ধূমকেতু প্রতিবেদক,মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনা পর এবার
মাসুদ রানাকে তালাক দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী পুর্নিমা। এর আগে গ্রামবাসীর সামনে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তওবা করেছেন মাসুদ রানার মাসুদের শ্যালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) পূর্ণিমা ও তার শ^শুর মান্নান সাপুড়ে।
বুধবার বিকালে রাইগাঁ ইউপি কাজী অফিসে এ তালাকের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাছারীগ্রামের মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে।
টিকটকার মাসুদ রানা ও শ্যালিকা পূর্ণিমার এই বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। জনরোষ থেকে বাঁচতে আজ বুধবার বিকালে শ্যালিকা পূর্ণিমা তার স্বামী মাসুদ রানাকে স্বামী তালাক করেছেন।
মঙ্গলবার উপজেলার রাইগা ইউনিয়নের নারায়নপুরে (বিরমগ্রাম) মাসুদের শশুর বাড়ির উঠানে এক সালিশ বৈঠকে এমন কান্ড ঘটানোর জন্য তারা গ্রামবাসীর সামনে হাত জোর করে ক্ষমা চান।
বৈঠকে মাসুদের শ্যালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) সবার সামনে জানান, তার চিন্তা এটাই যে তার বোন এতদিন সংসার করেছে। তার যদি হাদিস অনুযায়ী তালাক হয়ে যায় তাহলে হাদিস অনুযায়ী আবার বিয়ে করে নিক। তিনি ছেড়ে দেবেন মাসুদকে।
এ সময় তিনি সবার কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে জানান, তিনি ভুল করেছেন, তিনি মাসুদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখবেন না এবং মাসুদের সঙ্গে টিকটক ও কোনো অনুষ্ঠানও করবেন না। তবুও তাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তার মতো হয়ে থাকবেন বলে স্থানীয়দের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন।
সালিশ বৈঠকে রাইগা ইউনিয়ন সাবেক ২নং ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার আখতার হোসেন, লোকমান রেজোয়ান আরিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্যব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুড়ে সবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং কানে ধরে নাকে মাটি দিয়ে তওবা করে অনুরোধ করেন, তাদের বসতবাড়ি থেকে যেন তুলে না দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, তার মেয়েরা আর টিকটক করবেন এবং তিনিও আর গান বাজনার সাথে জড়িত না থেকে আগের সেই সাপুড়ে পেশায় ফিরে যাবেন।
নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর ওই বাসায় তাদের গায়ে হলুদ এবং এর পরদিন ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজিহাট বিরামগ্রাম এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ওই টিকটকার ও আইনজীবী সহকারীকে মুখভর্তি চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয়। পরে ২৭ অক্টোবর ফেসবুকে লাইভে এসে জাতির কাছে ক্ষমা চান এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মাসুদ রানা বুধবার বিকেলে ফেইসবুক লাইভে এসে তার শ্যালিকা পূর্ণিমা তাকে স্বামী তালাক করেছে বলে জানান এবং তালাকের কপি তার ফেইসবুক আইডিতে শেয়ার করেন।



