ধূমকেতু প্রতিবেদক,গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীদের মাঝে নানামুখী সরকারি সহায়তা বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ১০৯টি বাইসাইকেল, ৭২৬টি শিক্ষাবৃত্তি এবং ২২টি গৃহের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ৭৩টি সেলাই মেশিন এবং এডিপির অর্থায়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
একই সাথে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিয়ার মানিকচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে স্কুল ব্যাগ, ড্রেস ও জুতা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে বিতরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন মিয়া এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিতরণ সভা শেষে দুপুর ২টায় গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১২০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসককে স্বাগত জানান কলেজের অধ্যক্ষ মাইনুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটায় গোদাগাড়ী পৌরসভা পরিদর্শন করেন এবং পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান এবং ভারপ্রাপ্ত পৌর সচিব সারওয়ার জাহান মুকুলসহ পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়, তাই গোদাগাড়ীকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য সফল করতে শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের পোশাক, ব্যাগ, জুতা ও বৃত্তি দিচ্ছে—এখন শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে।”



