ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান তাদের অবস্থান ও আচরণ পরিবর্তন না করলে সামনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া, দেশটির অর্থনীতিকে আরও দুর্বল হতে দেওয়া অথবা আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো—এ ধরনের কয়েকটি পথ তার সামনে রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, অদূর ভবিষ্যতে খুব বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তবে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভবত এমন বৈঠকের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে ইরান সরকার বা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল সাধারণ বিতর্ক পর্ব ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাত নিয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
ট্রাম্পের দাবি, হুথিরা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর শেষ হবে। তবে রোববারের বক্তব্যে তিনি যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার প্রেক্ষাপটে রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, অঞ্চলটির পরিস্থিতির অবনতি হলে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
সূত্র: আনাদোলু নিউজ



