ধূমকেতু প্রতিবেদক,মান্দা : স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলবেন। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রায় ১১ বছর আগে একটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে যোগদান করেছিলেন নার্গিস খাতুন। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে একদিনের জন্যও বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে করতে এখন তিনি অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের নামে তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম নার্গিস খাতুন। তিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে এবং জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন।
তিনি জানান, জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে তিনি আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তাঁকে যোগদানের চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ২০১৫ সালের ১ আগস্ট বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে যোগ দেন।
নার্গিস খাতুন বলেন, যোগদানের পর থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত তাঁর পদ এমপিওভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়াই তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই ইনডেক্সধারী একজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ পদটি শূন্য ছিল না। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়োগের সময় তাঁকে জানানো হয়নি।
নার্গিস খাতুনের অভিযোগ, ‘বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই আজ-কাল বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। নিয়োগের সময় জমি ও গহনা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এখন জানতে পেরেছি, প্রতারণার মাধ্যমে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার চাকরির বয়সও নেই। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চাই।’
নার্গিস খাতুনের বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবনটাই নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই ইনডেক্সধারী একজন শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এ অবস্থায় কীভাবে নতুন করে একই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান মোবাইলফোনে কথা বলে অপারগতা প্রকাশ করেন। সাক্ষাতে কথা হবে জানিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সফিউল আলম বলেন, কোনো পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকা অবস্থায় ওই পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বিধিবহির্ভূত। বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#


