ধূমকেতু প্রতিবেদক,চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের না জানিয়ে অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে ভুয়া উপস্থিতি ও নাম দেখিয়ে উপবৃত্তি এবং মূল দাতাকে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে দাতা সদস্য বানানোর অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চারঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রায়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ জুলেখা আক্তার ও রায়পুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাজদার আলী সম্পুর্ন গোপনে নিজেদের পছন্দমতো লোকদের সভাপতি, সদস্য ও দাতা সদস্য বানিয়ে ১২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করেছেন। যা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কিছুই জানেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও জালিয়াতি ও উপবৃত্তি আত্মসাতের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অভিযোগে। অভিযুক্ত সাজদার আলীর মেয়ে নিশাত (ওরফে নুসরাত জাহান নিশাত) একই সময়ে রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রায়পুর শাপলা কিণ্ডার গার্ডেন স্কুলে হাজিরা দেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি শাপলা কিণ্ডার গার্ডেনে পড়াশোনা করেন। একইভাবে রবিউল ইসলামের মেয়ে সাফা (ওরফে সাফা সরকার) মাদরাসা একাডেমীতে পড়াশোনা করলেও, তার নামেও উপবৃত্তি উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে রবিউল ইসলামকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য এবং সাজদার আলীর স্ত্রী নাজমা বেগমকে অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে। অপর দিকে বিদ্যালয়ের মূল দাতা, সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান সরকারকে বাদ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবু তাহেরকে দাতা সদস্য বানানো হয়েছে। সম্পুর্ন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন বাতিল ও অয়িনমের অভিযোগ তুলে কার্য্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার কবিরুর রহমানের ছেলে আব্দুল হাকিম।
বিষয়টি সম্পর্কে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলেখা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিরা সম্পুর্ন নিরপেক্ষ ভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। দুই ছাত্রী অন্য স্কুলে পড়ে কিভাবে তাদের অভিভাবক অভিভাবক সদস্য হলেন এবং অন্য স্কুলে পড়া ছাত্রী কিভাবে উপবৃত্তি পায় সে বিষয়ে কোন সদুত্তর দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,কোন ধরনের অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


