ধূমকেতু প্রতিবেদক,পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। টাকা-গাচ্ছা যাচ্ছে গ্রাহকদের। সেই সাথে বাড়ছে ভোগান্তি। চুরি ঠেকাতে দিশেহারা সাধারণ গ্রাহকরা।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ ১ এর পুঠিয়া উপজেলা জোনাল অফিসের তথ্য মতে, পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুতের আওতায় মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার ১শত ৪০ জন। এর মধ্যে আবাসিক সংখ্যা ৬৬২০২ বাণিজ্যিক ৫৮৮১ দাতব্য প্রতিষ্ঠান ৯০৮ রাস্তার বাতি ৪২ শিল্প ৫৯০ এছাড়াও সেচ ব্যবস্থার জন্য রয়েছে ৫১৭ গ্রাহক। পুরো উপজেলায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার জন্য ট্রান্সফরমার রয়েছে ৩ হাজার ৬শতটি। গত মাসে পুরো উপজেলায় মোট ট্রানসফরমার চুরি হয়ে ছিলো ৮ টি এবং চলতি মাসে ট্রানসফরমার এখন পর্যন্ত চুরি হয়েছে ৩ টি।
কানাই পাড়া এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, গত তিন দিন আগে আমাদের গ্রামের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে । পরে আমরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক টাকা দিয়ে আবার পুনরায় ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু করেছি।
কাঁঠাল বাড়িয়া এলাকা ট্রান্সফরমার চুরি হওয়া বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, ঢাকা রাজশাহী মহাসড়কের পাশে একটি খুঁটিতে ট্রান্সফরমারটি স্থাপন করা হয়েছিল । দিন-রাত সর্বক্ষণ এই রাস্তাতে মানুষ চলাফেরা করে থাকে। এমন স্থানে কোন সাধারণ চোর এই ট্রান্সফরমার চুরি করতে পারবে না। আমাদের দীর্ঘ বিশ্বাস এই চুরির সাথে পল্লী বিদ্যুতের অবশ্যই যোগসূত্র আছে বলে আমার মনে করি। যার কারণে এত সদর থেকে এই ট্রান্সফর্মার চুরি করা সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা বিভিন্ন এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, চোরের পক্ষে কোন ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জামও কারিগরি অভিজ্ঞতা ছাড়া চালু বৈদ্যুতিক লাইন থেকে ট্রান্সফরমার নামানো প্রায় অসম্ভব। ট্রান্সফরমার চুরি করার ক্ষেত্রে কারিগরি অভিজ্ঞতা থাকা লাগবে, ট্রান্সফরমার নামানোর বিষয়ে দক্ষতা থাকা লাগবে। সেজন্যে সাধারণ চোর ট্রান্সফরমার চুরি করতে পারবে না। তাই ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা হলে প্রকৃত চোরেরা ধরা পড়বে বলে আমরা মনে করি।
ট্রান্সফর্মার চুরির বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধিনে পুঠিয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম আহসানুল করিম বলেন, গত মাসের তুলনায় এ মাসে ট্রান্সফার চুরি কম হয়েছে। ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কোন সম্পৃক্ত আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের কোন সম্পৃক্ত নেই। কোথাও যদি এমন কোন তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আসে তাহলে তবে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি গেলে গ্রাহকের থেকে কত টাকা পল্লী বিদ্যুৎ গ্রহণ করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবাসিক এলাকার ক্ষেত্রে প্রথমবার ৫০ শতাংশ টাকা পল্লী বিদ্যুৎ গ্রহণ করছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শতভাগ টাকা গ্রহণ করে ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে পুঠিয়া থানার (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাগুলো সম্পর্কে থানা পুলিশ সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। চোর চক্রকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। খুব শিগ্রই আমরা জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। একই সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশদের জোরদার করা এবং কোন সন্দেহাজন ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুঠিয়া থানায় খবর দেওয়ার জন্য আমরা সর্বসাধারণের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। জনসাধারণের সুরক্ষায় পুঠিয়া থানা পুলিশ সর্বদা নিয়োজিত বলে তিনি জানান।



