IMG-LOGO

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২ই রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
মহাদেবপুরে আত্রাই নদীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণসিংড়ায় শোলাকুড়া মাদ্রাসা মসজিদের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আনুসকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের পাশে থাকার বার্তা এমপি মোশারফ হোসেনেরনৈতিক ও আধুনিক শিক্ষার মানদন্ডে মাদ্রাসা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম -আনু এমপিফুলবাড়ীতে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পলিতদুর্গাপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান নিয়ে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদরহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজে অভিভাবক সমাবেশবাগমারায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতপার্কে পরকীয়া প্রেমিক যুগলের বিষপান, হাসপাতালে ভর্তিনিয়ামতপুরে বাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষ, গ্রেপ্তার ১তানোরে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর শুভ উদ্বোধনচলনবিল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দূষণ রোধে ডাস্টবিন সরবরাহহারিয়ে যাওয়া ১২৫টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিলেন আরএমপি পুলিশ কমিশনারনিয়ামতপুরে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের গলায় ছুরি ধরে হত্যা চেষ্টার অভিযোগরাণীনগরে ২লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল আগুনে পুরে ভস্মিভূত
Home >> কৃষি >> বিশেষ নিউজ >> স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের প্রথম পছন্দের আম লক্ষণভোগ

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের প্রথম পছন্দের আম লক্ষণভোগ

ধূমকেতু প্রতিবেদক, (বিশেষ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চলছে ফলের রাজা আমের ভরা মৌসুম। সবাই যখন আমের সুমিষ্ট আমের স্বাদে মজে থাকবেন, তখন ডায়াবেটিস রোগীরা নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আনেকটা ভাবেন।

আমে থাকা সুগারের জন্য খাওয়া বাদ দিয়ে এড়িয়ে চলতে চান তারা। তাই বলে কি আম খাওয়া বাদ দেয়া যায়? আর তাই সুমিষ্ট আমের স্বাদ নিতে বিকল্প খুঁজে বের করেছেন ডায়াবেটিস রোগীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে ডায়াবেটিস রোগীরা ঝুঁকছেন বারি-২ বা লক্ষণভোগ আমের দিকে। অন্যান্য আমের তুলনায় কম মিষ্টি বা সুগারের পরিমাণ কম, দেখতে ও গন্ধে খুব ভালো হওয়ায় স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে প্রথম পছন্দ এখন লক্ষণভোগ আম।

অন্যদিকে, বাজারে গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি আমের মিষ্টতা বেশি থাকায় সাধারণত ডায়াবেটিকস রোগীরা এসব আম খাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। অপরদিকে লক্ষণভোগ আমে রং, আকৃতি, গুণ ও স্বাদ তুলনামূলক ভালো এবং মিষ্টতা কম। তাই অনেকেই এখন লক্ষণভোগ আমকে ডায়াবেটিস আম বলেও ডাকেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, আমের সুগার প্রাকৃতিক হলেও বেশি খাওয়া উচিত নয়। এটি রক্তের সুগার লেভেলের জন্য ক্ষতিকর। গ্লুকোজ লেভেলেও প্রভাব ফেলে।

আম গবেষকদের মতে, লক্ষ্মণভোগ আম হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা থেকে আসা আমের একটি জাত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বপ্রথম লক্ষ্মণ ভোগ আম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকারক জাত হিসাবে বেছে নিয়েছিল। তাই মালদায় লক্ষণভোগকে সেখানকার শ্রেষ্ঠ আমের জাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এমনকি ভারতের জাতীয় আম উৎসবে সেরা আম হিসেবেও স্বীকৃতি পায় লক্ষণভোগ।

মালদার পার্শ্ববর্তী এলাকা ও বাংলাদেশের আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও চাষকৃত আমের কয়েকটি প্রধান জাতের মধ্যে রয়েছে লক্ষণভোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয়ভাবে লক্ষণভোগ আম লখনা নামেই বেশি পরিচিত। জেলার সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষণভোগ আমের গাছ রয়েছে। তবে কি পরিমাণ জমিতে লক্ষণভোগের চাষাবাদ হয়েছে, এবিষয়ে কোন তথ্য নেই কৃষি বিভাগের কাছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার প্রফেসরপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ষার্টোর্ধ্ব আব্দুর রশিদ বলেন, গত ১০-১২ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি। নিজের বাগানের প্রচুর আম বাড়িতে নষ্ট হয়। খেতে পারি না, ডায়াবেটিসের ভয়ে। তবে এক ভাতিজার পরামর্শে গতবছর থেকে লক্ষণভোগ আম দু-একটা করে খাচ্ছি। আমটা একটু মিষ্টি কম হলেও এর সুঘ্রাণ অন্য সব আমের থেকে বেশি। পাঁকলে টকটকে হলুদ রং ধারন করে। যা সকল মানুষকেই আকর্ষণ করে।

ফার্মেসী দোকানদার আব্দুল মান্নান (৪৫) জানান, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষই সুগারের আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করে। ফার্মেসী থাকার সুবাদে জানি, কতো মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে। আমি নিজেও চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। এমনকি কোন আম খায় না। তবে মিষ্টি কম হওয়ার কারনে মাঝেমধ্যে লক্ষণভোগ আম খায়।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাজিদুর রহমান গতবছর থেকে অনলাইনে আম ব্যবসা শুরু করেছেন। যতই দিন যাচ্ছে মানুষ আরও বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে।

এর সুবাদে ডায়াবেটিস না থাকলেও সচেতন ব্যক্তিরা লক্ষণভোগ আম কিনছে। তাই মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লখনার বাজার ধরতে পারলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম কম হওয়ায় অনেকেই এখন বলে থাকেন, দামে কম মানে ভালো লক্ষণভোগ আম।

দেশের সবচেয়ে বড় আমবাজার কানসাটের আড়তদার ও মেসার্স ডিয়ার ফল ভান্ডারের মালিক দোস্ত মোহাম্মদ দোসু জানান, বর্তমানে বাজারে লক্ষণভোগের দাম চলছে মণে (৪০ কেজিতে) ৭০০-৮০০ টাকা। বাজারে চাহিদা থাকলেও এখন ক্ষীরসাপাত আমের ভরা মৌসুম থাকার কারনে দাম অনেক কম রয়েছে। আগামী সপ্তাহে লক্ষণভোগ আমের দাম কিছুটা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, লক্ষণভোগ আম কিছুটা মিষ্টি কম হওয়ায় তা অন্যান্য আমের তুলনায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুবিধাজনক। তবে খাওয়ার পরিমাণ অব্যশই পরিমিত হতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব আম গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য আমের তুলনায় ৫-১০ শতাংশ কম মিষ্টি ডায়াবেটিস রোগীদের খুব পছন্দের জাত লক্ষণভোগ। আমটির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে এর সংরক্ষণ ক্ষমতা। গাছ থেকে পাড়ার পর ৮-১০ দিন পর্যন্ত সহজেই এ আম রাখা যায়। এসব গুণাবলির কারণেই লক্ষণভোগকে রপ্তানিযোগ্য ফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় এবছর প্রায় ৩৪ হাজার ৭৩৮ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এসব আম বাগানে প্রায় ২৭ লক্ষ গাছ থেকে আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

আম চাষী, ব্যবসায়ী, রফতানিকারক ও গবেষকদের দাবি, রপ্তানিতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ আম চাষের প্রসার ঘটানো ও এ আম রপ্তানি করে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031