IMG-LOGO

সোমবার, ২০ই জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই সফর ১৪৪৮ হিজরি

× Education Board Education Board Result Rajshahi Education Board Rajshahi University Ruet Alexa Analytics Best UK VPN Online OCR Time Converter VPN Book What Is My Ip Whois
নিউজ স্ক্রল
দুপুরের মধ্যে দেশের ১৭ জেলায় ঝড়ের আভাসনবম রাতেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যহতমৎস্য প্রকল্পের আওতায় বাঘার ৪ চাষী পেলেন পোনা ও খাদ্য সহায়তাস্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: মোশারফ হোসেনআর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনবাঘায় পদ্মার ক্যানেলে মহিষকে গোসল করাতে গিয়ে যুবকের মৃত্যুবাঘায় বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ: সাবেক মেয়র মুক্তার আলীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে, এবার যা বললেন চিত্রনায়িকা পরীমনিস্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করায় নওগাঁয় যমুনা টিভির সাংবাদিককে প্রকাশ্য মামলার হুমকিতানোরে রাস্তা উদ্বোধন ও উপকরণ বিতরণ‘গণমাধ্যমের তোষামোদী দেখতে না চাইলেও দেখতে হচ্ছে’চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ইয়াবা ও বিপুল পরিমাণ চোলাই মদসহ আটক ৩তানোরে খাদ্য গুদামে তিন সিন্ডিকেটে ধান সংগ্রহ ও বরাদ্দের ধান বিক্রিদুর্গাপুরে নারীকে কুপিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তিগোদাগাড়ী পৌরসভার সড়ক নির্মাণে ‘চরম অনিয়ম’স্থানীয়দের বাধা, সত্যতা স্বীকার প্রকৌশলীর
Home >> নগর-গ্রাম >> বিশেষ নিউজ >> বদলগাছীতে ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

বদলগাছীতে ফসলি জমির মাটি বিক্রির মহোৎসব

ধূমকেতু প্রতিবেদক, বদলগছী : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কসবা গ্রামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির চলছে মহোৎসব। জমির মালিকেরা তাঁদের জমি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীরা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটার মালিক ও রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছেন। জমি থেকে গভীর করে মাটি তোলায় আশপাশের ফসলি জমিগুলোতে ধস দেখা দিয়েছে। এভাবে মাটি কাটা অব্যহত থাকলে কসবা গ্রামের ফসলি মাঠটি খাল-বিলে পরিণিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের অভিযোগ, ৬-৭ বছর ধরে কসবা গ্রামের ফসলি মাঠের জমির মাটি কাটার চলছে মহোৎসব । এখন মাঠের অনেক জমির শ্রেণি পরির্বতন হয়ে গেছে। ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

সরেজমিনে কসবা গ্রামে ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি মাঠটিতে মাটি কাটার চলছে মহোৎসব। গ্রামের ফসলি মাঠটির ৬/৭টি স্থানে বিশাল অংশজুড়ে দুই/তিন ফসলি জমির মাটি গভীর করে মাটি কাটার কাজ চলছে। প্রতিটি স্থানেই এক সঙ্গে ৫-৬ টি ট্র্যাক্টর এসে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। অবাধে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় সাগরপুর থেকে কসবা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাঁকা সড়কটি প্রায় নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে।

সাগরপুর গ্রাম থেকে ৫ থেকে ৬শ গজ দূরে কসবা ফসলি মাঠে নেমে দেখা গেল, সেখানে ৪-৫ বিঘা জমিজুড়ে গভীর করে মাটি কেটে ট্র্যাক্টরে তোলা হচ্ছে। সেখানে একটি লোক টালি খাতা নিয়ে বসে আছে।

সেই খাতাই ফসলি জমির মাটি বিক্রির হিসেব লিপিবদ্ধ আছে। প্রতি ট্র্যাক্টর মাটি ২৫০ টাকা করে বিক্রি দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

ওই জমি থেকে গভীর করে মাটি কাটায় সেটি এখন খালে পরিণিত হয়েছে। ইটভাটা ও রাস্তার কাজে সেখান থেকে ফের মাটি কাটায় আশপাশের উচুঁ জমিগুলো ধসের হুমকিতে রয়েছে।

সেখানে থাকা একটি ট্র্যাক্টর চালক বলেন, আমার বাড়ি কসবাতেই। জমির মালিক তাঁর জমিটি এক ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন। ইজারাদারেরা প্রতি ট্র্যাক্টর মাটি ২৫০ টাকা দাম নিচ্ছে। রাস্তার ঠিকাদার ও ইটভাটার মালিক প্রতি ট্র্যাক্টর মাটি সাড়ে ৬শ টাকায় কিনছেন। প্রতিদিন গড়ে একটি ট্র্যাক্টর ১০ থেকে ১৫ টি ট্রিপ দিচ্ছে।

ওই স্থানটির প্রায় ৫০ গজ দূরত্বে একইভাবে মাটি কাটার কাজ হচ্ছিল। সেখানে ৪-৫ টি ট্র্যাক্টর এসে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এই স্থান থেকে ৭০ গজ দূরুত্বে গিয়ে দেখোযায় আরেক দৃশ্য সেখানে ৫/৬ বিঘা জমি জুড়ে চলছে একই ভাবে মাটি কাটা এবং এই মাটি কাটতে গিয়ে বরেন্দ্রর ডিপটিওবয়েলের আন্ডারগাউনের প্রায় ১২০ থেকে ১৬০ ফিট পাইপ ফেটে তুলে ফেলে রেখেছে ইজারদাররা।

