IMG-LOGO

বুধবার, ২১ই অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এয়ার রোভার স্কাউট গ্রুপের চার সদস্য পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণ করবেসিরাজগঞ্জে সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এলাকাবাসীর মাঝে হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণরাজশাহীতে আখচাষীদের মাঝে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানমান্দায় পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগমান্দায় হাটবাজার উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগযে কোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতির পরামর্শ ওয়াকার-উজ-জামানেরবিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, কড়া নজরদারিতে চীনা নৌবাহিনীসিংড়ায় ১৮ বছর ধরে চলছে দুর্গাপূজায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পনাটোরের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাগমারার আনোয়ারেরফুলবাড়ীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন, চলছে সংস্কার কাজরাজশাহী মহানগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২২চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুহযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে’নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০
Home >> বিশেষ নিউজ >> রাজশাহী >> লিড নিউজ >> চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি চরমাঝাড়দিয়ার কৃষকরা

চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি চরমাঝাড়দিয়ার কৃষকরা

ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর চরমাঝাড়দিয়ার মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সেখানকার জমির মালিক কৃষকরা। চোরাকারবারিদের দখলে চলে গেছে পুরো চরাঞ্চল। চোরাইভাবে ভারত থেকে গরু এনে পুরোচর এলাকায় চরানোর কারণে প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে শতশত বিঘা জমির ফসল। ফসল চাষ করলেও কৃষকরা তা ঘরে তুলতে পারছেন না। অধিক টাকা খরচ করে শুষ্ক মওসুমে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করলেও তা কৃষকের ঘরে উঠছে না। এতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন চরে জমি চাষ করা কৃষকের জমির মালিকরা। এমনকি চরে চাষ করা ফসল নষ্ট করতে নিষেধ করলেও চরবাসি জমির মালিক ও কৃষকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে গরু মহিষ দিয়ে চরে চাষ করা ফসল ও কাশিয়া নষ্ট করার জন্য প্রতিবাদ করায় উল্টা জমির মালিক ও কৃষকদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি প্রতিনিয়ত তারা ফসল নষ্ট করার পাশাপাশি জমির মালিকদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেয়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, চরমাঝাড়দিয়া এলাকায় নগরীর হাড়–পুর, নবগঙ্গা এলাকার মানুষের জমি রয়েছে। এই এলাও ও স্থানীয়রাও শুষ্ক মওসুমে এই চরে জমি চাষ করেন। যদিও বছরের বেশিরভাগ সময় পানির নিচে থাকে তাদের জমি। মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস চর জেগে থাকে। আর এই সময় জমির মালিক ও কৃষকরা ওই জমিতে কলাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। কিন্তু চরমাঝাড়দিয়া এলাকার লোকজন চরে চাষ করা ফসল নষ্ট করে দেয়। কখনো রাতের আঁধারে আবার কখনো প্রকাশ্যে ফসলের জমিতে গরু- মহিষ দিয়ে পুরো ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। বিষয়টি নিয়ে চরবাসির সাথে কয়েকবার জমির মালিকরা বসলেও কোনো প্রতিকার হয়নি। চরে ফসল ফলাতে দিবে না মর্মে চাষ করা ফসল নষ্ট করে দেয়া হয় বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। শুধু বাইরের লোকজনের ফসলই নয়, চরের যেসব কৃষক জমি চাষ করেন তাদেরও ফসল গরু মহিষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়া হয়। চোরাকারবারিরা ভারত থেকে গরু মহিষ এনে প্রতিনিয়ত কৃষকদের ফসল নষ্ট করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানান গেছে, চরমাঝাড়দিয়া এলাকার প্রতিটি ঘরে ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত গরু- মহিষ রয়েছে। এসব গরু-মহিষ ভারত থেকে অবৈধভাবে এনে তারা পালন করে। অনেকেই রাতের আঁধারে ভারত থেকে গরু- মহিষ নিয়ে এসে দু-একদিন রেখে পরে বিক্রি করে দেয়। শুধু গরুই নয়, গরু -মহিষের সাথে নিয়ে আসা হয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। ভারত থেকে গরু -মহিষ আনার সময় বিজিবির কাছে ধরা পড়লে তাদের জানানো হয় এসব বাড়িতে পোষা গরু- মহিষ। কিন্তু এভাবেই ভারত থেকে গরু- মহিষ এনে দুএকদিন বাড়িতে রেখে তারা বিক্রি করে দেয়া হয়। আর গরু -মহিষের সাথে যে মাদক আসে তা নগরী থেকে ব্যবসায়ীরা গিয়ে নিয়ে এসে শহর ও বিভিন্ন জেলায় পাঠায়।

