ধূমকেতু প্রতিবেদক,সিরাজগঞ্জ : আত্ম প্রতিষ্ঠিত নাট্যকর্মীই নাট্য আন্দোলনের মূলশক্তি” এই প্রতিপাদ্য শ্লোগানকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যুক্ত হলো নতুন সম্ভাবনা ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন নাট্যলোক সিরাজগঞ্জের এটি তথা উত্তর বাংলার প্রথম স্টুডিও থিয়েটার হল নির্মিত হল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় এস এস রোডে নাট্য লোক সভাপতি মমিন বাবুর বাড়িতে নাট্যলোক স্টুডিও থিয়েটারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচছা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নাট্যলোকের কর্ণধার বিশিষ্ট নাট্য ব্যাক্তিত্ব মমিন বাবু। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে স্টুডিও থিয়েটার হল’ এর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এঁর উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা বাংলাদেশের প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যলোকের উপদেষ্টা ও সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে নাটক মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় শাহানা মনির নির্দেশনায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিশুতোষ নাটক “পুতুলের বিয়ে”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নাট্যলোকের কর্ণধার বিশিষ্ট নাট্য ব্যাক্তিত্ব মমিন বাবু বলেন, আজকের এ স্টুডিও থিয়েটার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আপনারা এসেছেন আপনাদেরকে আমার অন্তরে অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ প্রকৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমাদের মফস্বল শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই স্টুডিও থিয়েটার জাগাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। কেননা, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমরা নাট্যলোক বহু নাটক বিগত সময়ে মঞ্চে নাটক মঞ্চায়ন করেছি। আমাদের নাটক বেশ ঘটনাবহুল রয়েছে।
বিশেষ করে মঞ্চ নাটকের ক্ষেত্রে। নতুন নাটক নিঃসন্দেহে থিয়েটার চর্চায় গতির সঞ্চার করে। আজকে আমরা আমাদের নাট্যলোকের নিজস্ব উত্তর বাংলার প্রথম স্টুডিও থিয়েটার হল নির্মাণ করেছি শুধু নাটকের জন্য এ উদ্যাগ , আমাদের ছোট একটি অনুষ্ঠান বা ছোট নাটক মঞ্চায়ন করতে একটি অডিটোরিয়ামের প্রয়োজন হয়। যেখানে নাটক মঞ্চায়িত হয় কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অডিটোরিয়াম ভাড়া নিতে হলে গুনতে হয় অনেক টাকা। সে ক্ষেত্রে কোন নাটকে মঞ্চায়ন করা সম্ভব হয়না। সে ক্ষেত্রে আমাদের এই স্টুডিও থিয়েটার হল । স্টুডিও থিয়েটার হল আমরা অনেক নাটক ও অনুষ্ঠান করতে পারবো। এবং নাটকের মহুড়া দিতে পারবো।
এতে আমরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সকলে খুবই আনন্দিত। তেমনি আমাদের মফস্বলে মঞ্চ নাটকে সারাদেশের থিয়েটার অঙ্গন গত কয়েক বছরে আগে নতুন নাটকের কলধ্বনিতে ছিল মুখরিত। আমাদের সিরাজগঞ্জে নাট্যদলগুলোর পুরনো দর্শকনন্দিত প্রযোজনাগুলো তো ছিলই। আবার নিয়মিত নাট্য-প্রদর্শনীর পাশাপাশি ছিল উৎসবসহ বিশেষ ও ব্যতিক্রমী কিছু আয়োজন।
একইভাবে দেশের মফস্বল অঞ্চলের অনেক থিয়েটার সংগঠনও এবার নতুন নাটকে মঞ্চ রাঙিয়েছে। মূলধারার নাট্যদলগুলো নতুন নাটক মঞ্চে আনার পরিসংখ্যানে নিঃসন্দেহে ফেলে আসা বছরে মঞ্চে আসা নতুন নাটকের সংখ্যা ছিল অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি। অবশ্য, বিষয়-বৈচিত্র্যতা ও শৈল্পিক পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে এসব নাটকের অধিকাংশই কতটা মানসম্মত সে প্রশ্ন থেকেই যায়।উল্লেখ্য ঃ মফস্বল শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই স্টুডিও থিয়েটার জাগাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। নতুন এই স্টুডিও থিয়েটারে নিয়মিত নাটকের মহড়া, কর্মশালা, নাটা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আমার সুবোধ তাহলে । পাশাপাশি করুণ ও নবীন নাট্যকর্মীদের সৃজনশীলতা বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিক রাখবে।



