তায় উথরাইল বিলে নির্মিত হলো সেডসিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু সহ মশাবাহিত প্রতিরোধে সমন্বয় কমিটি’র সভাকুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই আসামির জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশচাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভারাণীনগর যুবদলের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় জোর দেওয়ার তাগিদ রাষ্ট্রপতিররাণীনগরের মোজাফ্ফরকে “ভুয়া কাজী“ আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলনমহাদেবপুরে কাজী হামিদুল হকের পৈত্রিকসম্পত্তি দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
Home >> রাজশাহী >> লিড নিউজ >> রাজশাহীতে আবাদি জমিতে প্লট বানিয়ে বিক্রি, হুমকির মুখে কৃষিখাত

রাজশাহীতে আবাদি জমিতে প্লট বানিয়ে বিক্রি, হুমকির মুখে কৃষিখাত

ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহীতে একের পর এক কৃষি জমির উপর খড়ক ঝুলানো হচ্ছে। এক দিকে অপরিকল্পীতভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন হচ্ছে, অন্যদিকে শুরু হয়েছে কৃষি জমি প্লট আকারে বিক্রি। দুই মিলে এখন কৃষি জমি ও কৃষি হুমকির মুখে। কৃষি জমির উপর কালো থাবার জন্য কমেছে ফসল উৎপাদন। দেখা দিতে শুরু করেছে খাদ্য ঘাটতি। রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এক সময় খাদ্যের ভাণ্ডার হিসাবে খ্যাত ছিল। কিন্তু এখন খাদ্য সংকটের বেড়াজালে বন্দি। শুধু সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে রাজশাহীতে গত ১০ বছরে কৃষি জমি কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর। বর্তমান কৃষি জমির উপর যে কালো থাবা পড়েছে তাতে আগামী ৫ বছর পর কৃষি জমি আরও ৫ হাজার হেক্টর কমে আসবে এমনটাই মনে করছে কৃষি বিভাগ। একের পর এক কৃষি জমির উপর প্রভাব ফেলানো হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বলছে তাদের বিষয়টি জানা নেই, সাথে কিছু করারও নেই।

জানা গেছে, গত ২০১২ সাল থেকে রাজশাহীতে অপরিকল্পীতভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন শুরু হয়। মাত্র ১২ বছরের বছরের ব্যাবধানে এখন রাজশাহীতে এতোটাই পুকুর খনন হয়েছে যার হিসাব জেলা প্রমাসন তো দূরের কথা, খোদ মৎস বিভাগেও নেই। কখনো বোরো ধানের জমিতে, আবার কখনো বন উজাড় করে, আবার কখনো উঁচু জমি নিচু করে খনন করা হয়েছে এসব পুকুর। এতে বোরো ধানের জমি দশ বছর আগে যা ছিল তার চেয়ে অনেক কমে এসেছে। যা কৃষির উপর হুমকি বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। অপরিকল্পীতভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খননের পর এবার শুরু হয়েছে অপরিকল্পীতভাবে প্লট আকারে জমি বিক্রি। রাজশাহী নগরী থেকে গোদাগাড়ী পর্যন্ত রাস্তার দুই ধার, কাশিয়াডাঙ্গা থেকে দারুশা হয়ে কাকনহাট, নওহাটা থেকে মোহনপুর, বিনোদপুর থেকে পুঠিয়ার রাস্তার দুধারের জমি এখন প্লট হিসাবে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি সাধারণ দামে এসব জমি ক্রয় করেছেন। এরপর তারা প্লট আকারে বেশি দামে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে রাজাবাড়ি হয়ে গোদাগাড়ী পর্যন্ত রাস্তার দুধারে প্লট আকারে বিক্রি করা জমির পরিমান বেশি।

