ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : প্রতিদিনের মতোই দুই সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে সকালে স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই স্কুলশিক্ষার্থী। গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের বাবা।
শনিবার (১ আগস্ট) কলকাতার পার্শ্ববর্তী বরাহনগরের বিটি রোডে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুর নাম আরাধ্যা সাউ (৯) ও আরভ সাউ (৬)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাদের বাবাকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে স্কুটিতে করে দুই সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা। এ সময় কলকাতা থেকে ব্যারাকপুরগামী একটি বেপরোয়া লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার তীব্রতায় বাবা ও দুই শিশু সড়কে ছিটকে পড়ে যান। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি লরির নিচে চাপা পড়ে দুই শিশু। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ওই লরির চাকা বাবার পায়ের ওপর দিয়ে চলে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে বরাহনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক লরিটি জব্দ করে। পরে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রথম লরির ধাক্কায় স্কুটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। সেখানে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট পাথরের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তবে নিহত দুই শিশুর মাথায় হেলমেট ছিল না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ‘নো এন্ট্রি’ সময় উপেক্ষা করে প্রায়ই এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ও পাথর পড়ে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়কে ভারী যান চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



