ধূমকেতু প্রতিবেদক : “প্রতিটি পাখিই গুরুত্বপূর্ণ, আপনার পর্যবেক্ষণ মূল্য রাখে।” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হলো বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলা শাখা এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে বিশেষ সহায়তা প্রদান করে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস এবং বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনসারভেশন ফেডারেশন (BBCF)।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোসা: সেলিনা বেগমের সভাপতিত্বে এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য নেচার অ্যান্ড লাইফের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার হিসেবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. বিকে দাস এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে বাপা রাজশাহীর কেন্দ্রীয় সদস্য রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান ও প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরাম কার্যনির্বাহী সদস্য ডাঃ মো: মনিরুল হক মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা পরিযায়ী পাখির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, এসব পাখি প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে আত্মরক্ষা, খাদ্য, প্রজনন ও বংশানুক্রমিক ধারা বজায় রাখার তাগিদে এক বা একাধিক দেশের ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের দেশে আসে। এরা কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, শামুক, ব্যাঙাচি, ক্ষতিকারক জলজ উদ্ভিদ ও ইঁদুর খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষকের ফসল রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, পরিযায়ী পাখি শিকার, ভক্ষণ বা এদের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে বার্ড ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডায়রিয়া, এভিয়ান পক্স ও টাইফয়েডের মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি বিষটোপ, ফাঁদ বা এয়ারগান দিয়ে হত্যা, শিকার, মাংস ভক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, প্রজননে বিঘ্ন ঘটানো কিংবা ডিম নষ্ট করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত বক্তা ও আয়োজকরা বন্যপ্রাণী আইন মেনে চলা, পাখি শিকার থেকে বিরত থাকা এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানান।



