IMG-LOGO

শনিবার, ৭ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
৭ নভেম্বর‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’আজমানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরটেকনাফের পাহাড়ে ৩ মরদেহ, উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযানতানোরে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টে ক্যাটেল ফার্মে আমেরিকান ব্রাহামা প্রজননের উদ্বোধনমহাদেবপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থী নাসিমেরমহাদেবপুরে আদিবাসী যুব সমাজের উদ্যোগে ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্টবাঘায় নকল ও ভেজাল সাপ্লিমেন্টের কারখানা, জব্দকৃত ২ কোটি টাকার পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংসপরিবেশ রক্ষা ও পাখির নিরাপদ আবাস গড়তে বটগাছ রোপণ করে চলেছেন পরিবেশকর্মী মাহবুবুল ইসলাম পলাশসিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির উদ্যোগে বর্ধিত সভাধামইরহাট-পত্নীতলায় কোন চাঁদাবাজি চলবেনা চাঁদা চাইলেই বেধে রাখবেন-এনামুল হক এম.পিসিরাজগঞ্জে জমকালো আয়োজনে ‘দুবাই ডানিয়াল স্টার রেস্টুরেন্টের’উদ্বোধনমান্দায় জমি নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের মারধরে নারীসহ আহত ৩ফুলবাড়ী আল আকসা মডেল মাদরাসায় মা সমাবেশ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর নিয়ে সরকার ইতিবাচক’সোনামসজিদ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ অব্যাহত, আটকা ৫০০ ট্রাক
Home >> টপ নিউজ >> রাজশাহী >> বাঘায় নকল ও ভেজাল সাপ্লিমেন্টের কারখানা, জব্দকৃত ২ কোটি টাকার পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংস

বাঘায় নকল ও ভেজাল সাপ্লিমেন্টের কারখানা, জব্দকৃত ২ কোটি টাকার পণ্য পুড়িয়ে ধ্বংস

ধূমকেতু প্রতিবেদক, আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা : বাঘা আড়ানী সড়ক সংলগ্ন তালাবদ্ধ ঘর বাইরে থেকে বোঝার উপায় নাই ঘরের ভিতরে নকল ভেজাল পণ্য তৈরি হয়। একটি মামলার সুত্র ধরে অনুসন্ধানে প্রকাশ্যে আসে নকল ভেজাল তৈরির কারখানা।

দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাজ্য, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নামি-দামি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড নকল করে ভেজাল ফুড সাপ্লিমেন্ট তৈরি হতো  রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাঘা ফায়ার সার্ভিসের পাশে বাঘা-আড়ানী সড়কের পাশে চক বাউসা  গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে। বাজারজাত করণের জন্য আরেকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয় একই ইউনিয়নের বাউসা হেদাতীপাড়া গ্ৰামের ফাঁকা জায়গায়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর অভিযান চালিয়ে জব্দ করা প্রায় দুই ট্রাক পণ্য ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। 

অভিযানে যা পাওয়া গেল: বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যার নেতৃত্বে রাজশাহী ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জেলা তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল এবং বাঘা থানা-পুলিশের সহায়তায় কারখানাটিতে অভিযান চলছে। তালা খুলে ভেতর থেকে তৈরি পণ্য, ঔষধ তৈরির যন্তপাতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় দুই ট্রাক পণ্য ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মেহেদী আফজাল জানান, চক্রটি বিদেশি ব্র্যান্ড নকল করে ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে এসব পণ্য তৈরি করছিল। প্রতিটি প্যাকেটের দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। কারখানায় পাওয়া ‘কারকুমা’ নামের একটি প্যাকেটের দাম ২ হাজার ১৭০ টাকা, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা একটি পণ্যের দাম ২ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং মালয়েশিয়ার নাম ব্যবহার করা আরেকটি পণ্যের দাম ২ হাজার ২৯০ টাকা লেখা রয়েছে। এসব পণ্য মূলত অনলাইনে বিক্রি করা হতো। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পাঠানো হতো। অভিযানে কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্যাকেটও জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান বিষয়টি ভোক্তা অধিকত দপ্তরের আওতাভুক্ত। তাই তারা বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা করতে পারেন না । 

তবে ট্যাবলেট তৈরির একটি যন্ত্র ভারির কারণে না সরিয়ে যন্ত্রটি অকেজো করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবারের অভিযান আর ১ লাখ টাকার রহস্য: এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার বনানী থানার পুলিশের একটি দল স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ওই কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় ৭ জনকে ধরে আনা হয়।

