ধূমকেতু প্রতিবেদক,পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু প্রকোপ। এতে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে
উপজেলা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, পরিস্থিতি দিন দিন মারাত্মক রূপ নিলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশা নিধন বা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কোন সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না।
পৌরসভা এলাকার একাধিক নাগরিকগন জানান, পৌরসভার কিছুকিছু এলাকায় মশা নিধনের কার্যক্রম চোখে পড়লেও পুরো পৌরসভা এলাকায় মশা নিধন কার্যক্রম হয়নি বলে জানান।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকায় বাসিন্দারা আরও বলেন , ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ে ঔষধ ছিটানো,এডিস মশার প্রজননস্থাল ধ্বংস ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করাসহ প্রয়োজনে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করার খুব জরুরী দরকার বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
ডেঙ্গু বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাসান আলী মোল্লা বলেন, গত মাসের ২৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে তার মধ্যে ৩২ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এবং চলতি মাসে ১৫০ পরিক্ষা শেষে ১২ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে অনেকটা কম রয়েছে ডেঙ্গু রোগী। আমরা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ একটি টিম রেখেছি তাদের সর্বক্ষণিক চিকিৎসার জন্য। ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সকল চিকিৎসা বিনামূল্য করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায় থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়ে সচেতন মূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পুঠিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়ে জানান, উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে মশা নিধনের জন্য আলাদা কোন অর্থ সরবরাহ হয় না। তবে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সচেতন মূলক কর্মকাণ্ড ও প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা মনে করি তারই প্রতিফলন হিসেবে গত মাসে তুলনায় চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম হয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান উপজেলা জুড়ে চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।



