ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত গৃহবধু রিনা আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ সময় হামলাকারীরা বসতবাড়ির দরজা-জানালা ভাংচুরসহ ওই গৃহবধুর মোবাইল ফোন ও গলায় থাকা সোনার চেন লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারলেও সোনার চেনটি উদ্ধার করতে পারেননি। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের ফরমানপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ফরমানপুর গ্রামের মৃত করিম মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম আদালতে একটি মামলা করেন। এদিন বিকালে থানা পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতিপক্ষকে আদালতের নোটিশ দিতে যান।
এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই ফরমানপুর গ্রামের দছির উদ্দীনের ছেলে সফিজ উদ্দিন কিনা (৫২), তার দুই ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিলন (৩২) ও রেজওয়ান (২০), সফিজ উদ্দীনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৮) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মিলনের স্ত্রী মোছাঃ কারিমা (২৫) দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভাংচুর করে। এ সময় তাদের মারপিটে জাহাঙ্গীর আলমের ভাই ওবাইদুল হক ও ওবাইদুল হকের স্ত্রী রিনা আক্তার গুরুতর আহত হন।
মারপিটের সময় তারা ওই গৃহবধুর জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং গলা থেকে ৮ আনা ওজনের সোনার চেন ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। ঘটনার সময় মহাদেবপুর থানার এএসআই আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করলেও সোনার চেনটি উদ্ধার করতে পারেননি পুলিশ।
এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানার এএসআই আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আদালতের নোটিশ পৌঁছে দিতে সেখানে যান। নোটিশ পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে মারপিটের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন, মোবাইল ফোনটি তারা ফিরিয়ে দিলেও চেন নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। মহাদেবপুর থানার (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#



