ধূমকেতু প্রতিবেদক, মোহনপুর : মোহনপুর উপজেলায় মহব্বতপুর হাইস্কুল কনফারেন্স রুমে শনিবার (১৭ জুন) দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর সহায়তায় উপজেলায় পিস ফ্যসিলিটেটর গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জতীয় পার্টিসহ সুশিল সমাজের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক প্রফেসর আসাদ আলি এবং সঞ্চলনা করেন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মহব্বতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলিম শেখ।
প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম মুরাদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ধূরইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াজেদ আলি, জেলা মহিলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক বানেছা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কফিল উদ্দিন, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিবুর রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাতেমা আফরোজ, সভাপতি নাসিমা আক্তার, উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ডলি আক্তার, ইউপি সদস্য ববিতা বিবি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাংবাদিক মোত্তাকিন আলম সোহেলসহ বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পিএফজির সমন্বয়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদুল ইসলাম মুরাদ বলেন, পিএফজি গঠন করা হয়েছিলো বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনার একটা প্লাটফর্ম হিসেবে যাতে কাজ করতে পারে। আমরা বিভিন্ন সময় অনেক মানুষ নিয়ে শুরু করলেও সবসময় সবাইকে কাছে পাই না। কিন্তু এ কাজকে বেগমান করতে হলে সকলের দ্বায়বদ্ধতা প্রয়োজন। এটা একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। আসুন আমরা একসাথে সকলে মিলে শান্তির মোহণপুর গড়ি।
উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি ডলি আক্তার বলেন, মোহনপুর বিভিন্ন দলের সহবস্থান নিশ্চিত করে শান্তি পূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে অবশ্যই সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারবো। যখন আমার ঘরে আগুন লাগবে সেখানে বিএনপি, জাতীয় পার্টি সবাই এসে আগুন নিভাবে তাহলে আমাদের ভিতর বিভেদ কেনো তৈরি হবে। আমাদের এ শান্তির আন্দোলনের সাথে বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবীদের ও রাখতে হবে, তাহলে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সহজতর হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আফাজ উদ্দিন বলেন, আমারা এমন একটি সময়ে এমন একটি বিষয়ে আলোচনা করতে বসেছি যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালের পর থেকে মোটামোটি মোহনপুরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো সংঘর্ষ হয় নাই। তবে প্রত্যেকটা দলের ভিতর অন্তর্দ্বন্ধ থাকে। আমরা এ দন্ধ নিরসনে বিভিন্ন গ্রুপের লোকদের এক করে আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। সফলতা সম্পর্কে হয়তো আমরা নিশ্চিত নই কিন্তু এ কথা আমরা বলতে পারি যে আমাদের ব্যাক্তিগত চেতনায় শান্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরা ক্রান্তিকালীন সময় অতিবাহিত করছি। ৩০ বছর আগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন দেখাতে পাই না। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা নষ্ট করছি। আসুন আমরা একটা রোড ম্যাপ তৈরি করি এবং সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলের ভিতরে এ রোড ম্যাপ দিয়ে নতুন ভাবে গড়ে উঠি। আমাদের সেসকল নেতা প্রয়োজন যারা এ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ ওয়াজেদ আলী বলেন, আমরা শান্তির কথা বলি অথচ যখন শান্তি রক্ষায় কাজ করি তখন কেউ সেটা মূল্যায়ন করে না। রাজনীতি করতে হলে কখনও সামনে যেতে হবে আবার কখনও পিছনে আসতে হবে। এটাই নিয়ম। যদি ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি একসাথে বসে এবং চা খায় তাহলে পাঁচ জন মানুষ দেখবে এবং বলবে এটা হওয়া উচিত। আসুন সবাই রাজণৈতিক ঘৃণা ভুলে একসাথে দেশ গড়ি।
সভার সভাপতি প্রফেসর আসাদ আলি বলেন, অনেকদিন আমরা কাজ শুরু করেছি তার সফলতা ধীরে ধীরে পাচ্ছি এবং এ সফলতা পাওয়া শুরু হয়েছে। নেতারা সংঘাতে লিপ্ত হয় না, তারা শুরু উস্কানি দেয়। তাই আমাদের উচিত হবে এ উস্কানি দেওয়ার মানসিকতা থেকে বের হয়ে শান্তির পথে চলা।


