ধূমকেতু প্রতিবেদক,ফরিদ আহমেদ আবির, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ‘ঢলন’ প্রথার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সবজি ও কৃষিপণ্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সিঙ্গাহাট ও কানপাড়া হাটে আলু, বেগুন, পটল,ফুলকপি, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রির সময় প্রতি মণে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার সিঙ্গাহাট ও কানপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাটে কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন পণ্য কেনার সময় নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত পণ্য ‘ঢলন’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রতি মণে প্রায় দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি পণ্যের বস্তার ওজনও বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিঙ্গাহাটে পটল বিক্রি করতে আসা কৃষক আক্কাস আলী বলেন, “বুধবার সকালে হাটে পটল বিক্রি করতে আসি। পটলের ওজন নেওয়ার পরও ব্যবসায়ী বস্তার ওজন হিসেবে আরও ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম বাদ দিতে চান। আমি এতে রাজি না হলে জোর করে পটল খামালে ঢেলে নেওয়া হয়। আমরা সাধারণ কৃষকরা সবজি ব্যবসায়ীদের কাছে অনেকটা জিম্মি।”
কানপাড়া হাটের পেঁয়াজ বিক্রেতা ইউনুস আলী বলেন, “জমি থেকে পেঁয়াজ তোলার পর কাঁচা বা ভেজা অবস্থায় হাটে আনলে প্রতি মণে দুই থেকে আড়াই কেজি ঢলন দেওয়া হতো। এখন পেঁয়াজ শুকিয়ে গেছে। এরপরও প্রতি মণে দুই কেজি করে ঢলন দিতে হচ্ছে। বিষয়টি হাট কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত।”
তবে হাটে সবজি ও মসলা ব্যবসায়ীদের দাবি, এটি দীর্ঘদিনের স্থানীয় হাটের প্রচলিত নিয়ম। তারা বলেন, রসুন, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের সময় কিছুটা ঘাটতি হয়। সেই ঘাটতি পোষাতেই ঢলন নেওয়া হয়। একেক হাটে একেক ধরনের নিয়ম থাকলেও তাদের হাটে প্রতি মণে দুই কেজি ঢলন নেওয়া হয় বলে জানান তারা।
রাজশাহী বারের আইনজীবী আকমল হোসেন বলেন, “ঢলন বা ঢলতা” নামে হাট-বাজারে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ফসল কাঁচা, ভেজা কিংবা পরিবহনের সময় পচে যাওয়ার অজুহাতে মণপ্রতি অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে থাকেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার আইনগত ভিত্তি ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সিঙ্গাহাটের ইজারাদার বল্টু বলেন, “প্রায় সব সবজিই ৪২ কেজিতে মণ হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে কেনেন বেপারিরা। তবে দাম দেওয়া হয় ৪০ কেজির।”
অন্যদিকে কানপাড়া হাটের ইজারাদার জীবন বলেন, “কানপাড়া বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো পণ্য কেনার আগে ঢলনের বিষয়টি জানানো হয়। তারা সম্মত হলেই ৪২ কেজিতে মণ নেওয়া হয়। তবে সব ধরনের সবজিতে এমনটি করা হয় না।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “কৃষকদের কষ্টে অর্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হোক, এটা আমরা চাই। ঢলন প্রথার নামে কৃষকরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপারী ও কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিব ফারজানা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার কাছ থেকে অবগত হলাম। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



