ধূমকেতু প্রতিবেদক,বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নে সরকারের বন্দোবস্ত দেওয়া খাসজমি দখলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলে থাকা জমি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা শুরু করতেই তাদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে জমির পটল গাছ কেটে উল্টো তাদের ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর মৌজায় বাংলাদেশ সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ১৯৮৯ সালে ভূমিহীন কয়েকটি পরিবারের মধ্যে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই জমি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। সে জমি প্রস্তাবিত খতিয়ান ভক্ত হয়েছে বর্তমানে তারা ওই জমির সরকারি খাজনা প্রদান করে আসছে প্রতি বছর। বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আলম শাহ, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল গাফফার, ইউনুস আলীসহ কয়েকজন। বন্দোবস্ত পাওয়ার পর তারা কিছুদিন জমিতে চাষাবাদ করলেও পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী নুরুল ইসলাম, বাদেশ আলী, শমসের আলী, আমজাদ হোসেন ও আজাদসহ কয়েকজন ওই জমি নিজেদের দখলে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের কারণে তারা নিজেদের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে যেতে পারেননি। একপর্যায়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত তাদের পক্ষে রায় দিলেও প্রভাবশালীদের দখলে থাকা জমি কার্যত বুঝে নিতে পারেননি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর পুনরায় জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নিলে বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিবাদমান জমির পাশেই প্রভাবশালী পক্ষের প্রায় ৪১ শতাংশ নিজস্ব জমি রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের জমির পাশাপাশি ভূমিহীনদের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত খাসজমিও দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছেন।
ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত শুক্রবার দখলকৃত ওই জমিতে থাকা পটল গাছ নিজেরাই কেটে এখন তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা হয়রানির পরিবেশ সৃষ্টি করে জমি থেকে চূড়ান্তভাবে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের নামে বৈধ বন্দোবস্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এখন আমন মৌসুমে জমিতে ধান রোপণ করতে চাই। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। জমিতে গেলে খুন-জখমের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী বলেন, “ভূমিহীনদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে পটল গাছ কেটে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহল সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল করে রেখেছে। আদালতের মামলায়ও তারা পরাজিত হয়েছে। এখন নতুন কৌশলে ভূমিহীনদের হয়রানির চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত বাদেশ আলী বলেন, “ওই এলাকায় কিছু খাসজমি রয়েছে, যেগুলো আমাদের দখলে আছে।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



