ধূমকেতু প্রতিবেদক, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শীল মারিয়া ইউনিয়নের কার্তিক পাড়া বাজারে অননুমোদিত ভাবে মজুদকৃত সার ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অপরাধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে বারোটার দিকে গোপন সংবাদ এর ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) লিয়াকত সালমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী। এছাড়াও অভিযান চলাকালীন সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কাজী ইফফাত তামান্না, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ ইসরাফিল হক এ কাজে সহযোগিতা করেন পুঠিয়া থানার সাধনপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সঙ্গীও ফোর্স, গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযান পরিচালনাকালে কার্তিক পাড়া বাজারের নিশি কীটনাশক বিপণী’র মালিক মোঃ সাইদুল ইসলামের গোডাউন থেকে ইউরিয়া,এমওপি,টিএসপি ও ডিএপিসহ মোট ৩৩০ বস্তা অবৈধভাবে সংরক্ষিত সার জব্দ করা হয়। এছাড়াও রাতের আঁধারে সারকালোবাজারির চেষ্টা করার সময় স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ একটি ভ্যান গাড়ি জব্দ করে সেখান থেকে প্রাপ্ত ৫বস্তা টিএসপি ও ৫ বস্তা এমওপি সার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎক্ষণিকভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার স্মৃতি রানী জানান, উপজেলা জুড়ে আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। গোপন সামবাদের ভিত্তিতে আজ কার্তিক পাড়া বাজারে অভিযান পরিচালনায় ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয় এছাড়াও রাতের আঁধারে পাচারের সময় এলাকাবাসীর আটক রাখা আরো ১০ বস্তা সার সরকারি মূল্যে তৎক্ষণিক স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা শিবু দাশ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে জব্দকৃত বিভিন্ন প্রকারের
৩৩০ বস্তা সার বিসিআইসি ডিলারের গোডাউনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা বিক্রি করা হবে এবং সার বিক্রি টাকা সরকারি পোষাকারে জমাদেওয়া হবে।
অফিসারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, অভিযানের খবর টের পেয়ে ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম পালিয়ে যান। আমরা কার্তিক পাড়া ব্যবসায়িক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী অসাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে দুইটি গোডাউনের তালা ভেঙ্গে ৩৩০ বস্তা বিভিন্ন প্রকার সার জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা জুড়ে অবৈধ সার মজুদ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