কসবাগ্রামের পচাঁর মোড়ে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশের মাটি আলগা করায় সেটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মাটি কেটে নেওয়ার কারণে সেই স্থানটি খালে পরিণিত হয়েছে। উঁচুতে থাকা বসত বাড়িগুলো মাটি ধসের হুমকিতে রয়েছে। খুঁটির পূর্বদিকে ২০ গজ দূরুত্বে মাসুদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর বিশাল অংশের কলা বাগানটি এক ব্যক্তির কাছে মাটি কাটার জন্য ইজারা দিয়েছেন। সেই ব্যক্তি প্রায় ৫ থেকে ৬ফিট গভীর করে মাটি কেটে হাসু ও বাবুর ইট ভাটায় বিক্রয় করছে।

কসবা, সাগরপুর ও পচাঁরমোড়ের গ্রামবাসীরা জানান, বিগত ৬/৭ বছর আগে থেকে কসবা ফসলি মাঠ থেকে মাটি বিক্রির শুরু হয়। ৫-৬ জন জমির মালিক তাঁদের জমির বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীরা দুই/তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটার মালিক ও রাস্তার ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছেন। আর প্রতিদিন গড়ে ২-৩ শ ট্র্যাক্টর বালু ও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এই মাঠ থেকে। গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে উচুঁ ফসলি জমি ধসে পড়ছে। এখন পুরো মাঠজুড়ে ৬-৭ টি স্থানে মাটি কাটার কাজ চলছে। অবাধে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় গ্রামের সড়কটি নষ্ট হয়েছে।

ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি বন্ধ করতে তাঁরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু একাধিক জনপ্রতিনিধি ইটভাটা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁরা কোন ব্যবস্থা নেননি। ইটভাটার মালিকদের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে। ফলে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বিষয়টি নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ঐ এলাকার বাসিন্দা সবুজ , সোহেল, জাহিদ , মুনজুর ও আরমান সহ বেশ কিছু ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি বন্ধের জন্য ভূমি অফিস, ইউএনও অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদ সবখানে গেছি। কিন্তু কেউ মাটি কাটা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়নি। আমরা গরীব মানুষ আমাদের জমিজমা ধসে গেল কারও কিছুই যায় – আসে না।

কসবাগ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত ২০১৫ সালে র‌্যাব সদস্যরা এসে কসবা পচাঁর মোড়ে ট্র্যাক্টরসহ মাটি উত্তোলনকারীকে ধরেছিল। তারপরও এখানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ হয়নি।

একই গ্রামের হরিপদ বলেন, ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি দেওয়ায় মাঠের অন্য জমিগুলো ধসের সৃষ্টি হয়েছে। অবাধে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় গ্রামের সড়কটি নষ্ট হয় গেছে। সড়কটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করা যাচ্ছে না। ইউএনও, স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যানকে তাঁরা ঘটনাটি জানিয়েছেন।

ছালাম নামের এক বালু ও মাটি ব্যবসায়ী বলেন, জমিতে ফসল হয় না। তাই জমির মালিক আমাদের কাছে জমির মাটি বিক্রি করছেন। এতে ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভূমি অফিস সুত্রে জানাযায়, কোন জমির মালিক নিজ ইচ্ছে মতো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারবেনা। কেউ নিজ ইচ্ছে মতো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলী বলেন, ফসলি মাঠে জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি দেওয়ায় অন্য জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জমির শ্রেণিও পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বিষয়টি আমার উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বদলগাছী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনুর আর রশিদ বলেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সাগরপুর গ্রাম থেকে কসবা গ্রাম পর্যন্ত আটশ মিটার সড়ক পাঁকাকরণ করেছে। মাঠের মাটি উত্তোলন কাজে অবাধে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় ও সড়কটি কেটে ট্র্যাক্টর নামাউঠা করায় সড়কটির বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি এর আগেও আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। তবে ডিবটিওবয়েলের আন্ডারগাউন্ড এর পাইপ ফেটে ফেলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এবিষয়ে বদলগাছী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন জিহাদীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি গত রাতেই শুনেছি আজ খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহির বলেন, কসবা গ্রামে ফসলি জমির বালু ও মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলে আমি প্রথম শুনলাম। আইন অমান্যকরে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধূমকেতু নিউজের ইউটিউব চ্যানেল এ সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, স্বভাবতই আপনি নানা ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। যেকোনো ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়। নিউজ পাঠানোর ই-মেইল : [email protected]. অথবা ইনবক্স করুন আমাদের @dhumkatunews20 ফেসবুক পেজে । ঘটনার স্থান, দিন, সময় উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। আপনার নাম, ফোন নম্বর অবশ্যই আমাদের শেয়ার করুন। আপনার পাঠানো খবর বিবেচিত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ করা হবে ধূমকেতু নিউজ ডটকম অনলাইন পোর্টালে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ নিয়ে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আমাদের ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করা হলো Dhumkatu news

সকল সংবাদ

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930