ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং গণমানুষের প্রতিরোধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এই জাদুঘর উদ্বোধন করেন।
বুধবার সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এর উদ্বোধন করেন।
এ সময় সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করেন।
আজ জাদুঘর বিশেষ অতিথি ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলির জীবন্ত দলিল হিসেবে পুনর্নির্মিত হয়েছে এই স্থাপনা। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, শহীদদের ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত নানা উপকরণ, সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র এবং ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
দর্শনার্থীরা গ্যালারি ঘুরে দেখতে পারবেন কীভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ধাপে ধাপে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, কীভাবে মানুষ জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল এবং কীভাবে সেই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে ওই সময়ের আবেগ, সংগ্রাম, বেদনা ও বিজয়ের ইতিহাস।
ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই জাদুঘর, যা বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



