ধূমকেতু প্রতিবেদক, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা থেকে বিদায় নিলেন ‘মানবতা ফেরিওয়ালা’ সরকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা শিবু দাশ। সততা কর্ম দক্ষতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মন জয় করা পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা শিবু দাশ বদলি হয়েছেন।
গত ২৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে পুঠিয়া উপজেলায় ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি সেবাকে সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ দালালমুক্ত ভূমি অফিস গড়তে তাঁর কঠোর পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকায় ‘মানবতা ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি পান এই কর্মকর্তা। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে চালিয়েছেন সব সময় অভিযান। উপজেলা জুড়ে মাদক বিক্রেতা, মাদকসেবী ও অনলাইন জুয়া এ সকল অপরাধীদের কাছে শিবু দাশ ছিল একটি আতঙ্কের নাম।
উপজেলার একাধিক ব্যক্তিরা জানান, তবে তার পরিচয় কেবল একজন দক্ষ কর্মকর্তা বা ভূমি সেবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অফিসিয়াল দায়িত্বের বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষের যে কোন সমস্যা ও বিপদে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সমাজের সেবামূলক কাজ, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও সচেতন মূলক কার্যক্রম থেকে শুরু করে যে কোন দুর্যোগে বা বিপদে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে একজন বিশ্বস্ত অভিভাবকের মতো দাঁড়িয়েছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাঝে আমরা যেন পেশাদারিত্ব দেখতে চাই। একই সাথে একজন মানবিক মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা দেখতে চাই- তার মাঝে আমরা এই দুটির এক চমৎকার মেলবন্ধন দেখেছি। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সৎ ইচ্ছে ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে একটি সরকারি সেবা খাতকে সম্পূর্ণ জনবন্ধব করে তোলা সম্ভব। এছাড়াও আমরা জেনেছি তিনি পদোন্নতি নিয়ে পুঠিয়া থেকে বদলি হয়েছেন। বিদায়লগ্নে তার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্যতা ও উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করেন।
বিদায় লগ্নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা শিবু দাশ ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলেন,যেকোনো সরকারি চাকরির নিয়মই হল আসা এবং যাওয়া। কিন্তু কর্মকালের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের শেষ হয় না। আজ আপনাদের মাঝ থেকে বিদায় নেয়ার মুহূর্তে হৃদয় জুড়ে এক মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। এই উপজেলায় সহকারি কমিশনের (ভূমি) হিসেবে যোগদানের পর থেকে আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। ভূমি সেবার মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে আমি কতটা সফল হয়েছি, তার বিচার করবেন আপনারা। তবে আমার আন্তরিকতায় কোন কমতি ছিল না। সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও হয়রানি মুক্ত ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া ডিজিটালাইজেশন সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাই ছিল আমার প্রধান লক্ষ্য।
পুঠিয়া উপজেলাকে আমি আমার পরিবার মনে করি আমার পক্ষ থেকে পরিবারের সবাইকে ভালো রাখার জন্য যতটুকু করার আমি চেষ্টা করেছি জাত, ধর্ম, বর্ণ বিচার না করে সকল নাগরিকের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে একটু হাসি ভাগাভাগি করতে। জানিনা কতটুকু সাফল্যতা পেয়েছি। আমি যেখানে থাকি না কেন, এই উপজেলার মানুষের ভালোবাসা এবং অর্জিত স্মৃতি আমার হৃদয়ে আজীবন ভাস্বর হয়ে থাকবে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই উপজেলা এবং এর প্রতিটি মানুষ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করি।