দেখা গেছে, কৃষকদের এসব কৃষি জমি কম দামে কিনেছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। এখন প্লটের আকার দিয়ে এসব জমি বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণতো রাস্তার ধারের জমির মূল্য বেশি। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে খোদ কৃষকরাও তাদের জমি সামান্য উচু করে প্লট বানিয়ে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছেন। খাল বিলের মধ্যে কৃষি জমি প্লটের আকার দেয়া হয়েছে। সাধারণ তো কৃষি জমি দেড় থেকে দুই লাখ কাঠায় বিক্রি হয়। আর প্লট আকারে বিক্রি করলে এই জমির দাম উঠে সাড়ে তিন লাখ থেকে প্রায় চার লাখ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পবার দামকুড়া হতে কাকনহাট রোড়ে একটি কৃষি জমি সামান্য ভরাট করে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়েছেন বাদশা ও আলেফ নামে দুই ব্যক্তি। এই জমির দুপাশে কৃষকরা শরিষা, গমসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন। জমির দাবিদার বাদশা ও আলেফ ওই কৃষি জমিতে লম্বা করে দুধারে ইট দিয়ে একটি সীমানা তৈরি করেছেন। মধ্যখানে রাস্তার জন্য জায়গা করা হয়েছে। জমির মধ্যে খন্ডখন্ড করে প্লট বানানো হয়েছে। প্লট বানিয়ে তা বিক্রি করা হবে বলে ব্যানার বসানো হয়েছে। কৃষি জমিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এসব প্লটের আশপাশে কোনো বাড়ি ঘর নেই। এমন জনশূণ্য এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য প্লট করে বিক্রি হচ্ছে কৃষি জমি। আবার দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় প্লট করা জমি বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। বিক্রিও হয় না। এমনকি কৃষি কাজেও ব্যবহার হয় না।

কৃষি জমি প্লট আকারে বিক্রি করা পবার দারুশার আলেফ বলেন, জমিগুলো কৃষি হলেও তারা ভরাট করে এখন প্লট আকারে বিক্রি করছেন। জমিগুলো তার নিজের। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্লট তিনি বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান জমি বিক্রির পর তা কৃষি জমি বলেই রেজিষ্ট্রি করা হচ্ছে। পরে ক্রেতা সেটি বসতবাড়ি হিসাবে শ্রেণি পরিবর্তন করে নিতে হবে বলে জানান।

কৃষি জমিতে প্লট কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমি, আমি বিক্রি করবো, কিভাবে বিক্রি করবো সেটা আমার বেপার।

রাজাবাড়ি এলাকায় কৃষি জমিতে প্লট করা ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোতিক্রমেই আমরা জমিগুলো প্লট আকারে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। ভূমি অফিসকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। মূলত উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা কৃষি জমি প্লট আকারে বিক্রি করছেন বলেও মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, রাজশাহী আরডিএ কর্তৃপক্ষ নগর পরিকল্পনায় জমিকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে কৃষি, রয়েছে বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা। আরো বলা হয়েছে কৃষি জমি আবাসিক হিসাবে বা শিল্প কলকারখানা স্থাপন করা যাবে না। এমনকি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এখন কৃষি জমি আবাসিকভাবে হরহামেশায় প্লট আকারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ জেলা বা উপজেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগর পরিকল্পক আজমেরি আফসারী জানান, আমরা নগর পরিকল্পনায় যেসব এলাকা চিহ্নিত করেছি তার বাইরে কৃষি জমিকে কেউ প্লট আকার বিক্রি করলে সেটি সম্পুর্ন অবৈধ। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি কেউ কৃষি জমিতে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে তাহলে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি গত কয়েকদিন আগে গোদাগাড়ীতে যাওয়ার সময় দেখেছি। রাস্তার ধারে কৃষি জমি প্লট আকারে বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এভাবে প্লট আকারে কৃষি জমি বিক্রি করা অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক নিদের্শ দিয়েছেন।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক মাজাহার হোসেন জানান, কৃষি জমিতে প্লট বা পুকুর খনন করা হলেও আমরা জানতে পারি না। এমনকি কেউ কৃষি অফিসে অভিযোগও করে না। আবার জানলেও আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ কৃষকের জমি সে কিভাবে বিক্রি করবে সেটা তার ব্যাপার।

কৃষি বিভাগের কোনো দায়বদ্ধতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কৃষি অফিসের কোনো করণীয় নেই।

রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও আল-আকসা ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ.স.ম মিজানুর রহমান কাজি বলেন, রাজশাহীতে এমনিতেই খাদ্য ঘাটতি চলছে। দশ বছর আগে চালের কেজি ছিল ৫০ টাকার নিচে। কিন্তু এখন উঠে গেছে ৭০টাকায়। কৃষি জমির উপর একেরপর এক কালো থাবার কারণে মূলত এটি হয়েছে। ভবন করার জন্য নির্ধারিত আবাসিক স্থান রয়েছে। তাহলে কৃষি জমি কেনো প্লট আকারে বিক্রি করা হবে? এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া ও সংশ্লিষ্টদের সজাগ হওয়ার দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031