IMG-LOGO

বুধবার, ২৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে কাল, পূরণ হচ্ছে না কোটানির্বাচন শেষে চুক্তি নয়তো ধ্বংস: জাতিসংঘে ইরানকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারিপরিকল্পিত সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পলাশবাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ‘রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই’রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনজাতীয় হকি তারকা মিন্টু ও রেজার মৃত্যুবার্ষিকীতে বৈকালী সংঘের শোক র‍্যালিউত্তরবঙ্গের কৃষি ও উদ্যোক্তাদের জন্য১৩ হাজার কোটি টাকার অর্থায়নগোমস্তাপুরের রামদাস বিলের সৌন্দর্য বর্ধনে তালগাছ রোপন শুরুদেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গোদাগাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশগোবিন্দপাড়াবাসীর উন্নয়নে সব ধরনের কাজ করার আশ্বাস এমপি বারীরগোমস্তাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাকুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, চাচাতো ভাই গ্রেপ্তারচাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক ১কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু‘বিশ্ব পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অচল’
Home >> ধর্ম >> দুনিয়ায় শাস্তি হলে পরকালেও কি সাজা হবে?

দুনিয়ায় শাস্তি হলে পরকালেও কি সাজা হবে?

ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : অন্যায়-অপরাধ করলে শাস্তি পাবে এটা সবারই জানা কথা। আল্লাহ তাআলা অপরাধের কারণে মানুষকে শাস্তি দেবেন এ মর্মে অনেক নির্দেশনা জারি করেছেন। এবার যদি কেউ কুরআনে ঘোষিত শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে আর দুনিয়াতে সে অপরাধের শাস্তি কার্যকর করা হয়, তবে পরকালেও কি ওই ব্যক্তি একই অপরাধের শাস্তি ভোগ করতে হবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনা কী?

মানুষ তার ভালো কিংবা মন্দ কর্মের প্রতিফল দুনিয়াতেই পেতে হবে এমন নয়; বরং অনেকে দুনিয়ার সব ধরনের কর্মফল কেউ কেউ দুনিয়াতে পেয়ে থাকেন আবর কেউ কেউ পরকালেও পাবে।

আল্লাহ তাআলা কখনো কখনো বান্দাকে দুনিয়াতে মানুষের পাপ কর্মের শাস্তি দিয়ে থাকেন আবার কখনো দুনিয়াতে শাস্তি দেন না তা পরকালের জন্য জমা রাখেন। তিনি সেখানে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করবেন; যদি সে জীবদ্দশায় আল্লাহর কাছে অন্যায় অপরাধের জন্য ক্ষমা না চায়। আবার আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে দয়া করে নিজ থেকে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

ইসলামি শরিয়তে দুনিয়ায় শাস্তি হওয়ার পর পরকালে শাস্তি হবে কিনা এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাহলো-

দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তির গোনাহের কারণে বা কোনো অপরাধের কারণে যদি ইসলামি শরিয়া মোতাবেক শাস্তি পায় বা কোনো কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির সম্মুখীন হয় তবে তার ওই অপরাধের গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। ওই শাস্তি পাওয়ার কারণে নির্ধারিত পাপ কাজের পরকালীন শাস্তি থেকেও মুক্তি পাবে। এ কথার সমর্থনে হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
‘আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তার পাপগুলো জমা রেখে কেয়ামতের দিন তাঁর প্রাপ্য পূর্ণ করে দেবেন।’ (তিরমিজি)

কুরআনে ঘোষিত শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধের শাস্তি কুরআন অনুযায়ী হলে তাতে বান্দার পরকালে ওই অপরাধের শাস্তি হবে না। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারীর ব্যভিচারের শাস্তি কার্যকর করে তাকে গোনাহ থেকে মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে তাকে বিপদে (অপরাধের শাস্তিতে) নিক্ষেপ করেন। আর যখন তিনি তাঁর কোনো বান্দার অকল্যাণ চান তখন তাকে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। তারপর কেয়ামাতের দিন তিনি তাকে পুরাপুরি শাস্তি দেন।’ (তিরমিজি)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘অনেক সময় মানুষের এই শাস্তি হয় রোগ ব্যাধি, কখনো সন্তানের মৃত্যু, কখনো দারিদ্রতা, কখনো সম্পদ বিনষ্ট কখনো অন্যান্য বিপদ মুসিবত দ্বারা। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহ মোচন করেন। সেই সাথে তাকে উৎসাহিত করেন যেন সে বিপদে-মুসিবতে সবর ও সওয়াবের প্রত্যাশা করে।’

