ধূমকেতু নিউজ ডেস্ক : এনটিভিতে আজ রাত ৯টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে ধারাবাহিক নাটক ‘চাওয়া পাওয়া’। রাকেশ বসু পরিচালিত এ নাটকে অভিনয় করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী অদিতি জামান স্নেহা। অভিনয়, নাচ, উপস্থাপনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন
চাওয়া পাওয়া নাটকটিতে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
নাটকটি প্রচারের পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এখানে বহু চরিত্রের গল্প পাশাপাশি এগিয়েছে। আমার চরিত্রটি বেশ আলাদা। ঢাকায় এসে পড়াশোনা করতে চাওয়া গ্রামের এক সহজ-সরল মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। চরিত্রটির মধ্যে সরলতা, চঞ্চলতা ও স্বপ্ন দেখার একটা বিষয় আছে। সব মিলিয়ে চরিত্রটি আমার খুব পছন্দের। দর্শকও আমার চরিত্রটি ভালোভাবে গ্রহণ করছেন বলে মনে হচ্ছে।
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করছেন। সেখানে কেমন চরিত্রে দেখা যাবে?
‘ফিরে আসার গল্প’ প্রচার শুরু হয়েছে। তবে এখনও আমাকে পর্দায় দেখা যায়নি। শিগগিরই দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন। এখানে আমি মুনা চরিত্রে অভিনয় করেছি। সে তানজিম সাইয়ারা তটিনী আপুর বন্ধু। চরিত্রটি নিয়ে আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না। বাকিটা দর্শক পর্দায় দেখলেই বুঝতে পারবেন। মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের মতো একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভালো। ধারাবাহিকটির গল্প ও শিল্পীদের সমন্বয়ও চমৎকার। আশা করছি, দর্শক আমার চরিত্রটি পছন্দ করবেন।
বেশির ভাগ সময় পারিবারিক গল্পের নাটকে দেখা যায় আপনাকে। এ ধরনের গল্পের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে?
অভিনয়ের জন্য পারিবারিক গল্পই পছন্দ। আমাদের দেশের দর্শক পরিবারকেন্দ্রিক গল্প বেশি পছন্দ করেন। এ ধরনের নাটকে জীবনের নানা দিক উঠে আসে। পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক, ভালোবাসা, অভিমান, দ্বন্দ্ব কিংবা একে অপরের পাশে থাকার গল্পের সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পান। আমিও এমন গল্পে কাজ করে অন্য রকম স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করি। প্রেমের গল্পেও অভিনয়ের সুযোগ আছে, তবে শুধু প্রেমকে কেন্দ্র করে তৈরি গল্পের চেয়ে পরিবার ও মানুষের সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরে–এমন গল্প আমাকে বেশি টানে। আমি চাই, আমার অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকের মনে জায়গা করে নিক।
শোবিজে কার কার অভিনয় ভালো লাগে?
নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান ও মেহজাবীন চৌধুরী আপুর অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে। তাদের কাজ দেখলে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। বিশেষ করে চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা এবং অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করে। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যেও অনেকেই ভালো করছেন। তানজিম সাইয়ারা তটিনী, কেয়া পায়েল, আইশা খান ও নাজনীন নাহার নীহার অভিনয় আমার পছন্দের। তাদের অভিনয় দেখতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি সহশিল্পী হিসেবেও তারা চমৎকার। আমি মনে করি, অন্য শিল্পীদের কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখলে নিজের অভিনয় সম্পর্কেও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।
সিনেমায় অভিনয়ের পরিকল্পনা আছে?
এই মুহূর্তে সিনেমা নিয়ে ভাবছি না। আপাতত ছোটপর্দায় নিয়মিত কাজ করে এখানেই থিতু হতে চাই। টেলিভিশন নাটকে কাজ করতে গিয়েও এখনও মনে হয়, আমার অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। বড়পর্দায় কাজ করার জন্য আরও বেশি প্রস্তুতি প্রয়োজন। সেখানে চরিত্রের ব্যাপ্তি, অভিনয়ের ধরন ও কাজের পরিসর–সবকিছুই ভিন্ন হতে পারে। তাই তাড়াহুড়া করে সিনেমায় কাজ করতে চাই না।
গল্প ও চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন?
সবার আগে নিজের চরিত্রটি দেখি। চরিত্রটি কতটা বৈচিত্র্যময়, গল্পে তার গুরুত্ব কতটুকু এবং অভিনয়ের সুযোগ আছে কিনা–এসব বিষয় আমাকে ভাবায়। এরপর সহশিল্পী ও পরিচালকের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখি।
শুনেছি, আবারও উপস্থাপনা শুরু করেছেন?
হ্যাঁ, দুরন্ত টিভিতে ‘ম্যাথফান্ডা’ নামে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। ছোটবেলায় এটিএন বাংলায় উপস্থাপনা করতাম। তখন থেকেই এ মাধ্যমের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। উপস্থাপনা করতে গেলে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটা অনুভূতি পাওয়া যায়, যা আমার ভালো লাগে।
অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চাই। আপাতত নাটকের কাজ ও পড়াশোনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। দুটোই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চাই।



