ধূমকেতু প্রতিবেদক, সানজাদ রয়েল সাগর, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ (যা স্থানীয়ভাবে ‘আনারকলি’ বা ‘ট্যাং’ নামে পরিচিত) চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মোরছালিন আহমেদ। মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তাঁর এই ব্যতিক্রমী বাগানে এখন ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে এবং চাষের পদ্ধতি জানতে প্রতিদিন বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক জনতা।
যেভাবে শুরু করেছিলেন এই স্বপ্নযাত্রা উদ্যোক্তা মোরছালিন আহমেদ। মোরছালিনের মূল বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তবে বদলগাছী উপজেলার পাঁচঘড়িয়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি সেই সূত্রে চাচা শ্বশুরের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে তিনি এই চাষ শুরু করেন। মূলত ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও চাষপদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। এরপর কক্সবাজার থেকে ৬২টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পরম যত্নে গড়ে তোলেন তাঁর স্বপ্নের বাগান।
মোরছালিন জানান, জমি তৈরি, মাচা নির্মাণ, চারা সংগ্রহ ও জৈব সারসহ বাগানটির পেছনে প্রথম দফায় তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গাছ রোপণের মাত্র তিন মাসের মাথায় বাগানে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন তিনি। স্থানীয় বড় বড় ফলের দোকান ও সুপারশপগুলোতে প্রতি কেজি প্যাশন ফ্রুট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা অত্যন্ত লাভজনক।
বাগানের বর্তমান চিত্র ও ফলের গুণাগুণ দেখতে সরেজমিনে মোরছালিনের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, মাচার ওপর সবুজ লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে প্যাশন ফ্রুট। কোনোটি কাঁচা সবুজ, আবার কোনোটি পেকে বেগুনি বা আকর্ষণীয় হলুদ রঙ ধারণ করেছে। চমৎকার সুগন্ধ এবং টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটির ভেতরে রয়েছে রসালো শাঁস ও প্রচুর বীজ।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্যাশন ফ্রুট অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও
খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি সরাসরি তাজা খাওয়ার পাশাপাশি জুস, জ্যাম বা বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন এই ফল চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোরছালিন অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি মনে করেন, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও নিয়মিত বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
তবে এই তরুণ উদ্যোক্তার আক্ষেপ করে বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে তিনি আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শ পাননি। তাঁর দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে এই অঞ্চলে এই বিদেশি ফলের চাষ আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
কৃষি বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা উক্ত উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং কারিগরিভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা এলে তাঁকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান,ব্যতিক্রমী এই ফলের চাষ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে তা দেশের ফল উৎপাদনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।



