ধূমকেতু প্রতিবেদক,ফুলবাড়ী : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬১২ জন শিক্ষকের পে-প্রেসক্রিপশন-সংক্রান্ত কাজের কথা বলে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ হিসাবে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকা উত্তোলনের কথা থাকলেও ওই অর্থ কে নিয়ন্ত্রণ করছেন, কী খাতে ব্যয় হয়েছে এবং অবশিষ্ট টাকা কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পে-প্রেসক্রিপশনের কাজ অনলাইনে সম্পন্ন করতে বিশেষ ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করতে হবে—এমন কথা বলে শিক্ষক সমিতির নাম ব্যবহার করে শিক্ষকদের কাছ থেকে এ টাকা নেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকেরা নিজেরাই অনলাইনে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো অনৈতিক আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। সমিতির নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে তাঁকে না জানিয়েও তা করা হতে পারে। তবে তিনি এর বিরোধিতা করেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দলদলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম জানান, শিক্ষকদের কাজ সহজ করতে অনলাইন খরচ ও নাশতার জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে উত্তোলিত অর্থ বর্তমানে কার কাছে রয়েছে, কীভাবে ব্যয় হয়েছে কিংবা কত টাকা অবশিষ্ট আছে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দিবস পালন ও বই বিতরণসহ নানা উপলক্ষেও বিদ্যালয়প্রতি টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এসব অর্থ কোথায় এবং কোন খাতে ব্যয় করা হয়, তা তাঁরা জানতে পারেন না।
শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষক সমিতির কিছু নেতা নিয়মিত পাঠদান না করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের আশপাশে সময় কাটান। তাঁদের দাবি, সমিতির নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেননি।
শিক্ষকদের কাছ থেকে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণ, ব্যয়ের হিসাব এবং অবশিষ্ট অর্থের অবস্থান নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি উঠেছে।