বনানী থানার পুলিশ ‘কারকুমা’ নামের একটি পণ্যের অভিযোগের সূত্র ধরে সেখানে গিয়েছিল। কারখানায় পাওয়া ওই নামের সব পণ্য তারা জব্দ করে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত ২ জনকে বনানী থানার পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবেসহকারী কমিশনার  তাঁদের নাম জানাতে পারেননি । তবে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত সুত্র বলছে ওই দুই জনের একজনের নাম মজিবর অপরজনের নাম সুমন। তাদের বাড়ি নাটোর এলাকায়।

বাকি ৯ জনের মধ্যে ৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য ৪ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।জরিমানার রশিদে স্বাক্ষর করেন চারঘাটের ভায়ালক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু সৈয়দ হোসেনের ছেলে খালিদ হাসান।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ধারায় তাঁকে জরিমানা করা হয়। সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকুল গ্রামের শ্রমিক দিলু মিয়া ও হাসমত। কারখানার মূল মালিককে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা।

কিন্তু জরিমানার ১ লাখ টাকা কে দিল, কার পকেট থেকে এলো – সে বিষয়ে রহস্যজনকভাবে কেউ কোনো তথ্য দেননি।  অন্য শ্রমিকদের নাম শাহাপরান, হৃদয়, সাইফুল, শাহাজালাল, মিলন ও শফিকুল। তাঁদের সবার বাড়ি নাটোরে বলে জানা গেছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ এই কারবারের সঙ্গে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী জড়িত রয়েছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ঘটনা আড়াল করে পুলিশসহ কয়েকজন ফায়দা লুটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বুধবার রাতে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। তার নাম জানা গেলেও যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তথ্য সংরক্ষিত আছে।

স্থানীয়রা জানান, বাইরে থেকে কারখানাটি সব সময় তালাবদ্ধ দেখা যেত। ধারণা করা হচ্ছে, পেছনের একটি দরজা দিয়ে লোকজন যাতায়াত করতেন। ভেতরে শোয়ার খাট, খাবারের থালাবাসন, এমনকি পানির নলকূপও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সেখানেই শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।

বাড়ি ভাড়া নিয়ে কারবার, মালিক লাপাত্তা: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়ির মালিক হায়দার আলী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তাঁর ভাই শামীম ও মা রিনা বেগম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোর এলাকার রেজাউল করিম মাসিক আট হাজার টাকা ভাড়ায় বাড়িটি নেন। রেজাউল করিম ‘নাটোর ভেষজ মার্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি জমা দিয়েছিলেন, যার মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত। ট্রেড লাইসেন্সের তথ্য মতে রেজাউল করিমের বাড়ি নাটোরের সদর উপজেলার ৪নম্বর লক্ষীপুর খোসাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর খোসা বাড়িয়া গ্ৰামে। ট্রেড লাইসেন্সে দেওয়া ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ২০০ টাকার ট্রেড লাইসেন্স ফি ও ১ হাজার টাকা করে দিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ আয়ে ব্যবসা করেন।

মাসিক ৩ টাকা চুক্তিতে উপজেলার বাউসা হেদাতীপাড়া গ্রামে আরেকটি বাসা ভাড়া নিয়েছেন গ্ৰামের রেজাউলের কাছ থেকে। রেজাউলের বোন রোজিনা এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, তার ভাই ঢাকায় থাকে। তবে ভাড়ার কোন লিখিত দলিল নেই। ভাড়ার টাকা বিকাশে পরিশোধ করেন।

প্রশ্ন থেকেই যায়: দুই কোটি টাকার পণ্য, ১ লাখ টাকা জরিমানা, আর মূল মালিক ধরাছোঁয়ার বাইরে – এই অভিযান কি আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা? কেন ৪ জনের জরিমানার টাকা কে দিল তা প্রকাশ করা হলো না? যে ঘর ভাড়া নিয়ে এই কারবার করছিল, তার নামই বা কেন সামনে আসছে না? প্রতারণা করে মানুষের ক্ষতি করে টাকা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর কেনইবা জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শ্রমিক ধরে আর পণ্য পুড়িয়ে এই চক্র বন্ধ হবে না। এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের গ্রেফতার করে নিয়মিত মামলা করতে হবে, নইলে বাঘা আবারও ভেজালের নিরাপদ স্বর্গ হয়ে উঠবে। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার কথা শুনেছি। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই ব্যক্তির  খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কোন পুলিশ সদস্য টাকা নেওয়ার সাথে জড়িত নয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মামলা করতে চাইলে মামলা নেওয়া

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31