ধূমকেতু প্রতিবেদক,বদলগাছী : পটল উঠছিল জমিতে, আর কৃষকের মুখেও ফুটেছিল হাসি। ফলন ভালো হচ্ছিল, বাজারে ভালোদামে বিক্রিও হচ্ছিল নিয়মিত। সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা আর দেনা পরিশোধের হিসাবও কষছিলেন পটল চাষিরা।
কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা সেই হিসাবের খাতাতেই চাকু চালিয়ে দেয়। সকালে জমিতে গিয়ে এই অবস্থা দেখে কৃষকদের চোখে-মুখে নেমে আসে হতাশা আর জল। পড়ে যায় মাথায় হাত।
এক-দুই বিঘা নয়, প্রায় ১২ বিঘা জমির পটলগাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১০ থেকে ১২ জন কৃষকের প্রায় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের দোনইল গ্রামে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে কৃষকেরা জমিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারে।
কৃষকদের ভাষ্য, পটলগাছগুলো বেশ জমে উঠেছিল। ফলনও হচ্ছিল ভালো। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পটল বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। সেই পটলের বিক্রির টাকায় সংসার চলছিল, সন্তানের পড়াশোনার খরচ হচ্ছিল, দেনার বোঝা কিছুটা কমবে বলে এমনই ছিল তাঁদের হিসাব।
কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা যেন সেই হিসাবের খাতাতেই চাকু চালিয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে জমিতে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কাটা পটলগাছ,পড়ে আছে সবুজ কাটা লতা। কোথাও গোড়া কাটা, কোথাও মাটিতে লুটিয়ে আছে পুরো গাছ। কয়েক দিন আগেও যে জমি ছিল সবুজে ভরা, সেখানে এখন কাটা লতা আর কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সালাম বলেন, অনেক কষ্ট করে পটল চাষ করেছি। সার, ওষুধ, শ্রমিক সহ সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বিক্রি করে সংসার চালানো শুরু হয়েছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ করে দিয়েছে। এখন আমাদের কী হবে, জানি না।
আরেক কৃষক ইসরাফিল বলেন, এই ফসলই ছিল আমাদের শেষ সম্বল। গাছ বড় হয়েছিল, ফলনও আসছিল। বাজারে পটল বিক্রিও শুরু করেছিলাম। এসে দেখি সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পরিকল্পিতভাবেই রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তাঁরা। ফলে রাতের আঁধারে মাঠে কারা চাকু চালিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
কৃষকদের ভাষায়, পটল শুধু একটি ফসল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল সংসারের আয়, ঋণ পরিশোধের ভরসা এবং কয়েক মাসের পরিশ্রমের ফল। সেই ভরসার গাছগুলো কেটে দেওয়ায় এখন তাঁদের সামনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে সরকারি সহায়তারও দাবি করেছেন তাঁরা।
বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