দেখা গেছে, চরমাঝাড়দিয়ায় চরে প্রতিনিয়ত তিন থেকে চারশ গরু-মহিষ সব সময় চরানো হয়। নিয়ন্ত্রনহীনভাবে গরু মহিষ চরানোর কারণে ফসল চাষ করা হলেও তা নষ্ট হয়ে যায়। সম্প্রতি নবগঙ্গা এলাকার কয়েকজন জমির মালিক চরে গরু মহিষ দিয়ে ফসল নষ্ট করার প্রতিবাদ করে। এতে চরমাঝাড়দিয়ায় এলাকার লোকজন হাড়–পুর, নবগঙ্গা এলাকার ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় তারা ২৫টি গরু মহিষ লুট করেছে। কিন্তু মামলা দায়ের করার পর দামকুড়া থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গরু লুটের কোনো আলামত পায়নি। বর্তমান মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

চরমাঝাড়দিয়ায় এলাকার চাষি বাবু জানান, তিনি প্রতিবছর চরে শুষ্ক মওসুমে ৪০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। কিন্তু চোরাকারবারিদের ভারত থেকে আনা গরু মহিষের জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়। চোরাইভাবে গরু মহিষ এনে চরে ছেড়ে দেয়। ফসলের জমিতে গরু মহিষ চরাতে নিষেধ করলে উল্টা হুমকি ধামকি দেয়া হয়।

একই এলাকার বাবু মিঠু নামে অপর এক কৃষক জানান, তিনি ৩০বিঘা জমিতে কলাইসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। কিন্তু চরবাসির অত্যচারে ৫বিঘা জমির ফসলও ঘরে তুলতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার থানা ও বিজিবিকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নবগঙ্গা এলকার চাষি ঝাটু জানান, শঙ্কার মধ্যে চরে ফসল ফলাতে হয়। এমনিতেই ৭মাস পানির নিচে থাকে জমি। বাকি সময়গুলোতে জমি চাষ করে ফসল করতে গেলেও চরের লোকজন গরু- মহিষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়।

হাড়–পুরের দুলাল নামে এক কৃষক জানান, তার ৫০ বিঘা জমি আছে চরমাঝাড়দিয়া চরে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ করা হয়। কিন্তু চরমাঝাড়দিয়ার লোকজন হিংসা করে গরু- মহিষ দিয়ে ফসল নষ্ট করে দেয়।

ফসল নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় তারা কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে।রাসেল নামে অপর কৃষক জানান, চরমাঝাড়দিয়ায় লোকজন চায় সেখানে যেনো কেউ জমি চাষ করতে না পারে। এমনকি হাড়–পুর নবগঙ্গা এলাকার কোনো লোকজন সেখানে না যায়, সে জন্য তারা সব সময় সোচ্চার থাকে। এজন্যই যেসব কৃষক চরে জমি চাষ করে তাদের ফসল চরের স্থানীয়রা গরু মহিষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়। ফসল নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানোসহ তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি মুলক মামলা করা হয়।

তিনি বলেন, আমি সেখানে ৩০বিঘা জমি চাষ করি। এই জমির ফসল দিয়ে সারাবছর চলতে হয়। কিন্তু ৩০বিঘা জমির মধ্যে অল্প করে হলেও প্রতিবছর ১০বিঘা জমির ফসল গরু-মহিষ দিয়ে নষ্ট করে দেয়া হয়। জাহাঙ্গীর হোসেন, বেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেক কৃষক এমন অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুসের সাথে। তিনি জানান, আদিপত্য বিস্তারের জন্য চরের লোকজন মুলত ফসল নষ্ট করে। তাদের গরু- মহিষ চরাতে কোনো অসুবিধা না হয় বা চাষিরা যেন চরে ফসল চাষ করতে না পারে তার জন্য চরবাসি চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে চরের লোকজন বেশ কিছু চাষিদের উপর গরু- মহিষ লুটের মামলা করেছে। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তেখা গেছে এধরনের কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930