ধূমকেতু প্রতিবেদক,পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। কোথাও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, আবার কোথাও চিকিৎসক ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিমের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরের পরিবেশ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল এবং কর্মরত চিকিৎসকদের বিষয়ে খোঁজ নেন।
অভিযানকালে জনবল ও চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রিজিয়া ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ওই ক্লিনিকে ভর্তি থাকা তিনজন রোগীকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিধান কুমার ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। ফলে কোন ক্লিনিকে কী ধরনের চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন এবং সেবার মান কেমন, এ বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
এ ছাড়া বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তে যেসব চিকিৎসককে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়, তাঁদের কেউ কেউ একই ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন—এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, একই ব্যক্তি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা দিলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিবন্ধিত চিকিৎসক এবং নির্ধারিত মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি। নিয়মিত তদারকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে রোগীদের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।