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘বিপদ যত মারাত্মক হবে, প্রতিদানও তত বড় হবে। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন তখন তাদের (বিপদে ফেলে) পরীক্ষা করেন। যে লোক তাতে (বিপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য (আল্লাহ তাআলার) সন্তুষ্টি বিদ্যমান থাকে। আর যে লোক তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহ তাআলার) অসন্তুষ্টি বিদ্যমান থাকে।’ (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারী সাহাবির শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তি দিয়ে তার তাওবাহ কবুল হয়েছে মর্মে ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে-

এক নারী সাহাবি রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি জিনা (ব্যভিচার) করেছি। জিনার কারণে গর্ভবর্তী হয়েছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি চলে যাও। সন্তান হলে এবং তার দুধ পান করানোর সময় শেষ হলে এসো। যখন তার সন্তানের দুধ পানের মেয়াদ শেষ হলো, তখন সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, তোমার এ সন্তানকে কারো দায়িত্বে দিয়ে দাও। যখন সে তার সন্তানকে অন্য একজনের দায়িত্বে রেখে আসলেন, তখন তাকে (অপরাধের শাস্তি হিসেবে) পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হলো। তার জন্য বুক সমান গভীর একটি গর্ত করা হলো এবং তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজার নামাজ পড়ালেন।

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার জানাজা নামাজ পড়ালেন? এতো ব্যভিচারিনী। (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, (হে ওমর!) এ নারী এমন তাওবাহ করেছে; তা যদি দুনিয়াবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়; তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে যে, সে (আল্লাহর ভয়ে) নিজের জীবন দিয়ে দিল।’ (মুয়াত্তা মালেক)

অনুরূপভাবে কেউ যদি দুনিয়াতে কোনো অপরাধ করার পর ইসলামি আদালতের মাধ্যমে শাস্তিপ্রাপ্ত হয় তাহলে তা পরকালে তার জন্য কাফফারা (গোনাহ মোচনের মাধ্যম) হয়ে যায়। ফলে সেখানে তাকে এই অপরাধের কারণে পুনরায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে না। হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে-

হজরত উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি এসব শর্তে আমার কাছে বায়আত করবে যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না, জিনা করবে না এবং চুরি করবে না? এরপর তিনি নারীদের শর্ত সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করলেন-
إذا جاءك المؤمنات يبايعنك
(হে নবী!) মুমিন নারীগণ যখন আপনার কাছে এ মর্মে বায়আত করতে আসে।’
তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
‘তোমাদের যে ব্যাক্তি এ সব শর্ত পূরণ করবে, আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন। আর যে ব্যাক্তি এ সবের কোনো একটি করে ফেলবে এবং তাকে (দুনিয়াতে) শাস্তিও দেয়া হবে। তবে এ শাস্তি তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। আর যে ব্যাক্তি এ সবের কোনো একটি করে ফেলল এবং আল্লাহ তা গোপন রাখলেন, তাহলে এ বিষয়টি আল্লাহর কাছে রইল। তিনি চাইলে তাকে শাস্তিও দিতে পারেন অথবা তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।’ (বুখারি, )

সুতরাং উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, কোনো ব্যক্তির যদি শাস্তিযোগ্য অপরাধের শাস্তি দুনিয়াতে যথাযথভাবে করা হয় তবে সে ওই অপরাধের বিষয়ে নিষ্পাপ হয়ে যাবে। পরকালে আল্লাহ তাআলা তাকে শাস্তি দেবেন না। আর আল্লাহ তাআলা অনেককে দুনিয়াতে সাধারণ গোনাহগুলো অনেককে বিপদ-মুসিবত, রোগ-ব্যধি ও কষ্টের মাধ্যমে মোচন করে দেন। আবার চাইলে তিনি যে কাউকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

তাই কেউ যদি নিজের পাপাচার ও অন্যায় কাজের শাস্তি দুনিয়াতে পেয়ে যায় তাহলে এটা তার জন্য কল্যাণকর। কেননা দুনিয়ার শাস্তি লাভের পর সে গোনাহমুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু যার শাস্তি পরকালের জন্য জমা রাখা হয়; নিঃসন্দেহে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে শাস্তিযোগ্য সব অপরাধ থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার সাধারন সব গোনাহসহ সব বড় গোনাহের শাস্তি দুনিয়াতে যে কোনো কিছুর বিনিময়ে ক্ষমা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031