ধূমকেতু প্রতিবেদক,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও একই স্কুলের আয়াকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগষ্ট)রাত ৭টার দিকে জনতার খবরে বাঘা পৌরসভার গাও পাড়া এলাকার মোজাফফরের বাসা থেকে পরকীয়ার অভিযোগে তাদের আটক করে পুলিশ। শনিবার (২২ আগষ্ট) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আটকৃতরা হলেন-বাঘা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খাজিরাথাক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন এবং একই স্কুলের আয়া তাসপিয়া।
পুলিশ জানায়, গাওপাড়া গ্রামের মোজাফফরের বাসায় দুইজন গল্প করছিলেন। স্থানীয়দের নজরে এলে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তবে আটকের সময় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়নি। জনরোষের মুখে তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।
স্থানীয়রা জানান, তারা আগেও স্বামী স্ত্রীর পরিচয়ে অনেকবার ওই বাসায় এসেছে । দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী নুরুন্নাহার মিলি অভিযোগ করে বলেন, “৫-৭ বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এ কারণে তিনি আমার সাথে ভালো আচরণ করেন না। সংসারে অশান্তি। ৫-৬ মাস ধরে তিনি বাড়িতে থাকেন না।”
অন্যদিকে আয়া তাসপিয়ার মা রানুয়ারা দাবি করেছেন, “একই স্কুলে চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে বৈধ সম্পর্ক রয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন বাঘা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী নুরুন্নাহার মিলি উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দেলোয়ার-মিলি দম্পতির ২ সন্তান রয়েছে। দেলোয়ার হোসেন মনিগ্রামেই বসবাস করেন।
আয়া তাসপিয়ার বাবার বাড়ি বাঘা উপজেলার বলরামপুর গ্রামে। তার স্বামীর বাড়ি কুষ্টিয়ার বাংলা বাজার। তাসপিয়ারও স্বামী ও সন্তান রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে টক অব দ্যা দেলোয়ার – আয়ার পরকীয়া হিসাবে আলোচিত হয়েছে। গোপন সমাঝোতায় মুক্তি মিলতে পারে এমন সন্দেহে দুপুর রাত পর্যন্ত থানায় অপজিট পার্টির লোকজনের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। মোজাফফরের ভাষ্য, পরিচয় সুত্রে তারা তার বাসায় এসেছিল।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন,”এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ১৫১ ধারা মতে মামলা দায়ের করে শনিবার (২২ আগষ্ট) আদালতে পাঠানো হয়েছে।”##


