ধূমকেতু প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ থেকে মোফাজ্জল হোসেন (৩০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজভী আল হাসান মুঞ্জিলসহ চার জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরো কয়েক জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে রোববার বিকাল থেকে চেয়ারম্যান লাপাত্তা হয়েছেন।
নিহত ঐ যুবক রাজশাহীর তানোর উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের যুগলপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। রোববার সকালে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ তাকে জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে ঝুলে থাকতে দেখেন। এরপর তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। পরে আরএমপির দামকুড়া থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাজহারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে মোফাজ্জল হোসেন পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় রফিকুলের মেয়ে তার সাথে সংসার করবে না বলে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর গত দু’দিন আগে মোফাজ্জল তার স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়ি আসেন। রোববার সকালে দুই পক্ষ নিয়ে বসে মীমাংসা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এ ঘটনা ঘটলো। গত শনিবার রাতে মেয়ের পরিবারের লোক মোফাজ্জলকে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মুঞ্জিলের কাছে নিয়ে যান। এরপর সকালে মীমাংসা বৈঠক হবে এজন্য তাকে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। রোববার রাতের যেকোন এক সময় এই ঘটনা ঘটে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পরিবারের বক্তব্য, মোফাজ্জলের আত্মহত্যা করার কোন কারণ তারা দেখছেন না। আর তাকে পরিষদে আটকে রাখার কি প্রয়োজন সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আত্মহত্যা করলে ভেতর থেকে ঘর লাগানো থাকতো। কিন্ত তাও ছিল না এ জন্য পরিবারের সন্দেহ আরো বেড়েছে। তাদের দাবি হয়তো, কেউ তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ছাড়াও সিআইডি গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা জানা যাবে।
রোববার দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, হয়তো মোফাজ্জল আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তাছাড়া তিনি তাকে ধরে নিয়ে আসেননি।
তবে মিডিয়ার কাছে এ বক্তব্য দেয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান মুঞ্জিলের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে এলাকাবাসী জানান। তার ব্যবহৃত নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে বিকাল থেকে। এলাকাবাসী জানান, মুঞ্জিল চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতা বলে মাঝে মধ্যেই বিচারের নামে এভাবে লোকজনকে আটকে রাখতেন।
এ বিষয়ে আরএমপির দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, সিআইডি ও নিহতের পরিবারের উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিআইডি মামলার আলামত সংগ্রহ করেছে। লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের ভাই উজ্জল আলী বাদী হয়ে চারজন কে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আসামীরা হলেন, নিহতের শ^শুর মোফাজ্জল, শাশুড়ি সেজেনা বেগম, স্ত্রী রিয়া খাতুন ও হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান বজলে রেজভি আল হাসান মুঞ্জিল। মামলা হওয়ার আগে থেকেই চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা পুলিশের ধারণা কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পেলে বলা যাচ্ছে। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।


